সহকারী শিক্ষক
২০ অক্টোবর, ২০২৪ ০৫:০৫ পূর্বাহ্ণ
মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনে হাতের লেখার গুরুত্ব
যে কোন ভাষা দক্ষতা অর্জনের জন্য, প্রধান চারটি দক্ষতা অর্জন করতে হয়, যেমন শোনা,বলা,পড়া,লেখা।
তন্মধ্যে লেখা একটি।
কথায় বলে " আগে দর্শনধারী,পরে গুণবিচারি।"
তাই মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনে হাতের লেখার গুরুত্ব অপরিসীম।
হাতের লেখা সুন্দর বা মার্জিত হলে সকল বিষয়ে ৫-৭ নম্বর বেশি নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আমাদের ঘাটতি বা দূর্বল স্থানগুলোতে সবল করার জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা চালিয়ে থাকি। আমার প্রশ্ন এখানেই, আমরা অন্যান্য স্বাভাবিক কাজকর্ম বা দায়িত্ব পালনে যতটা যত্নবান, কিন্তু, হাতের লেখা ভাল করার জন্য কে কতটুকু সময় ব্যয় করেছি এটিই বিবেচ্য বিষয়।
অসুন্দর বা অমার্জিত হাতের লেখার জন্য আমাদের অনেক সময় লজ্জা পেতে হয়। এই দূর্নাম হতে উদ্ধার হওয়ার জন্য কতগুলো নিয়ম অনুসরণ করলে খুব সহজেই হাতের লেখা প্রত্যাশীত মানে উন্নীত করা সম্ভব।
প্রথমেই বর্ণসমূহ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিতে হবে, অতঃপর পদ্ধতিগত ভাবে আগাতে হবে।
যেমন, একটি বর্ণ কোথা হতে শুরু হবে এবং কোথায় গিয়ে থামতে হবে, অর্থাৎ সঠিক প্রবাহ জানতে হবে, এবং মানতে হবে।
উল্লেখ্য যে, প্রথম শ্রেণির আমার বাংলা বইতে খুব সুন্দর করে তীর চিহ্ন দিয়ে দেখানো আছে প্রবাহসমুহ।
এরপরে ডটসমুহ যুক্ত করে দিলেই হাতের লেখা প্রত্যাশিত মানের হবে। তারপর সেইসব বর্ণসমুহ বারংবার অনুশীলন করাতে হবে।
শিশুরা কাদামাটির মত, তাদেরকে যেভাবে যা শেখানো হবে, তা আজীবনই ধারণ ও লালন-পালন করবে।
তাই শিক্ষাজীবনের শুরুতেই সপ্ত 'স'এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
দ্বিতীয় কৌশলটি হচ্ছে, সঠিক আকৃতি।
সচরাচর দেখা যায় খ, ঘ এর মত এমন বর্ণসমুহ শিক্ষার্থীরা বেশিরভাগ সঠিক আকৃতিতে লিখতে পারে না,
তাই সঠিক নির্দেশনার মাধ্যমে বর্ণসমুহ সঠিক আকৃতিতে লেখার অনুশীলন করাতে হবে।
"কাঁচাতে না নোয়ালে বাঁশ, পাঁকলে করে ঠাস ঠাস। "
যা কিছু সু-অভ্যাস তা শিশুকালেই রপ্ত করাতে হবে।
পূর্ণমাত্রা,অর্ধমাত্রা, মাত্রাহীন বর্ণসমুহ চিহ্নিত করে মাত্রার সঠিক ধারণা দেয়ার মাধ্যমে হাতের লেখা হবে নির্ভুল ও সুন্দর, যা মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে বলে আমার বিশ্বাস।
একটি শব্দের মাঝে সাধারণত এক বা একাধিক বর্ণ থাকে, তাই একটি বর্ণ হতে আরেকটি বর্ণের দূরত্ব সমান অন্তর বা ব্যবধান সমান করে লিখলে হাতের লেখা সুন্দর ও মানসম্মত হবে।
বর্ণ বা অক্ষরগুলোর মধ্যে পাশাপাশি, উপর-নিচ এর অবস্থান, অর্থাৎ একটি লাইন হতে আরেকটি লাইনের ব্যবধান সমান হবে।উদাহরণস্বরূপ রেললাইন সমান্তরাল,
লাইনটানা খাতাগুলোও রয়েছে সমান্তরালভাবে, আর এভাবে পদ্ধতিগতভাবে সমান্তরাল লেখার মাধ্যমে লেখার সৌন্দর্য ও নান্দনিকতা বৃদ্ধি পাবে।
পদ মানে পা, অর্থাৎ বর্ণ বা শব্দলেখার সময় প্রতিটি বর্ণের বা শব্দের নিচের অংশসমুহ সমান রেখে লেখার অভ্যাস করতে হবে, যার ফলে লেখা সুন্দর ও মার্জিত হবে।বর্ণ বা শব্দগুলো সমপদ হতে হবে।
শির বলতে মাথাকে বুঝানো হয়। সমপদের ঠিক বিপরীত হচ্ছে সমশির।বর্ণ বা শব্দের মাথাগুলো সমান করে লিখতে হবে, এভাবে নিয়মিত লেখার অভ্যাস করলে হাতের লেখা অপরূপ দৃষ্টিনন্দনে ফুটে উঠবে, অর্থাৎ লেখাগুলো হবে সমশির। যা মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নে সহায়ক।
সুন্দর হাতের লেখা একটি সম্পদের মত।
এই সম্পদকে অর্জন করতে হলে, পদ্ধতিগত ভাবে নিয়ম অনুযায়ী হাতের লেখা লিখতে হবে এবং সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
এছাড়াও মার্জিনের মধ্যে লিখতে হবে, এলোমেলো বর্ণসমুহ সাজিয়ে লেখার কাজ দেয়া যেতে পারে। খাতার মধ্যে লাইনটেনে নির্দেশিত লেখা দেয়া যেতে পারে। বর্ণের ওপরে পেন্সিল দিয়ে বার বার লেখার অনুশীলন করতে পারে।
মূলতঃ শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। তাই শিক্ষার্থীদের সপ্ত ' স' অনুসরণ করে লেখানোর অভ্যাস করানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।
৭
৭ মন্তব্য