সহকারী শিক্ষক
২২ অক্টোবর, ২০২৪ ০৪:৫১ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, England invented football and Brazil perfect it. এই কথাটিই বোঝার জন্য যথেষ্ট। ব্রাজিল যুগে যুগে ফুটবলকে উপহার দিয়েছে অসংখ্য কিংবদন্তি ফুটবলার। যারা ফুটবলটাকে শিল্প হিসেবে রূপদান করেছে। ফুটবলের নান্দনিকতা, সৌন্দর্য বর্ধনে ব্রাজিল যোগ করেছে নতুন মাত্রা। পেলে, গ্যারিঞ্জা, জর্জিনহো, বেবেতো, ভাবা, দিদি, লিওনিডাস, কাফু, দুঙ্গা, জিকো, সক্রেটিস, কাকা, রবার্তো কার্লোস, রোনালদো, রিভালদো, রোমারিও, নেইমার, রোনালদিনহোর মতো কালজয়ী ফুটবলারদের আবির্ভাব ঘটেছে ব্রাজিল থেকে।
অধিকাংশ ব্যক্তি মনে করেন যে, ব্রাজিল জাতীয় দলটি তাদের প্রথম খেলাটি ১৯১৪ সালে খেলেছে। ব্রাজিলের রিউ দি জানেইরু ও সাও পাওলো দলের মধ্য হতে নির্বাচিত একটি দল ইংল্যান্ডের এক্সিটার সিটি ফুটবল ক্লাবের সাথে একটি খেলায় অংশ নেয়। ফ্লামিনিনেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত উক্ত খেলায় ব্রাজিল ২–০ গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল। ব্রাজিলের পক্ষে দুটো গোল করে ওসওয়াল্ড গোমেজ এবং ওসমান। অনেকে দাবি করেন যে, উক্ত খেলাটি ৩–৩ গোলে ড্র হয়েছিল। ভবিষ্যতের গৌরবোজ্জল সাফল্যের তুলনায় শুরুর দিকে দলটির উপস্থিতি ছিল খুবই নগণ্য। ব্রাজিলীয় ফুটবলে পেশাদারিত্বের অভাবের কারণে উক্ত সময়ে একটি শক্তিসম্পন্ন দল গঠন করতে ব্রাজিলীয় ফুটবল ফেডারেশন ব্যর্থ হয়েছিল।
একমাত্র দেশ হিসেবে ব্রাজিল বিশ্বকাপের সব আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। যে কৃতিত্ব নেই অন্য কোনো দেশের, এটাই প্রমাণ করে ব্রাজিল ছাড়া বিশ্বকাপ অসম্ভব। আর বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল। সর্বোচ্চ পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল এবং বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ দলীয় জয় ও ব্রাজিলের। অনেকে বলেন, আমরা কাপ দেখে দল করি না বরং খেলা দেখে দলের সমর্থন করি। তাদের জানা উচিৎ ভালো খেলা ব্যতীত কখনো বিশ্বকাপের মতো মর্যাদার শিরোপা অর্জন করা সম্ভব নয়। তাছাড়া ভালো খেলে বলেই সর্বোচ্চ ১৫৯ বার ফিফা র্যাংকিং শীর্ষে উঠেছে ব্রাজিল। যার আশেপাশেও নেই অন্য কোনো দল। তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়, ভালো খেলা ছাড়া কি শীর্ষে পদার্পণ করা যায়?
ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল (পর্তুগিজ: Seleção Brasileira de Futebol) হচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্বকারী পুরুষদের জাতীয় দল, যার সকল কার্যক্রম ব্রাজিলের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্রাজিলীয় ফুটবল কনফেডারেশন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এই দলটি ১৯২৩ সাল হতে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার এবং ১৯১৬ সাল হতে তাদের আঞ্চলিক সংস্থা কনমেবলের সদস্য হিসেবে রয়েছে। ১৯১৪ সালের ২০শে সেপ্টেম্বর তারিখে, ব্রাজিল প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক খেলায় অংশগ্রহণ করেছে; আর্জেন্টিনার বুয়েনোস আইরেসে অনুষ্ঠিত উক্ত ম্যাচে ব্রাজিল আর্জেন্টিনার কাছে ৩–০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল। সেলেসাও নামে পরিচিত এই দলটি বেশ কয়েকটি স্টেডিয়ামে তাদের হোম ম্যাচগুলো আয়োজন করে থাকে। এই দলের প্রধান কার্যালয় ব্রাজিলের রিউ দি জানেইরুর আটলান্টিক মহাসাগর তীরবর্তী বরা দা তিজুকা এলাকায় অবস্থিত। বর্তমানে এই দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন তিতে এবং অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যমাঠের খেলোয়াড় কাজিমিরো।
ব্রাজিল ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল, যারা এপর্যন্ত ৫ বার (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ এবং ২০০২) বিশ্বকাপ জয়লাভ করেছে। ব্রাজিল ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র দল হিসেবে সবগুলো আসরে অংশগ্রহণ করেছে। এছাড়া কোপা আমেরিকায়ও ব্রাজিল অন্যতম সফল দল, যেখানে তারা ৯টি (১৯১৯, ১৯২২, ১৯৪৯, ১৯৮৯, ১৯৯৭, ১৯৯৯, ২০০৪, ২০০৭ এবং ২০১৯) শিরোপা জয়লাভ করেছে। এছাড়াও, ব্রাজিল ৪ বার ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ (১৯৯৭, ২০০৫, ২০০৯ এবং ২০১৩) জয়লাভ করেছে; যা উক্ত প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ।
সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ১৯৫৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিল দল পূর্ণাঙ্গভাবে আত্মপ্রকাশ করে। পূর্ববর্তী আসরে মারাকানায় পরাজিত হওয়ার বেদনা ভুলে নিলতন সান্তোস, দালমা সান্তোস, দিদির ন্যায় একগুচ্ছ প্রতিভাবান ফুটবলারদের নিয়ে উক্ত আসরে অংশগ্রহণ করে ব্রাজিল। কিন্তু, দলটি খুব বেশি দূর অগ্রসর হতে পারেনি। কোয়ার্টার-ফাইনালে শক্তিশালী হাঙ্গেরির কাছে ৪–২ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে তারা উক্ত আসর হতে বিদায় নেয়। এই খেলাটি ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে কদর্যপূর্ণ খেলারূপে বিবেচিত হয় ও অমর্যাদাকরভাবে বার্নের যুদ্ধ নামে পরিচিতি লাভ করে।
৫৩
৯২ মন্তব্য