সফল হওয়ার পথ সহজ নয়। সাফল্য অর্জনের জন্য পাড়ি দিতে হয় নানা বাধা-বিপত্তি, পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে হয় জীবনের নানান ঘাত-প্রতিঘাতকে। জীবন চলার পথকে সাফল্যমণ্ডিত করতে তাই এমন কিছু উপলব্ধির প্রয়োজন হয়, যা আপনার গভীর জীবনবোধকে জাগ্রত করে তুলতে পারে। কথাসাহিত্যিক, কবি ও সাংবাদিক আনিসুল হক তার লেখা 'সফল যদি হতে চাও' বইয়ে সংকলন করেছেন এমনই কিছু গল্প, যা জীবন সম্পর্কে আপনার উপলব্ধিকে আরও পরিপূর্ণ করে তুলতে পারে, হয়ে উঠতে পারে চলার পথের পাথেয়। বইটি থেকে ৪টি গল্প eআরকির পাঠকদের জন্য দেয়া
হলো।]
ভুল থেকে শেখা
টমাস আলভা এডিসন গবেষণা করছেন, তিনি বৈদ্যুতিক বাতি উদ্ভাবন করার চেষ্টায় রত। বালবের ভেতরের তারটা কিসের হবে, তিনি সেটা নিয়ে মত্ত। একটার পর একটা ধাতু, যৌগ, সংকর দিয়ে তিনি ফিলামেন্ট বানাতে লাগলেন। দুই হাজার রকমের তার বানানো হলো। একটাও কাজে লাগল না। তাঁর সহকারী বলল, আমাদের এত দিনের চেষ্টা পুরোটাই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়ে গেল। আমরা কিছুই শিখতে পারলাম না। এডিসন বললেন, আমরা অনেক কিছু শিখেছি। শিখেছি যে দুই হাজার রকমের তার দিয়ে ভালো বৈদ্যুতিক বাতি হয় না।
জীবন কী?
একজন শিক্ষক তাঁর ক্লাসরুমে পড়াচ্ছেন। তিনি একটা খালি বয়াম টেবিলের ওপরে রাখলেন। তারপর তার ভেতরে ঢোকালেন কতগুলো বড় পাথরের টুকরা। বয়ামটা ভরে গেল। তিনি বললেন, ‘ছাত্ররা, দেখো তো, আর কোনো পাথরখণ্ড ঢুকবে কি না?’ ‘না, স্যার।’ ‘তাহলে বয়ামটা ভরে গেছে, কী বলো?’ ‘জি, স্যার।’ এবার শিক্ষক কতগুলো ছোট নুড়ি বয়ামটাতে ঢালতে লাগলেন। নুড়িগুলো পাথরের ফাঁকে ফাঁকে ঢুকে গেল। তিনি বললেন, ‘এবার ভরেছে। কী বলো?’ ‘জি, স্যার।’ তিনি এবার বালু ঢালতে লাগলেন। পাথর আর নুড়ির ফাঁকে ফাঁকে বালু ঢুকতে লাগল এবং বয়ামটাকে পূর্ণ করে তুলল। শিক্ষক বললেন, ‘আচ্ছা, এবার আমরা পুরো ব্যাপারটাকে উল্টো করে করি। প্রথমেই আমরা যদি বালু দিয়ে বয়ামটা পূর্ণ করে ফেলি, তাহলে কী হবে?’ তিনি বালু দিয়ে পাত্রটা পূর্ণ করলেন। তারপর আর নুড়ি কিংবা পাথর ঢোকানোর জায়গা রইল না। তিনি বললেন, ‘এ থেকে আমরা খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিস শিখব। এই যে পাত্রটা দেখছ, এটা হলো আমাদের জীবন। এই যে বড় বড় পাথরখণ্ড, এগুলো হলো আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। আমাদের পরিবার, বাবা-মা, ভাইবোন, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান, আমাদের স্বাস্থ্য, আমাদের শিক্ষা। আর নুড়িগুলো হলো আমাদের বিষয়সম্পত্তি, আমাদের গাড়ি-বাড়ি, আমাদের টেলিভিশন, আমাদের টেলিফোন, আমাদের বাগান। আর বালু হলো বাকি সবকিছু, আমাদের জীবনে আর যা যা করতে হয়। প্রথমেই যদি আমরা ছোট ছোট জিনিস দিয়ে জীবনটাকে ভরে ফেলি, তাহলে বড় কাজগুলো করা হবে না। কাজেই সব সময় পরিবারকে সময় দেবে, বাবা-মায়ের যত্ন নেবে, নিজের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখবে, লেখাপড়া করবে। তারপর গাড়ি-বাড়ি, কম্পিউটার-টেলিফোন এসবের দিকে নজর দেবে।
৪
৫ মন্তব্য