সহকারী শিক্ষক
২৪ অক্টোবর, ২০২৪ ০৬:৫৬ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
রাজধানী ঢাকা থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে খেলার মাঠ। এক সময় যেসব মাঠে ছিল ফুটবল নিয়ে শিশু-কিশোরদের
অনুশীলন,
যেসব পার্কে ঘোরাফেরা করে মুক্তবায়ু সেবনের সুযোগ পেত ।
শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের প্রয়োজন সুস্থ, সুন্দর ও আনন্দময় জীবন। আর এ জন্য খেলাধুলার কোনোই বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অন্যতম মাধ্যম খেলাধুলা। এজন্য প্রয়োজন খেলার মাঠ। খেলাধুলা চর্চার প্রতি শিশু-কিশোরদের সব সময়ই আগ্রহ থাকে। তারা খেলাধুলা করতে চায়। ভালো পরিবেশে খেলাধুলা করতে পারলে তাদের পড়ালেখার প্রতিও মনোযোগী করে তোলা যায়। একটা সময় ছিল যখন মাঠ বা স্কুল-কলেজের খেলার চত্বর মুখর থাকত। এখন তেমনটি খুব একটা চোখে পড়ে না। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে পুরোনো কিছু স্কুল-কলেজ ছাড়া নতুন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলার মাঠ নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
মাঠের অভাবে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার চর্চা নেই, নেই সাংস্কৃতিক পরিবেশ। স্কুলের কার্যক্রম শুধু পাঠদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে যেসব চর্চার প্রয়োজন তা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশে শহরাঞ্চলে বেসরকারি পর্যায়ে এমন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে যেগুলোর কোনো খেলার মাঠ নেই। আবার সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের মাঠ প্রায় বছরজুড়েই নানা ধরনের কাজে ব্যবহার করা হয়। কোথাও মেলা হয়, কোথাও আবার প্রতি সপ্তাহে পশুর হাটও বসে। স্বার্থান্বেষী মহলের দখলের কারণে শিশু-কিশোর ও এলাকাবাসী খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নগর-গ্রাম সব জায়গায়ই খেলাধুলার সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনায় খেলার মাঠকে বিনোদন ক্ষেত্রের পাশাপাশি স্বাস্থ্য অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি। এলাকাভিত্তিক খেলার মাঠ তৈরির ব্যাপারে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ও ভাবনাচিন্তা খুবই স্বল্প। এই বাস্তবতায় খেলাধুলার সুযোগকে সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার মৌলিক অধিকার বিবেচনা করে সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, কার্যকর বাস্তবায়ন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ প্রয়োজন।
১৪
২২ মন্তব্য