Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ অক্টোবর, ২০২৪ ০৮:৫৩ অপরাহ্ণ

কিশোর ক্লাসিক রিভিউ - নভোচারী টম সয়্যার -মার্ক টোয়েন

অভিযান প্রিয় টম সয়্যার সুযোগের অপেক্ষায় থাকে কখন সে যেতে পারবে নতুন কোন অভিযানে।তেমনি এক অভিযানে গিয়ে সে খুঁজে পায় নিগ্রো জিমকে আর সাথে করে নিয়ে আসে পলি খালার জন্য যাতে তাকে একটু সাহায্য করতে পারে। তারপর থেকে গ্রামের লোকেরা তাকে ভালোবেসে উপাধি দেন"অভিযাত্রী টম সয়্যার"।

টমের ই গ্রামের পোস্ট মাস্টার ন্যাট পারসনস টমের এই উপাধিতে বেশ মনঃক্ষুণ্ণ কারন ত্রিশ বছর ধরে উনার নামের সাথে থাকা অভিযাত্রী উপাধির কাছে টমের মতো পনেরো বছরের একটা ছেলের উপাধি মেনে নিতে পারছিলেন না কারন তারমতে টম আর এমন কি করছে ।

ন্যাট আর টমের মধ্যে চলতো একটা ঠান্ডা মাথার প্রতিযোগিতা একজন থেকে আরেকজন এগিয়ে থাকার।তাই ন্যাটের থেকে এক ধাপ এগিয়ে থাকতে ভ্রমণের নানা রকম কারন খুঁজতে থাকে টম কিন্তু কোনোটাই তার মনমতো হচ্ছিলো না, কিছু না কিছু সমস্যা ছিলোই সবকিছুতে।

একদিন তারা পত্রিকায় একজন বিজ্ঞানীর আবিষ্কার সম্পর্কে জানতে পেরে বিমান দেখতে যেতে চায় ফিন আর জিম যদিও প্রথমে টমের বিমান দেখার ইচ্ছা ছিল না কিন্তু ন্যাট পারসনস যাচ্ছে শুনে সেও চলে গেলো দেখতে। নাহলে পোস্ট মাস্টার একাই বিমান দেখে এসে নিজের গল্প করতে শুরু করবেআর টম এটা কিছুতেই হতে দিতে পারে না।

বিজ্ঞানীর আকাশতরী দেখতে গিয়ে দেখে অনেক লোক ভীড় করে আছে আর লোকগুলো হাসি-মস্করা করে ক্ষেপিয়ে তুলছে বিজ্ঞানীকে।বেলুনের সাথে নৌকা জুড়ে দিয়ে অদ্ভুত ভাবে তৈরি করা হয়েছে বিমানটি।বিমানে উঠে দেখার পালা শেষ হলে বিমান থেকে আগে নেমে যায় ন্যাট পারসনস।টম নামবে ন্যাটের পরে নয়তো গ্রামে গিয়ে বিমানে টমের থেকে বেশি সময় থেকেছে বলে ডোল পেটাতে শুরু করবে।

ন্যাট চলে যেতেই ওরা যখন বিমান দেখে মাটিতে নামবে, তার আগেই দেখতে পায় বিমানটি শহর থেকে উপরে চলে যাচ্ছে মানে আকাশে উড়িয়ে দিয়েছে পাগল বিজ্ঞানী।আটকা পরে টম,ফিন আর জিম প্রথমে একটু খুশি হলেও বিজ্ঞানীর কথা হতাশ হয়ে পরে।

মানুষেরা বিজ্ঞানীর আবিষ্কারের মূল্য তো দিলোই না বরং তাকে নিয়ে হাসি-তামাশা করেছে তাই প্রথমে সারা বিশ্ব ভ্রমন করবে আর ভ্রমণ শেষ হলে বিমানটিকে সমুদ্রে ডুবিয়ে দিবেন বিমানে থাকা মানুষগুলো সহ।পাগল বিজ্ঞানীর এমন ভয়ানক কথাবার্তা শুনে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে বিজ্ঞানী ওদের গুলি করে মারার হুমকি দেয়।

বিজ্ঞানী টমকে বিমান চালানোর কায়দা শিখিয়ে দেয়।আর লন্ডনে পৌঁছানোর আগেই বিজ্ঞানী খেয়াল করে ওরা পালানোর চেষ্টা করে এতে রেগে যায় বিজ্ঞানী।টম আর বিজ্ঞানীর মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে পরে যায় দুজনেই কিন্তু ভাগ্যক্রমে টম বেঁচে যায় বিমানের সাথে যুক্ত ঝুলন্ত দড়িটা ধরতে পারায়।বিজ্ঞানীর মৃত্যুতে খুব কষ্ট পায় সবাই কিন্তু কিছু ই করার ছিলো না ওদের।

টম এবার জিম আর ফিনকে শিখিয়ে নিয়ে বিমান পরিচালনা করতে থাকে।একের পর এক তারা পাড়ি দেয় লন্ডন শহর,আটলান্টিক মহাসাগর,সাহারা মরুভূমি,মিশর। সাহারা মরুভূমিতে তারা দেখে ডাকাতদলের সাথে এক কাফেলার রক্তারক্তি যুদ্ধ আর বারবার স্বীকার হয় মরীচিকার। দুইবার সিংহের হাত থেকে বেচেঁ যায় বুদ্ধির জোরে।

আকাশযানে বসে বসে টম ফিন আর জিমকে আরব্য রজনীর কয়েকটা গল্প শোনায় আর তারপরে তারা মিশরে পৌঁছায়। মিশরের নীলনদ,পিরামিড ভ্রমণ করে আর মনে মনে মেলায় বইয়ের ছবিগুলোর সাথে।

শেষে তারা চিন্তা করে সবাই মিলে বিশ্বভ্রমণ করবে যেহেতু দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার তাই পলি খালা যাতে ওদের জন্য দুঃশ্চিন্তা না করেন তাই একটা চিঠি লেখে টম। চিঠিটা বাড়ি পৌঁছে দিতে আর সেই সাথে বিশ্বভ্রমণের যাবতীয় সরঞ্জাম বাড়ি থেকে সংগ্রহ করতে নিজের গ্রামে ফিরে আসে ওরা।

জিম প্রথমে যায় চিঠি নিয়ে কিন্তু ওর অনেক দেরি দেখে বাধ্য হয়ে টমকেও যেতে হয় অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে কিন্তু বাড়িতে গিয়ে জিম আর টম আটকা পড়ে যায় টমের পলি খালার কাছে।

এদিকে টম পৌঁছে ফিনকে জিজ্ঞেস করে বিমান কোথায় তখন ফিন দেখায় আকাশে কারন নামার সময় কিছু একটা গোলমাল করে আসে ফিন ভুলে আর তাতেই বিমান থেকে সবাই নামার পর একাই চলতে থাকে বিমানটি।

এতদিন তারা সত্যিই আকাশভ্রমণ করেছে এই কথাটা গ্রামের কাউকে বিশ্বাস করাতে পারে না কারন আসল প্রমানটাই তো হাতে নেই। সবাই ভাবে ছোট তিনজন ছেলেমানুষ কোথাও থেকে ঘুরে এসে এমন মিথ্যে গল্প বলছে সবার কাছে কিন্তু একজন কিছু বলে না,চুপচাপ থাকে।

তিনি হচ্ছেন ন্যাট পারসনস কারণ একমাত্র তিনিই নিজের চোখে দেখেছিলেন টম,ফিন আর জিমকে বিজ্ঞানীর বিমানে আটকা পরে আকাশের দিকে যেতে তবে নিজের ৩০ বছরের সুনাম নষ্ট হয়ে যাবে তাই তিনি কোন শব্দ ই করলেন না।

অবশেষে সমাপ্তি ঘটলো নভোচারী টম সয়্যারের ভ্রমণকাহিনীর।

 

মন্তব্য করুন