প্রভাষক
২৪ অক্টোবর, ২০২৪ ০৯:০১ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
রালফ রোভার সমুদ্রে যার জন্ম সাথে তার পরিবারের সবাই সমুদ্রকে ভালোবাসতো। রালফ রোভারও তার ব্যতিক্রম নয়।খুব ছোট বয়সে জাহাজে কাজ নেয় আর সেখানে নাবিকদের কাছে গল্প শুনে শুনে তার মনে জাগে প্রবাল দ্বীপ দেখার স্বপ্ন।
প্রবাল দ্বীপ দেখার উদ্দেশ্য নিয়ে ঘর ছাড়ে রোভার মাত্র পনেরো বছর বয়সে।অ্যারো নামের জাহাজে করে শুরু হয় তার সমুদ্র জীবন। সেখানে রোভার দুজন বন্ধু পায় জ্যাক মার্টিন ও পিটানকিন গে। জাহাজ প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছে দ্বীপের ঠিক তখন প্রচন্ড ঝড় ওঠে সমুদ্রে। ক্যাপ্টেনের আদেশ মতো নৌকা নামিয়ে দিয়ে নাবিকরা জাহাজ ছেড়ে তাতে উঠলেন ক্যাপ্টেনকে নিয়ে। কিন্তু রোভার আর তার দুই বন্ধু কেবল বাকি থেকে গেল। কিছুক্ষণ পরেই ক্যাপ্টেন সহ নৌকার উপর আছড়ে পরে জাহাজ আর সাথে সাথে সবাই ডুবে যায়। রোভার ক্লান্ত হয়ে পড়ে এভাবে ঝড়ের সাথে মোকাবিলা করতে করতে এবং সে জ্ঞান হারায় এক সময়।
এক সময় শক্তিশালী সব ঢেউ আছড়ে পড়তে থাকে আর তিন বন্ধু প্রবাল দ্বীপে গিয়ে পড়ে। জ্যাক ও পিটারকিন অনেক চেষ্টা চালিয়ে রোভারের জ্ঞান ফেরায় আর জ্ঞান আসার পর রোভার বুঝতে পারে যে তারা প্রবাল দ্বীপে এসে আটকা পড়েছে। তিন জনেরই স্বপ্নের প্রবাল দ্বীপে এখন তারা এই ভেবে তারা খুশি হয় আর ঝড়, ভয় এসব নিয়ে দুঃখ করে না বরং তারা দ্বীপে বেঁচে থাকার জন্য উপায় খুঁজতে শুরু করে।
শুরুতে কিছুদিন সামুদ্রিক ঝিনুক খেয়ে কাটালো সাথে শিখে নিলো তারা কাঠ দিয়ে আগুন জ্বালানো। দ্বীপে ঘুরে ঘুরে রুটিফল, আলু, নারকেল, শূকরের মাংস খেয়ে দিন কাটাতে শুরু করে তিন বন্ধু। প্রবালদ্বীপে তারা ঘুরতে ঘুরতে একদিন একটু কুড়েঘর আবিষ্কার করে আর তাতে একটা মানুষ ও একটা কুকুরের কঙ্কাল খুঁজে পায়। তিন বন্ধু বুঝতে পারল যে লোকটি প্রথমে মারা যায় আর তার বুকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে প্রভুভক্ত কুকুরটাও পরে তারা তিনজন মিলে পুরো বাড়িটা ভেঙে দিয়ে তাদের সমাধি দেয়ে।
একসময় জ্যাক,রোভার আর পিটারসন মিলে একটি নৌকা তৈরি করে ফেললো। এদিকে একদিন তারা ভয়ংকর এক ঘটনার সাক্ষী হলো। দুটি ডিঙ্গি নৌকা একে অপরকে তাড়িয়ে প্রবাল দ্বীপের পারে এনে থামলো। মানুষখেকো জংলী ভর্তি ছিলো দুটি নৌকা। জয়ী নৌকার জংলীরা পরাজিত নৌকার জংলীদের আগুনে ঝলসে আস্ত খেয়ে নিচ্ছিলো। এক সময় একটি দুধের শিশুকে পানিতে ফেলে দেয়,দূর দেখে দেখছিলো তিন বন্ধু। এর মধ্যে এক মেয়ের সাথে কথা বলছিলো জংলী সর্দার, তাদের গতি ভালো না দেখে জ্যাক ছুটে গেলো তাদের বাঁচাতে আর তিন বন্ধু তাদের সাথে যুদ্ধ করে জিতলো।তারপর বেশ কয়েকদিন কাটালো জংলী মানুষগুলো তিন বন্ধুর সাথে আর চলে যাওয়ার সময় কৃতজ্ঞতা স্বরুপ তাদের সাথে তিন বন্ধুকে তারা নিতে চাইল কিন্তু তিন বন্ধু এতে রাজি নয়। অবশেষে সেই নৌকার সবাই ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় নিলো।
জংলীরা চলে গেলে চারপাশটা একদম নীরব হয়ে যায় তবুও তাদের দিন ভালোই কাটতে থাকে এই জনমানবহীন কিন্তু অপরূপ প্রবাল দ্বীপে। বাড়ির কথা মনে করে তিন জনের মন খারাপ হয়, জাহাজ আসে কি না দেখতে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরে আসে তারা। পাশের পেঙ্গুইন দ্বীপে যাওয়ার ইচ্ছা হয় তাদের একদিন নিজেদের নৌকায়, যেই ভাবনা সেই কাজ। রওনা হয় তারা খাবার দাবার নিয়ে। কিন্তু কাছাকাছি যেতে তারা একটি ঝড়ের কবলে পড়ে আর একটি টিলায় আশ্রয় নেয়। সেই টিলাতে তারা খাওয়া দাওয়া করে আর অপেক্ষা করে ঝড় থামার। পাঁচ ছয়দিন পর ঝড় থামে আর তারা প্রবাল দ্বীপে ফিরে যায়৷ সব ঠিকঠাক চলছিল এভাবে অপেক্ষা, অনিশ্চিত জীবন নিয়ে তাদের। একদিন তাদের ভুলে এক জলদস্যু জাহাজ সেই তীরে এসে ভীড়ে আর তিন বন্ধু বিপদ বুঝে লুকিয়ে পড়ে। অনেকটা সময় পার হলে রোভার বের হয় পরিস্থিতি দেখতে কিন্তু সে ধরা পড়ে যায়।জাহাজের ক্যাপ্টেন তাকে বুঝিয়ে তাদের কাজে লাগিয়ে দেয় তাছাড়া আর কোন উপায়ও ছিলো না রোভারের।
সেই জলদস্যু জাহাজে এসে রোভার তার মত একজন বন্দী বিলকে পায় বন্ধু হিসেবে। তাকেও একই ভাবে আটক করে আনা হয়েছিলো আর সে এখানে কাজ করে তখন থেকে। বিল রোভারকে জাহাজ, ক্যাপ্টেন, ক্যাপ্টেনদের সাথে জংলীদের ভেজাল নিয়ে জানায়। চন্দন কাঠ আনতে এক দ্বীপে গেলে ক্যাপ্টেন আর জংলীদের মধ্যে এক বিশাল যুদ্ধ বাঁধে। তারা এক সময় ক্যাপ্টেনকে মেরে ফেলে, বিল আহত হয় এই যুদ্ধে।
বিল আর রোভার জাহাজ নিয়ে জংলীদের হাত থেকে বাঁচতে রওনা দেয়। কিন্তু বিল মারা যায় গুলি লাগার কারণে, রোভার মন খারাপ নিয়ে একা জাহাজ নিয়ে দ্বীপে পৌঁছায়। রোভারকে দ্বীপে দেখামাত্র তার জন্য অপেক্ষারত জ্যাক আর পিটারকিন আনন্দে আত্মহারা হয়।
অবশেষে রোভার,জ্যাক ও পিটারকিন তিন বন্ধু মিলে প্রিয় প্রবাল দ্বীপ ছেড়ে জাহাজ নিয়ে নিজেদের দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
৪
৭ মন্তব্য