প্রভাষক
২৫ অক্টোবর, ২০২৪ ১২:২০ অপরাহ্ণ
⏩ডেংগু প্রতিরোধ এ আমাদের করনীয়⏩
?ডেঙ্গু কী:
ডেঙ্গু একটি ভাইরাস জ্বর। এডিস মশা ডেঙ্গু ভাইরাসের একমাত্র বাহক। এ মশার কামড়ে ডেঙ্গু ছড়ায়। এডিস মশা দিনের বেলায়, সাধারণত ভোরে এবং সন্ধ্যায় কামড়ায়।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশেপাশে জমে থাকা পানি পরিস্কার রাখুন। যতটুকু সম্ভব শরীর ঢেকে রাখুন এবং হালকা রঙের কাপড় পরিধান করুন। দিনের বেলাতেও বিশ্রাম নেওয়ার ক্ষেত্রে মশারি ব্যবহার করুন। ডেঙ্গু সম্পর্কিত তথ্য, পরামর্শ ও স্বাস্থ্য সহায়তা পেতে ফ্রি কল করুন ৩৩৩ নম্বরে।
?ডেঙ্গু রোগীর কি খাবার তালিকা?⏩
তাই কমলা, জাম্বুরা, আনারস, লেবু ও অন্যান্য টকজাতীয় ফল খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। যদি জ্বরের সঙ্গে পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া ও বমি হয়ে থাকে তবে শাকসবজি, ডাল, দুধ ও দুধজাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে। এ সময় জাউ ভাত, কাঁচা কলার ঝোল খুবই উপকারী। প্রোটিনের উৎস হিসেবে মাছ বা মুরগির পাতলা ঝোল দেওয়া যেতে পারে।
?ডেঙ্গু জ্বর কী ছোঁয়াচে রোগ?⏩
ডেঙ্গু কোন ছোঁয়াচে রোগ নয় বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক ঘোষ। অর্থাৎ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে স্পর্শ করলে, একই বিছানায় ঘুমালে কিংবা তার ব্যবহৃত কিছু ব্যবহার করলে, অন্য কারো এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই। এই রোগ শুধুমাত্র মশার মাধ্যমেই ছড়ায়।
?ডেঙ্গু হলে কি কি খাওয়া যাবে না?⏩
প্রক্রিয়াজাত খাবারের পাশাপাশি তৈলাক্ত, মশলাদার ও ভাজা খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। এসব খাবারের ফলে পেটে অ্যাসিড জমতে পারে, পিএইচ স্তর নেমে যেতে পারে যার ফলে আলসার ও অন্ত্রের দেয়ালের ক্ষতি হতে পারে। ক্যাফিনেটেড পানীয় দ্রুত হৃদস্পন্দন বাড়ায়।
?ডেঙ্গু রোগীর প্লাটিলেট কত থাকে?⏩
সাধারণ মানবদেহে ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট ১.৫ মিলিয়ন থেকে ৪ লক্ষ পর্যন্ত হয়, অন্যদিকে ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট সংখ্যা ২০,০০০ থেকে ৪০,০০০ অবধি কমতে থাকে। ডেঙ্গু হলে প্লাটিলেট কমার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১. প্লাটিলেট উৎপাদনকারী অঞ্চল হাড়ের মজ্জাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে যার ফলে ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট গণনা কমে যায়।
?প্লাটিলেট কত থাকা উচিত?⏩
একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরের প্রতি মাইক্রোলিটার রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা দেড় লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ পর্যন্ত। এই পরিমাপের চাইতে প্লাটিলেটের মাত্রা কমে গেলে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না। ফলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি দেখা দেয়। রক্তে প্লাটিলেট কমতে শুরু করাকে চিকিৎসা শাস্ত্রে বলা হয় থ্রোম্বোসাইটোপেনিয়া।
?ডেঙ্গু হলে কতদিন পর পর প্লেটলেট পরীক্ষা করা উচিত?⏩
প্রতিটি ডেঙ্গু রোগীকে প্লেটলেট কাউন্টের স্তর পরীক্ষা করার জন্য, বিশেষ করে জ্বরের পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিদিন কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC) পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সাধারণ রক্তের প্লেটলেট গণনা মানুষের মধ্যে প্রায় 150,000 থেকে 450,000/cm হওয়া উচিত।
?ডেঙ্গু প্রতিরোধে সকল জনসাধারণের করণীয়⏩
?ডেঙ্গুজ্বরের সাধারণ লক্ষণ:⏩
✅জ্বর (শরীরে তাপমাত্রা হঠাৎ বৃদ্ধি পায়)
✅মাথা ব্যথা, চোখের পিছনে ব্যথা, পেটে ব্যথা, মাংসপেশী ও হাড়ে ব্যথা (বিশেষতঃ মেরুদন্ডে ব্যথা) বমি-বমি ভাব।
✅ শরীরে হামের মত দানা দেখা দেওয়া।
?ডেঙ্গুজ্বরের ব্যবস্থাপনা:⏩
অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডেঙ্গু জ্বর ০৭ (সাত) দিনের মধ্যে এমনিতেই সেরে যায়।
রোগীকে উপসর্গ অনুসারে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হবে এবং বিশ্রামে রাখতে হবে। প্রচুর পানি ও তরল খাবার খাওয়াতে হবে।
দ্রুত জ্বর কমানো একান্ত জরুরী। এজন্য মাথা ধোয়া, ভিজা কাপড় দিয়ে গা মোছা এবং প্যারাসিটামল খেতে দেয়া যেতে পারে। এ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষধ কোনভাবেই খেতে দেয়া যাবে না।
মারাত্বক(হেমোরেজিক) ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে রোগীকে অবিলম্বে হাসপাতালে/ডাক্তারের কাছে নিতে হবে।
?ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধে করণীয়:⏩
✅ এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ, ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায়।
✅বাড়ির ভিতর/বাহির/ছাদ এবং আনাচে-কানাচে পড়ে থাকা অপ্রয়োজনীয় পাত্রসমূহ ডাষ্টবিনে ফেলে দিন। বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড় এবং আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখুন।
✅ব্যবহার যোগ্য পাত্রসমূহে (যেমনঃ বালতি, ড্রাম, ফুলের ও গাছের টব, ফ্রিজ এবং এয়ার কন্ডিশনারের নীচের পানি ভর্তি পাত্র ইত্যাদি) পানি কোনভাবেই যেন একনাগাড়ে ০৫ (পাঁচ) দিনের বেশী যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে লক্ষ্যে রাখুন এবং প্রয়োজনে অপসারণ করুন।
✅ অব্যবহৃত গাড়ির টায়ার, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত চৌবাচ্চা, পরিত্যক্ত টিনের কৌটা, প্লাষ্টিকের বোতল/ক্যান, গাছের কোটর, পরিত্যক্ত হাড়ি, ডাবের খোসা ইত্যাদিতে ০৫ (পাঁচ) দিনের বেশি যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে লক্ষ্যে রাখুন এবং প্রয়োজনে অপসারণ করুন।
৪
৭ মন্তব্য