Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৫ অক্টোবর, ২০২৪ ১২:২৬ অপরাহ্ণ

সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে জেন্ডার-সমতা

দরিদ্র মানুষের অভাব-অনটন এবং দীর্ঘমেয়াদি দুর্দশা লাঘবের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিসমূহ সামাজিক পরিবর্তন সাধনে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ভূমিকা পালন করতে পারে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার একটি জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল (এনএসএসএস) প্রণয়ন করেছে। জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হলো সম্পদের আরও দক্ষ ও কার্যকর ব্যবহার, মজবুত সেবা প্রদানের কাঠামো প্রতিষ্ঠা এবং সমাজের সবচেয়ে দরিদ্র ও ঝুঁকিগ্রস্ত সদস্যদের অগ্রাধিকার দিয়ে জীবনচক্রীয় সমস্যাবলি কার্যকরভাবে মোকাবিলায় সক্ষম একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা।
দরিদ্র নারী ও পুরুষের ঝুঁকি বা সমস্যা এক রকম নয়। যেমন পুষ্টি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্য, জনসেবা, অর্থনীতি, বাজারব্যবস্থা, কর্মসংস্থান ইত্যাদিতে বৈষম্যের শিকার হওয়া নারীদের জন্য একটি বিশেষ সমস্যা। কিশোরী মেয়েদের পরিবারের জন্য উপার্জন করতে বা বিভিন্ন প্রকার গৃহস্থালির ও পরিচর্যামূলক কাজের (ছোট ভাইবোন বা প্রতিবন্ধী দাদা-দাদির পরিচর্যা) মতো অলিখিত কিছু পারিবারিক দায়িত্ব পালনের জন্য স্কুল থেকে ছাড়িয়ে আনা হয়। এরপরও যেসব মেয়ে স্কুলে টিকে থাকে, তাদের স্কুলের লেখাপড়া ও পারিবারিক দায়িত্ব পালনের দ্বিগুণ ভার বহন করতে হয়। এ ছাড়া নারীরা সীমিত চলাচল, গর্ভধারণ ও মাতৃত্ব, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি, বিবাহবিচ্ছেদ বা প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য কলঙ্কের শিকার হওয়া, বৈধব্যের কারণে সম্পদহানি এবং বৃদ্ধ বয়সে ও অসুস্থ অবস্থায় পরিবারের কাছ থেকে অপেক্ষাকৃত কম সহায়তা পাওয়ার মতো নানা ধরনের জীবনচক্রীয় ঝুঁকির মুখোমুখি হয়ে থাকেন।
জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষার ধারণা অবলম্বন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পরিবারের অভ্যন্তরে নারীর পরিবর্তনশীল চাহিদাসমূহ বিবেচনা করা হয়েছে। এর ফলে নারীদের আরও ভালো সেবা প্রদান ও জেন্ডার-সমতা প্রসারের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারসাধনের পথ সুগম হয়েছে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ