Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৬ অক্টোবর, ২০২৪ ১০:২১ অপরাহ্ণ

কিশোর ক্লাসিক রিভিউ - আওয়ার মিউচুয়াল ফ্রেন্ড -চার্লস ডিকেন্স

জন হারমন দেশে ফিরে এসেছে চৌদ্দ বছর পর তার বাবা মারা যাওয়ার পর, সে একমাত্র উওরাধিকারী সেই সম্পদের কিন্তু বৃদ্ধ বাবা এক অদ্ভুত উইল করে গেছেন।ছেলে তার সব সম্পত্তির মালিক ই হব যদি সে উইলে উল্লেখিত বেলা উইলফার নামক মেয়েকে বিয়ে করে ৷ জন বেলাকে চেনে না তাই ছদ্মবেশ ধরলো মেয়েটার খোঁজ নিতে।

কিছুদিন পর জন জাহাজে করে আসার সময় একটি লাশ পাওয়া যায় যাকে সবাই জন ভেবে তাকে মৃত ঘোষণা করে।মাঝির মেয়ে লিজি দেখতে পায় মৃতদেহটা তারপর ওর বাবা হেক্সাম লাশটিকে তুলে আনে পানি থেকে।

জন হারমানের মৃত দেহ পাওয়ার পর সবাই সন্দেহ আর ঘৃণার চোখে দেখতো হেক্সামকে।লিজি তার ভাইকে পড়ালেখা করতে পাঠিয়ে দেয় যাতে সে তার বাবার মতো লাশ তোলার কাজ না করে।স্কুলে পড়াশুনা করতে থাকে লিজির ভাই আর সাথে ওর পড়াশুনার গতি ভালো দেখে অনেক বাচ্চাদের পড়ানোর দায়িত্ব দেয়া হয় ওকে স্কুল থেকে।

এদিকে বেলাকে কালো কাপড় পরিয়ে রাখে তার পরিবার যেহেতু তার হবু স্বামী জন মারা গিয়েছে কিন্তু তাতে খুবই বিরক্ত বেলা কারন তার তো বিয়েই হয়নি তাহলে শোক কেন পালন করবে সে তাই। দারিদ্র্যতা বড়ো বেশি ঘৃনা করে সে কিন্তু তার বাবা তাকে খুব ভালোবাসতো। হঠাৎ জন রোকস্মিথ নামে এক জন ওদের বাড়িটা ৩ মাসের জন্য ভাড়া নেয় সাথে দেয় ৩ মাসের অগ্রিম টাকা এতে বেলার বাবা মিঃ উইলফার এর মুখে হাসি ফূটে উঠে ।

জন হারমনের মৃত্যুর পর সকল সম্পত্তি চলে যায়

কর্মচারী বফিনের কাছে। সাদাসিদে,একজন মানুষ, স্ত্রী কে নিয়ে থাকেন। মিস্টার হারমন এর রেখে যাওয়া ১ লাখ পাউন্ড এখন বফিন এর পুরোটাই।বফিন ঠিক করলো হারমনের হত্যাকারীকে ধরিয়ে দিতে পারলে দশ হাজার পাউন্ড দান করার ঘোষণা করবেন এবং সেটাই করলেন। হঠাৎ মিস্টার বাফিনের কাছে এসে সেক্রেটারির কাজ চায় জন রোকস্মিথ যে একটু আগে বেলাদের বাসা ভাড়া নিয়েছে।

সেদিন সন্ধ্যায় মিসেস বফিন ও মিস্টার বফিন সিদ্ধান্ত নেন নিজেদের কাজে এনে রাখবেন জন হারমন এর বউ হবার কথা ছিলো সেই বেলাকে আর বেলা ও রাজি হয়ে গেলো তাদের সাথে যাওয়ার জন্য। তাই মিস্টার বফিন ও মিসেস বফিন বেলা কে নিয়ে চলে গেলো তাদের নতুন বাড়ির উদ্দেশ্যে৷

এবার রোগ রাইডারহুড নামে এক ব্যাক্তি ইউজিন ও মার্টিমার কাছে এসে সে জানালো জন হারমন " এর খুনের আসামী হেক্সাম।পুরো একটা মিথ্যে নাটক সাজায় এই রোগ রাইডারহুড।রোগ রাইডারহুড কে নিয়ে ইউজিনকে ধরতে গেলে সেখানে তারা হেক্সামের মৃত দেহ পায় নদীতে গলায় দড়ি বাঁধা অবস্থায়।

মিস্টার ও মিসেস বফিন তাদের নতুন জমকালো বাড়িটিতে উঠলেন আর সাথে মিস্টার রোকস্মিথ সে সব কাজ করছে। মিস বেলা উইলফার এখন সমাজের বিভিন্ন জায়গায় পার্টিতে অংশ নিচ্ছে।ওর পোশাক আষাকের আড়ম্বতা ওকে আর ও বেশি সুন্দর করে তোলে জন হারমন এর কাছে।

মি.ব্রাডলি হেডস্টন লিজির ভাই চার্লির শিক্ষক যার বয়স ২৬ বছর।সে চার্লি কে খুব পছন্দ করে।সে চায় ও ভালো কিছু করুক জীবনে। চার্লির মুখে লিজির কথা শুনে একদিন ওর সাথে লিজির সাথে দেখা করতে যায় ওরা।

সেখানে লিজির এত সুন্দর রুপ আর কন্ঠে বাচন ভঙ্গী দেখেই ওর প্রেমে পড়ে যায়। ওদের যাওয়ার পর ই ইউজিন আসলো লিজি ও জেনিদের বাসায় এসে সে বলে জেনি আর লিজি দুজন ই এক ভদ্রমহিলার কাছে পড়াশুনা শেখার ব্যবস্থা করেছে সে।

কিছুদিন পর লিজির ভাই ওদের বাসায় চলে আসে ইউজিন যাতে আর না যায় লিজির বাসায়।লিজির ভাই চার্লস ওকে একদম পছন্দ করেনা।কারণ চার্লস এর সাথে একবার খারাপ আচরণ করেছিলো ইউজিন। ওর স্কুল মাস্টার ও ইউজিন কে পছন্দ করেন নি।

রোকস্মিথ একদিন বেলা কে ওর বফিনের বাড়ি থেকে বেলার বাবার সাথে দেখা করার কথা মনে করিয়ে দেয়।পরদিন ই বেলা চলে গেলো ওর বাবা মা এর ছোট বাড়িতে৷

লিজির বাসায় গিয়ে ব্রাডলি জানায় ও লিজিকে পড়াশুনা করাতে চায় সাথে ইউজিন এর প্রতি ব্রাডলির ইর্ষার কথাও জানায়।কিন্তু লিজি ইউজিনকে কথা দিয়েছে বলে সে ঐ ভদ্রমহিলার কাছে পড়বে বলে জানিয়ে দেয় আর জেনি লিজির সাথে কথা বলে বুঝতে পারে যে লিজি ভালোবাসে ইউজিনকে যদিও বলে না কারন লিজি নিচু পরিবারের মেয়ে।

ব্রাডলি লিজির ভাই চার্লস কে নিয়ে বাসার বাইরে লিজিকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে ও তা প্রত্যাখ্যান করে৷ এতে ভাই চার্লস রেগে গিয়ে বোনকে ত্যাগ করে চলে যায় চিরতরে।লিজির সামনে ইউজিন আসলে সে জানায় ওর ভাই ওকে কষ্ট দিয়েছে আর ইউজিন কে বলে সাবধান থাকতে। ইউজিন রেবার্ন পরে আবার লিজির বাসায় গেলে তাকে খুঁজে পায় না।পুরো লন্ডন শহর তন্নতন্ন করে খুঁজেও পাওয়া যায়নি ওর খোজ আর জেনিও কিছু জানায় না।

রোগ এয়াইডারহুড নদীর তীরে বসে ছিলো তখন নাবিক বেশে একজন আসে তার কাছে তখন রোগ তাকে প্রশ্ন করে কে সে? জন তখন রোগ রাইডারহুডের সাথে কথা বলে আর একটি ছুরি দেখায় যা ছিলো এক নাবিকের যে মারা গিয়েছিলো।জন হারমান বলে ও এ বাড়িতে এসেছিলো, যেদিন হারমান মারা যায় সেদিন ই। কিন্তু জেসি হেক্সাম নামে নিরীহ লোকটার নামে কেন জন হারমান এর খুনের দায় চাপালো এটা জানতে চায় রোগের কাছ থেকে।

রোগ রাইডারহুড জানতে চাইলো খুনী ধরিয়ে দেবার জন্য যে পুরষ্কার জিতেছে ও সেখান থেকে হাফ পাবে জন হারমন আর হাফ থাকবে রোগ এর কাছে।হারমন এর পেছনের কাহিনীতে স্মৃতি চারণ করলো৷ ওইদিন লন্ডনে জাহাজ ভিড়েছিলো জর্জ র‍্যাডফুট হচ্ছে জাহাজের ওই নাবিক বন্ধুটি। ওকে নিয়ে যায় রোগ রাইডারহুড এর কাছে। রাইডারহুড নাবিকের পোশাক বিক্রি করে।র‍্যাডফুট বলে হারমন কে তোমার ছদ্মবেশ ধরতে কাজে লাগবে।কফি পরিবেশন করা হয়েছিলো, সেই কফিতে ঘুমের ওষুধ মেশানো থাকে,কার সাথে যেনো ঝগড়া করে মাটিতে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। এরপর ও আবিষ্কার করে নিজেকে নদীতে, ডুবে যাচ্ছিলো।পানি থেকে যে করে হোক উদ্ধার পায়৷ একটা হোটেলে ১২ দিন থাকে ও৷ এরপর হ্যান্ডফোর্ড নাম ব্যবহার করলো।র‍্যাডফুট এর পোশাক ওর পড়নে। সবাই ভেবে নেয় জন হারমন ই মারা গেছে। এরপর হোটেলে জুলিয়াস হ্যান্ডফোর্ট নাম বদলে হয়ে যায় জন রোকস্মিথ।

একদিন জন বেলা কে ভালোবাসার কথা বললে বেলা ওকে অপমান করে কারণ জন একজন সামান্য সেক্রেটারী আর বেলা তো বিয়ে ধনী কাউকেই করবে। জন রোকস্মিথ ঘর থেকে বের হয়ে সিদ্ধান্ত নিলো যে জন হারমনের পরিচয় আর কাউকে দিবে না।

এরপর রোগ রাইডারহুড এর বাসায় গেলো রোক স্মিথ, গিয়ে লিখিয়ে আনলো সই করিয়ে আনলো, যেখানে লেখা ছিলো জন হারমন এর মৃত্যুর দায়ে জেসি হেক্সামের কোন হাত ছিলোনা৷লিজি হেক্সামের কাছে সেটা পাঠিয়ে দিলো।

বেলা ওদের বাসাতে না গেলেও ওর বাবার অফিসে ও প্রায়ই যায়। ওর বাবাকে জানালো, রোকস্মিথের প্রস্তাবের কথা জানায় আর বফিনের টাকা পেয়ে সবার সাথে খারাপ ব্যবহারের কথাও বলে।বেলা বাসায় গিয়ে দেখলো জন রোমস্মিথ কে অপমান করছে।বফিন দিন দিন সেক্রেটারির ওপর রুক্ষ মেজাজের হয়ে যাচ্ছে আর বেলার ওর উপর সহানুভূতি বেড়ে যাচ্ছে৷

মিসেন বফিন একদিন বলে রোকস্মিথ কে লিজিদের বাসায় দেখা করে আসতে। তখন রোকস্মিথ এর সাথে বেলাকেও নিয়ে যেতে বলে তখন বেলার মনে একটু হিংসা তৈরি হয় ওদের কথোপকথনে।তখন বেলা সেক্রেটারির বন্ধু হতে চেয়ে হাত বাড়িয়ে দেয়।

ইউজিন লিজি খুঁজে বের করে ওর বাসায় চলে যায় আর লিজি ওকে চলে যেতে বলে। এদিকে ব্র‍্যাডলি ইউজিন কে খুন করার জন্য ওর পিছু নেয়।রোগ রাইডারহুডের সাথে হাত মিলিয়ে ইউজিন কে খুন করতে চায় ব্র্যাডলি। ইউজিনকে মাথায় আঘাত করে নদীতে ফেলে দিলে লিজি টের পেয়ে ওকে নদী থেকে উঠিয়ে ওকে বাচায়।ইউজিন ওর বন্ধু মর্টিমার কে ইশারায় জানায় সে লিজিকে বিয়ে করতে চায় আর তখন লিজিও রাজি হয়ে গেলে বিয়ে করে নেয় দুজন।

আর এদিকে বফিন জনের বেলাকে দেয়া প্রস্তাবের কথা জানতে পেরে বাসা থেকে বের করে দেয় চাকরি থেকে বরখাস্ত করে।এতে বেলা খুব কষ্ট পায় সে বাড়ি থেকে বের হয়ে তার বাবার কাছে ফিরে আসে।বেলা ওর বাবার অফিসে গিয়ে দেখলো রোকস্মিথ ও এসেছে৷ ওর বাবাকে সব জানানো হলে ওরা বিয়ে করে নেয় বাবার সম্মতিতে। ছোট সুন্দর একটা কটেজে ওরা দুজন সংসার করা শুরু করে।

ইউজিন কে মারার চেষ্টা করার কথা জানতে পারে লিজির ভাই তাই সে ব্র্যাডলির সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করেন কারন নয়তো সবাই চার্লিকেও খারাপ ভাববে। রোগ রাইডারহুড ও এদিকে জানতে পারে ব্র্যাডলি ইউজিনকে মেরে তার উপর দোষ দিতে চায়।পরে তারা নদীর ধারে কথা বলার সময় রোগ রাইডারহুড ও ব্র‍্যাডলি দুজন পানিতে পরে মারা যায় আর যখন লাশ তোলা হয় তখন দেখা যায় দুজন জড়িয়ে রয়েছে একে-অপরকে।

বেলা আর রোকস্মিথ এর সংসার এর বয়স ১ বছর। রোকস্মিথ যে আসলে ওর যার সাথে বিয়ের কথা ছিলো, মানে রোকস্মিথ ই যে জন হারমন এটা জানতে পারলো। সব কিছুই খুলে বললো জন হারমন,বফিন আর তার স্ত্রী মিলে সবকিছু করতে সাহায্য করেছে এটাও জানিয়ে দিলো।

জন হারমন বাড়িতে ইউজিন ও লিজিকে আমন্ত্রণ জানায় তাদের বাড়িতে থাকতে।এরপর কেটে যায় অনেক দিন। মিস্টার ও মিসেস বফিন জন আর বেলাকে বাচ্চা নিয়ে বসে থাকতে দেখলো আগুনের পাশে। মিসেস বফিন বললো, শেষ অব্দি জন হারমনের সহায় সম্পত্তির একটা উত্তরাধিকার পাওয়া গেলো৷

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ