প্রভাষক
২৬ অক্টোবর, ২০২৪ ১০:২৫ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
নভেম্বর মাসের লন্ডন ,প্রচন্ড ঠান্ডা আর রাস্তাঘাট কাঁদায় ভরপুর। দ্য লর্ড হাই চ্যান্সেরি এমন একটা আদালত যেখানে কতো মানুষ ধ্বংস হয়েছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই,জানা নেই কতো পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে।এখানেই আজ কেস উঠেছে জার্নডিস এন্ড জার্নডিসের ।এই কেস চলাকালীন সময়ে কত প্রজন্ম যে পার হয়ে গিয়েছে তার হিসাব হয়তো নেই কারো কাছে।কুয়াশাচ্ছন্ন বিকালেও সেদিন জর্জ দুই সপ্তাহের জন্য মামলা মুলতবি দিলেন।লর্ড উঠে দাঁড়ালেন তবে বুঝা গেল লর্ড আরও কিছু বলতে চায় ,হাতে রাখা কাগজে চোখ রাখলেন তিনি।
অ্যাডা ক্লেয়ার এবং রিচার্ড কারস্টোন এরাই জার্নডিস অ্যান্ড জার্নডিস কেসের দাবিদার। তাদের ওয়ার্ড অভ কোর্ট করে দেওয়া হয় ব্লিক হাউজে থাকার জন্য অবশ্য তাদের আলাদা রুমে থাকার নির্দেশ দেন তিনি।লর্ড চ্যালেন্সর আইনজীবীদের নিয়ে কোর্ট থেকে বেরিয়ে যান । সামনের সারিতে বসে থাকা একজন বৃদ্ধ সবার চলে যাওয়ার পর দরজা লাগিয়ে বেরিয়ে আসেন ।
আজকের দিনটা মিস জেলেবির বাসা কাটানোর জন্য যায় ওরা আর সাথে ছিলো অ্যাডার বান্ধবী এসথার।পরদিনই তারা বেরিয়ে গেলো লন্ডন শহর দেখতে।দুপুর হতেই ক্যারিজ এলো তাদের ব্লিক হাউজে নিয়ে যেতে।ক্যারিজে ঢুকে তিনতলায় চলে যায় ওরা এবং দেখতে পায় ধুলাবালিতে মাখা একজন লোক কাত হয়ে পড়ে আছে যার নাম নিমো।এমন অবস্থা দেখে ,অল্পবয়সী ডাক্তার অ্যালন উডকোর্ট কে ডেকে আনলে তিনি তাকে মৃত বলে জানান।
এরপর তারা পৌঁছে যায় ব্লিক হাউজে।ব্লিক হাউজ বলতে একটা বিষন্ন বাড়ি বুঝালেও জন জার্নডিস, যিনি বাড়ির দায়িত্বে রয়েছে তিনি পুরো বাড়িটাকে বেশ গুছিয়ে পরিপাটি করে রেখেছেন দেখে ভালো লাগলো ওদের।জন জার্নডিস মেইড কে দিয়ে বাড়ির চাবি এসথারের হাতে দেয় ,যা এসথারের খুবই ভালো লাগে।
ব্লিক হাউজে বেশ সময় কাটছে তাদের সাথে আশেপাশের বেশ কয়েকজনের সাথে ওখানে পরিচয় হলো তাদের একজন মিসেস পার্ডিগল ।এলাকার সব গরিব মানুষের বাড়িতে যাতায়াত তার তবে সাহায্যের জন্য না ধর্মীয় বই পড়ে শোনাতে যান তিনি যদিও গরীবলোকগুলো একদম ই পছন্দ করতো না বিষয়টা।এদিকে রিচার্ড কেস নিয়ে চিন্তিত হলেও এটা ঠিক দুজন দুজনকে পছন্দ করে তাই জন তাদের পারিবারিক ভাবে আংটি বদল হয়।
লরেন্স বয়র্থন নামে জন জার্নডিসের একজন বন্ধু আছেন যিনি প্রায়ই ব্লিক হাউজে আসেন।লরেন্স বয়র্থন একবার তার পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রন জানায় ব্লিক হাউজে। এদিকে দাম্ভিক স্যার লিষ্টার জার্নডিস অ্যান্ড জার্নডিস কেসের আরেক দাবিদার লেডি ডেডলক তার স্ত্রী যিনি বয়র্থনের প্রতিবেশী।
এসথারের বাড়ির পাশের এলাকায় থাকে ঝাড়ুদার জো মাঝে মাঝে তাকে দেখা যায় নিমো নামের লোকটার কবর ঝাড়ু দিতে।মিঃ টুলকিংহর্ন নিজের ব্যস্ত অফিসে এক মহিলা জো কে জিজ্ঞেস করলেন যে লোকটা মারা গেছে তার ব্যাপারে।জো যা যা জানতো সব বললো।মহিলা তাকে সোনার মুদ্রা দিলে সে তাকে নিমোর কবরে নিয়ে যায় যা দেখে কষ্ট পায় মহিলা।
লন্ডনে গিয়ে লেডি ডেডলক এসথারের সাথে দেখা করে লেডি ডেডলক সব খুলে বলে এসথারকে।বিয়ের আগে ডেডলকের একজন নাবিকের সাথে বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো আর সেখানে একটা মেয়ে হয় কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত তাদের বিয়ে হয়নি।সেই মেয়েটাই এসথার যাকে অত্যাচার করেছে এসথারেরই খালা।লেডি ডেডলকের পরে স্যার লিস্টারকে বিয়ে করেন নাবিকের মৃত্যু সংবাদে কষ্ট পেয়ে। সবকিছু নিজের মেয়েকে বলার পর এসব গোপন রাখতে বলে এসথারকে চিঠি লিখেন লেডি ডেডলক।
জো'র গুটিবসন্ত দেখা দিলে এসথার জোকে সুস্থ করার জন্য অনেক সেবা করে কিন্তু একটু সুস্থ হয়েই পালায় জো এদিকে এসথার ও আক্রান্ত হয়। এই রোগের জন্য এসথারের চেহারা নষ্ট হয়ে যায়।এসথার অনেক কষ্ট পায় এটা দেখে তাকে খুশি করতেই বয়স্ক জন জার্নডিস তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।এলান এসথারকে ভালোবাসতো কিন্তু তার এ অবস্থায় এটা আর সম্ভব নয় ভেবে এসথারও হ্যা বলে দেয় জন জার্নডিসকে। এদিকে সেই যুবক এলান আবার লন্ডনে আসেন এসথারকে ভালোবাসার কথা বললে এসথার নিজের দেওয়া কথার কথা বলে তখন এলান বলে ঠিক আছে আমি চাই তুমি সুখী হও।
রিচার্ড ও অ্যাডা বিয়ের করেছে আর তারা একসাথে সংসার করতে চায় বলে জানায় এসথারকে। রিচার্ড অসুস্থ হয়ে পড়ে নেশার কারনে এবং অ্যাডাও প্রেগন্যান্ট হয় এই আশায় যে রিচার্ড হয়তো ভালো হয়ে যাবে।
লেডি ডেডলকের গোপন সন্তানের কথা জেনে লিষ্টার অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে গেলো আর লেডি ডেডলক লজ্জায় বাড়িতে একটি চিঠি লিখে বেরিয়ে যায় নিরুদ্দেশ হওয়ার জন্য। লিস্টার লেডি ডেডলকের খবর নেয়ার জন্য অনুরোধ করলেন লিখে কারন বলার মতো শক্তি তার নেই। মিস্টার বাকেট এসথার কে সাথে নিয়ে লেডি ডেডলক কে খুঁজতে বেরিয়ে যান কিন্তু অনেক খুঁজেও লাভ হয় না। রাস্তা পরিবর্তন করে তারা নিমোকে যেখানে দাফন করা হয়েছিলো সেখানে রায় এবং মুখ লুকিয়ে কেউ একজন আছে বলেই বুঝা যায় ।এসথার মুখ তুলে দেখতে পেলো মৃত লেডি ডেডলককে।
দুই সপ্তাহ পর মিস্টার বাকেট এলেন জন জার্নডিস এর লন্ডনের বাড়িতে সেই উইলটা পাওয়া গিয়েছে কিন্তু তিনি এটি হাতে নেন না কারন তিনি বলেন এটা রিচার্ডের কাজে লাগতে পারে তাই এটা রিচার্ডের কাছেই পৌঁছে দেওয়া হোক। মিস্টার জার্নডিস সাজানো একটা বাড়িতে নিয়ে আসে এসথারকে।জার্নডিস এসথারকে করুনা করে বিয়ের প্রস্তাব দিলেও তিনি এখন চান এসথার এলান কে বিয়ে করুক ।এসথার কিছু বলার আগেই ডাক্তার হাজির হলো আর এসথারকে জানানো হলো এখানেই থাকবে সে।অ্যাডা, এসথার ও জন জার্নডিস আবার লন্ডনে ফিরে গেলো ।
বহু প্রতিক্ষার পর বিখ্যাত কেস জার্নডিস এন্ড জার্নডিস এর রায় ঘোষণা করা হয় কিন্তু সবার লক্ষ্য ছিলো অর্থের দিকে কিন্তু রায় হলেও কেউ কিছু পায়নি কারন উকিল ও কেস খরচ দিয়েই সব শেষ হয়েছে।রিচার্ড চলে গেলো আরেক পৃথিবীতে, না ফেরার দেশে, রিচার্ডের ছেলে হয়েছে তার নাম রাখা হয়েছে বাবার নামেই রিচার্ড।
অ্যাডা ও তার ছেলে রিচার্ড, এসথার,এলান ও তাদের সুন্দর ২ মেয়ে সবাই মিলে এখন অনেক সুখে আছে সেই ব্লিক হাউজে।
১৪
২৪ মন্তব্য