Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৬ অক্টোবর, ২০২৪ ১০:৩৩ অপরাহ্ণ

কিশোর ক্লাসিক রিভিউ- কালো তীর -রবার্ট লুই স্টিভেনসন

গল্পের নায়ক ডিক শার্লটন যার বাবা মারা যাওয়ার পর তার অভিবাবক হিসেবে স্যার ডান্যিয়াল তার সকল দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে তুলে নেন সাথে ডিকের বিশাল সম্পত্তি যা প্রাপ্ত বয়স হলে ডিক হবে তার একমাত্র মালিক। ডিকে গ্রামে ঘুরতে গেলে টানস্যাল গ্রামের মানুষেরা ঘন্টার শব্দ শুনতে পায় আর ঘন্টার শব্দ মানেই নিশ্চিত যুদ্ধ তাই সবসময় আতঙ্কে থাকা তারা। যুদ্ধে আর যাই হোক না কেন সবচেয়ে ক্ষতি হয় সাধারণ মানুষের আর যুদ্ধ মানেই, ধ্বংস, মৃত্যু অবধারিত।

স্যার ড্যানিয়েল লোক হিসেবে খুবই পাল্টিবাজ কারন সে নিজের সুবিধা মতো দল পাল্টাতে দুবার ভাবে না। ড্যানিয়েল ঘুমাতে যায় ল্যাঙ্কাস্টার দলের হয়ে আর ঘুম থেকে উঠে ইর্য়কের পক্ষ হয়ে বলে মতামত জানায় গ্রামবাসী তাও আবার ডিকের সামনেই। এদিকে বেনেট এসে তাড়া লাগলো ক্লিপসিকে,ঘন্টার শব্দ হচ্ছে এখনই ছুটতে হবে আর জানায় ড্যানিয়েল ডিককে মোট হাউসের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশ পাঠিয়েছে। যুদ্ধে হবে রাজদ্রোহীদের সাথে কিন্তু ওদের সংখ্যার কাছে ড্যানিয়েল এর লোকসংখ্যা নগন্য।

রাজদ্রোহীরা ড্যানিয়েল এর উপর ক্ষুব্ধ কারন তার জন্য ই আজ তারা বাস্তু হারা।যারা ড্যানিয়াল এর সহযোগী ছিল তারাও এখন বিদ্রোহীদের শত্রু। বৃদ্ধ অ্যাপল ইয়ার্ড ও একজন সহযোগী ড্যানিয়েলের কর্মকাণ্ডের তাই ভায় পাচ্ছে সে।ডিকের সাথে কথা বলার সময় হঠাৎ ই জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা বিদ্রোহীদের থেকে একটি তীর এসে লাগলো। তখন ইয়ার্ড বললো একটু তীরটা বের করে দেও অনন্ত মারা যাই শান্তিতে, তীর বের করার সাথে সাথে মারা গেল বৃদ্ধ ইয়ার্ড। তীরের গায়ে লেখা ছিলো গ্রীন উডের জন অ্যামেন্ট অল যার কাছে রয়েছে আরো তিনটি তীর। ইয়ার্ড এর জন্য খরচ হল একটি,একটি বেনেট হ্যাচের জন্য গ্রিমস্টোন পোড়ানোর শ্বাস্তি স্বরুপ,স্যার অলিভার ওটসের জন্য স্যার হ্যারি শ্যালটনকে হত্যা করার অপরাধে আর শেষটা ড্যানিয়েল ব্রাকলের জন্য নিঅপরাধ লোকদের ফাসিঁ দেয়ার জন্য।একটি চিঠি লিখে জানাল জন আর চিঠিটা পড়ে শোনালো ডিক।

বৃদ্ধ নিক এর সৎকারের সময গির্জায় এসে চিঠি খানা দিয়ে যায় একজন বিদ্রোহী যদিও ধরতে পারে নি তাকে কিন্তু চিঠিটা পড়ে ডিকের মনে সন্দেহের উৎপত্তি হলো কারন স্যার হ্যারি শ্যালটন ছিলেন ডিকের বাবা আর পাদ্রি অলিভার আতঙ্কিত হয়ে পরে তখনি ডিককে জানালেন যে সে তার বাবার মৃত্যুর সাথে জড়িত নয়।

এদিকে ড্যানিয়েল দপ্তর স্থাপন করেছে সাইন অফ দ্যা সান সরাইখানায় সেখানে সে এক তরুনকে জোর করে তুলে নিয়ে এসেছে। ডিক সরাইখানায় অলিভারের চিঠি পৌছে দিতে এলে সে ড্যানিয়েলকে প্রশ্ন করলে সে পলাতক এলিসকে দায়ী করে। ডিক লড়াই এ অংশগ্রহন করা প্রসঙ্গ আসলে স্যার ড্যানিয়েল জানাল সে বিবেচক তাই এখানেই থাকবে কারন কারা বিজয়ী হচ্ছে সেটা না জেনে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না বলে জানান। ড্যানিয়েল তখন চিঠির উত্তর লেখায় ব্যস্ত হয়ে পরলে তরুন ছেলেটি ডিকের কাছে চুপিচুপি হলিউড এর শর্টকাট পথ কোনদিকে জেনে নিয়ে ধীর গতিতে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।

সৈনিকরা আসল ড্যানিয়েল এর কাছে আসলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও সে বের হলো সৈনিক নিয়ে কিন্তু অপহরণ করে আনা ছেলেটিকে দেখতে না পেয়ে সে কয়েকজন সৈন্য রেখে গেলো তাকে খোঁজার জন্য।

ড্যানিয়েল দূতের সঙ্গে চলে গেলে ডিকও ছুটল জলাভুমির পথে দেখা হল ম্যাচহামের সাথে কথা প্রসঙ্গে ম্যাচহাম জানাল ড্যানিয়েল তাকে জোর করে তুলে এনেছে। মূলত ডিক এর সাথে বিয়ে দেয়ার জন্যই জোয়ানাকে তুলে এনেছে কিন্তু বিয়ের ব্যাপারে ডিক আর জোয়ানা দুজনের ই কোন আগ্রহ নেই। জোয়ানরা নিজের পরিচয় প্রকাশ না করে ছেলে সেজেই রইলো। হিউ এর নৌকা করে নদী পার হওয়ার পর জঙ্গলে অনেকটা পথ হাঁটলো তারা আর তখন তারা এলিস ডাকওয়ালর্থের দলকে দেখতে পায়, ডিক এর বাবাকে নিয়েই কথা বলছিল।কিন্তু ডিক ওদের বিশ্বাস করতে রাজি নয় কারন তার কাছে বিশ্বাস করার মতো কোন প্রমান ছিলো না।

ডিক এলিসের দলের কাছে ধরা পরলেও তাকে জীবন্ত ধরার আদেশ পেলো সবাই তখন ডিক একজনকে মেরে কোনমতে ছুটে পালিয়ে রাতে আশ্রয় একটি গুহায় আশ্রয় নিলো। সকালে কুষ্ঠরোগী বেশে স্যার ড্যনিয়াল এর সাথে দেখা হল।ডিক ও ম্যাচহাম অনুসরণ করলো ড্যানিয়েলকে, পরে তারা মোট হাউজে পৌঁছে আলাদা হয়ে গেলো।

এদিকে ডিক তার বাবার খুনি সম্পর্কে জানতে অলিভার ও বেনেটকে প্রশ্ন করলো কিন্তু কেউ তাকে সত্য বললো না কারন সত্য কথা মানেই ড্যানিয়েল এর হাতে মৃত্যূ ডিকের।ডিকের মনের সন্দেহ বুঝতে পেরে ডিককেই মারার পরিকল্পনা করল ড্যানিয়েল।অলিভারের সাথে পুনরায় কথা বলতে গেলে ডিক বুঝতে পারে আজ রাতে কিছু ঘটতে চলেছে। সে রাতে ডিককে চ্যাপেলের ঘরে স্থানান্তর করা হয় যেটা একটু বড় কিন্তু মাত্র একটি দরজা ও জানালা ছাড়া বের হওয়ার কোন উপায় নেই তখন ডিক নিশ্চিত হলো যে তাকে মারার পরিকল্পনা করেছে ডিক এদিকে ম্যাচহামও এসে পরে ডিকের ঘরে আর জানায় আসন্ন বিপদের কথা।

এদিকে বাইরে সবাই জোয়ানা বলে চিৎকার করে প্রতিটি ঘর খুজে বেড়াচ্ছে।ডিক বুঝতে পারল না কে এই জোয়ানা।ডিক এর দরজায় আঘাত পরতেই ডিক বুঝতে পারল এই জোয়ানরা সিডক, যার সাথে ওর বিয়ের কথা হচ্ছিল।মত পাল্টালো ডিক সে বিয়ে করবে জোয়ানাকে আর জোয়ানাও জানাল সেও পছন্দ করে ডিক কে।এবার দুজন মিলে পালানোর সিদ্ধান্ত নিলো কিন্তু জোয়ানা ভয় পেলো তাই ডিক একাই নামলো পানিতে, সাতার না জানা থাকলেও হাত পা ছোড়া ছুড়ি করে কোনমতে গিয়ে উঠলো ডাঙায়। জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে আবিষ্কার করল ললিস রাজ বিদ্রোহীদের আস্তানায়।সেখানেই কয়েকমাস কাটিয়ে নিজেকে গড়ে তুলতে লাগলো ডিক আর ড্যানিয়েলকে জানিয়ে দিলো জোয়ানাকে বিয়ে করবে সে তাই তাকে অন্য জায়গায় বিয়ে না দেয়ার বৃথা চেষ্টা না করতে।

ডিকের সাথে যুদ্ধে লর্ড ফক্সহ্যাম বন্দী হলে ডিক জানতে পারে যে তিনি জোয়ানার অভিভাবক, দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন জোয়ানাকে উদ্ধার করবে।কিন্তু তারা পরাজিত হলো আর বৃদ্ধ লর্ড ফক্সহাম মারাত্নক ভাবে আহত হলেন,তার হাতের আন্টি খুলে ডিক কে দিল যাতে এটা দেখিয়ে ডিক তার দায়িত্ব পালন করতে পারে আর তার আগে নিশ্চিত হয়ে নিল ডিক কোন দলের।।ইর্য়ক এর পক্ষেই আছে বলে জানাল ডিক।

পাদ্রির ছদ্নবেশে ডিক আর ললেস গেল ড্যানিয়েল এর বাড়ী আর সেখানে গিয়ে গুপ্তচরকে হত্যা করে ডিক। লর্ড শোরবির সাথে জোয়ানরা বিয়ে হবে তাই বাড়ি থেকে বের হবে কিন্তু ড্যানিয়েল তাদের উপস্থিতি টের পাওয়াতে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করলো ।চার্চে যাওয়ার নাম করে বের হলে সৈন্য দেয়া হলো ছদ্মবেশী ডিকের সাথে।দেখা হল অলিভার এর সাথে এতোদিন পরে ওকে দেখে তিনি চমকে উঠলেন কিন্তু ডিকের সেই এক প্রশ্ন তার বাবার হত্যাকারী কে। অলিভার সত্যিটা না বলে ওকে সাহায্য করা প্রতিশ্রুতি দিল।

সকালে বিয়ের আয়োজনে বিবর্ণ মুখে বধু বেশে জোয়ানা দেখে ডিক হত্যার সিদ্ধান্ত নিতে নিতেই কর্ম সম্পাদন করল এলিস। ড্যানিয়েল এর গায়েও তীর লাগল, সবাই দেখল ছুটে যাচ্ছে তিন জন।ড্যানিয়েল দোষারোপ করল ডিককে,ওদের সাথে অস্ত্র থাকায় বন্দী হলো তারা। লর্ড রাইজিং উপস্থিত ছিলেন সেখানে, জোয়ানা পুরো ঘটনা বললো।ড্যানিয়েল জোয়ানার সাথে যে তরুনী ছিল ও সাক্ষ্য দিল ডিকের হয়ে।রাইজিংহ্যাম কথা দিলেন ডিকের দিকটা দেখবেন। ডিক স্বীকার করল গুপ্তচর রাটার কে বাধ্য হয়েই খুন করেছে,ওর কাছে যেই চিঠি ছিল রাইজিংহ্যামকে দিল। এতে প্রমান হল ডিক ইর্য়ক এর পক্ষে আর বিশ্বাসঘাতকতা করেছে ড্যানিয়েল তাই ওদের পালিয়ে যেতে দিলেন তিনি।

ইর্য়ক এর পক্ষ হযে যুদ্ধ করল ডিক ওর দক্ষতা দেখে খুশি হয়ে নাইট উপাধি দিলো ইংল্যান্ড এর ভাবি রাজা রিজার্ড অফ গ্লুসেস্টার।যুদ্ধে জয়ের পর রাজার থেকে কয়েকজন সৈন্য নিয়ে উদ্ধার করলো জোয়ানাকে আর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জোয়ানার অভিবাবকও বিয়ের কথা জানালো রাজাকে। ড্যানিয়েলকে সাথে সাথে মারতে পারলো না কিন্তু বিয়ের দিন সে বাড়ির সামনে দেখতে পেয়ে পালাতে বললো নয়তো তাকে সৈন্যদের হাতে তুলে দেয়ার হুমকি দিলো।

ড্যানিয়েল পালিয়ে কিছু দূর যেতেই হঠাৎ একটু শব্দ শুনতে পেলো ডিক আর গিয়ে দেখতে পেলো রাজদ্রোহী এলিসের তীরে মারা যাচ্ছে ড্যানিয়েল, ডিক তার কাছে যেতেই শুধু একটি কথাই শুনতে পেলো, কালো তীর।

এলিস শুভকামনা জানিয়ে বিদায় নিলো ডিকের কাছ থেকে। অবশেষে ডিক আর জোয়ানার বিয়ে হলে জঙ্গলে ঘেরা মোট বাড়িতে তারা সুখী জীবন যাপন করতে লাগলো।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ