সিনিয়র শিক্ষক
২৮ অক্টোবর, ২০২৪ ০৫:০৪ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
হাবিবের সরল বিশ্বাসগুলো-
--------------------------------------------
প্রয়োগ-১#
২০১০ সাল। আমি তখন আনন্দ মোহনে কেমিস্ট্রির লেকচারার। বিভাগের ১২/১৪ জন কলিগ একরুমে ঠাসাঠাসি করে বসি।আমার পাশের ডেস্ক ব্যাচমেট রওশন আলমের। একদিন পৌনে একটার দিকে রওশন একটা ফোন কল পায়।কলের পরে দেখলাম রওশন বেশ টেনশন ফিল করছে। আমি জানতে চাইলে সে বললো আমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা কোর্সের প্রথম পরীক্ষক আর ২য় পরীক্ষক হলেন ইডেন কলেজের। আমি খাতা দেখে তো ৭/৮ দিন আগেই ইডেন কলেজে পাঠিয়েছি কিন্তু আজ সকালে ইডেন থেকে ফোন করে বললো আপনি দুটি খাতা কম পাঠিয়েছেন। আমি সারাঘর তন্নতন্ন করে খোঁজলাম। না পেয়ে মিসেস আর বাচ্চাদের সাথে রাগারাগি। এখন ইডেন থেকে ফোন করে এটাই বললো খাতা সত্যি সত্যি দুটি কম সে বারবার গণনা করেছে।
আমি বললাম খাতা দুটি পাওয়া যাবে- প্রশ্ন করলো কিভাবে? আমি বললাম রওশন তুমি তো কখনো নামাজ পড়ো কখনো পড়োনা, এখন আজান হচ্ছে আমার সাথে চলো জোহরের নামাজ পড়ে আসি। আমি কথা দিচ্ছি নামাজ পড়ে ডিপার্টমেন্টে এসে শুনবে হয়তো বাসা থেকে ভাবি কিংবা ইডেন থেকে বলবে খাতা দুটো পাওয়া গিয়েছে। সেদিন আমি ও রওশন নামাজ পড়ে ডিপার্টমেন্টে এসে বসা মাত্রই ইডেন থেকে ফোন এলো খাতা দুটো পাওয়া গিয়েছে। রওশন আমার দিকে তাকিয়ে বললো, এটা কি হলো দোস্ত! আমি বললাম এটা আমার সরল বিশ্বাস।
বলা উচিৎ এই খাতা ২/৩ দিন পরেও সন্ধান মিলতে পারতো কিন্তু সাথে সাথেই পাওয়ার কারণ....... কেউ বলবেন?
আমি বলি এটা আমার বিশ্বাস। বন্ধু রওশন এখন আমেরিকায় থাকেন। বন্ধু আমার স্ট্যাটাসটি দেখলে নিশ্চয়ই সত্যয়ন করবে।
১৩
১৮ মন্তব্য