Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৯ অক্টোবর, ২০২৪ ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

।মানুষই একমাত্র প্রাণী, যে পুরোপুরি সফল জীবন পার করার পরও আফসোস নিয়ে মৃত্যুবরণ করে।”

মিডলাইফ ক্রাইসিস  বা মধ্যবয়সের সংকট ।

    কৌশর থেকে যৌবনে পদার্পণ যাকে বলা হয় বয়ঃসন্ধি।এ এক অনন্য পরিবর্তন এবং অনুভূতি।এটি একটি রোমাঞ্চ ও কৌতূহলপূর্ণ সময়।আর বয়ঃসন্ধিকালে সবই সম্ভব।বয়ঃসন্ধি আনন্দের। বয়ঃসন্ধি বসন্তের। 

কিন্তু যখন যৌবন আর বার্ধক্যের বয়ঃসন্ধি জীবনে চলে আসে, বার্ধক্যের প্রথম চিহ্ন দেখে আমরা ভয়ে চমকে উঠি। মাথায় পাকা চুল,চামড়ায় ভাঁজ, যা জীবনে ভাবা হয়নি, মধ্য বয়স আসে সেই ভাবনাগুলো নিয়ে। হ্যাঁ মানব জীবনের যে সময়টার কথা বলছি সেটা হল মিডলাইফ ক্রাইসিস বা মধ্যবয়সের সংকট।কি আপনিও কি এই গ্রুপে? 

    মিডলাইফ, একটি চরম সত্য। এই নিষ্ঠুর  চরম সত্য উপলব্ধির জন্যে নির্দিষ্ট ও নির্ধারিত একটি সময় ও বয়সের একটি কেন্দ্রবিন্দুই হলো মিডলাইফ। সে আসে অনেক অনেক ক্রাইসিস সঙ্গে নিয়ে।মিডলাইফ ক্রাইসিস শুরু হয় সাধারণত বয়স যখন 40 চলে 55 পর্যন্ত। কারো কারো বেলায় 35 থেকে 55 বা 45 থেকে 60বছর বয়সে।এই বয়সে মেজাজটাও বড্ড খিটখিটে হয়ে উঠে।শরীর দুর্বল লাগে। নিজেকে  বড্ড একা একা লাগে। নর নারীর জীবনে এ সময়টাতে সংকটের একটা বড় অংশজুড়ে থাকে তার শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন, হরমোনের তারতম্য, দেহে বয়সের চিহ্ন।মধ্যবয়সটি হচ্ছে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানাবিধ রোগ তৈরির বয়স, মহিলাদের জরায়ুর নানা রোগ।  মনস্তত্ত্ববিদ হ্যারল্ড কোহেন তার 'দ্য মেল মিডলাইফ ক্রাইসিস' প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, জীবন এক নিরন্তর বোঝা। এই বোঝা বহনের মাঝপথে এসে কেউ কেউ হাঁপিয়ে পড়েন। সেটাই মিডলাইফ ক্রাইসিস। 

     এ সময় অনেক কাজের কথা মনে পড়ে, যা করা হয়ে ওঠেনি, অনেক অপ্রাপ্তির কথা মনে পড়ে, যা পাওয়া হয়নি। অনেক গোপনীয়তা মনকে পীড়া দেয়, অনেক সুপ্ত বাসনা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। মাঝে মাঝেই ভাবনা আসে, 'যদি আগের দিনগুলো আবার ফিরে পাওয়া যেত!' এই বয়সে মানুষ ভাবতে শুরু করে এ জীবনে কিছুই পাওয়া হলো না, কিছুই করা হলো না। মনে মনে সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক রীতিনীতি ও প্রথাগুলির প্রতি একবার ঘৃণার উদ্বেগ করে। 

   এই বয়সে মানুষ মনে করে তার সময় বুঝি ফুরিয়ে আসছে। যা কিছু করার তাড়াতাড়ি করে ফেলতে হবে। ফলে সে নিজের মধ্যে এক ধরনের চাপ অনুভব করে। অনেক ক্ষেত্রেই মধ্যবয়সীদের মা-বাবা মৃত্যুবরণ করেন। ফলে তার মধ্যে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। কখনও ছেলেমেয়ের  লেখাপড়ার সংকট বা বিয়ে ইত্যাদি কারণে সন্তানরা দূরে চলে যায়। ফলে শূন্যতা আরও বাড়ে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য সংকট হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে জীবনে কারও অনুপ্রবেশ দাম্পত্য সম্পর্ককে সংকটাপন্ন করে তোলে।অনেকে জীবনের ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলে।  

  এই বয়সে অন্যের চেয়ে নিজেকে ব্যর্থ ভাবা। হঠাৎ তীব্রভাবে কোনো কিছু পেতে চাওয়া, যেমন- বাড়ি নেই, যেভাবেই হোক বাড়ি করতে হবে; গাড়ি নেই, যেভাবেই হোক গাড়ি কিনতে হবে। একাকিত্ব দূর করার চেষ্টা করা, বিকল্প কিছু নেতিবাচক পথ বেছে নেওয়া, যেমন- নেশা করা, বিপরীত কারও সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া । নিজের জীবন ও জীবনযাত্রার গুণেমানে সব সময় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করা। সব শেষে হুমায়ুন আহমেদ এর উক্তি দিয়েই লেখাটি  শেষ করা যাক। “মানুষই একমাত্র প্রাণী, যে পুরোপুরি সফল জীবন পার করার পরও আফসোস নিয়ে মৃত্যুবরণ করে।”

( সংগৃহীত)❤️

মন্তব্য করুন

ব্লগ