Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৯ অক্টোবর, ২০২৪ ০৭:২১ অপরাহ্ণ

সামাজিক মর্যাদা নিরূপণের মাপকাঠি।

শুধু মুখে বুলি ছুঁড়লে তো হবে না যে, শিক্ষার্থীর ভীত গড়তে প্রাথমিক শিক্ষকের অবদান বেশী, সব পেশার চেয়ে শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা বেশি। মুখের বুলিতে কি শিক্ষকের পেট ভরবে? 


প্রাথমিক বিদ্যালয়ের  শিক্ষক পাঠদান ও পরীক্ষা গ্রহণ ছাড়াও  শিশু জরীপ করবে, ক্যাচমেন্ট এলাকার তৈরি করবে, শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত করবে, স্কুল থেকে শিশু ঝরে পড়া রোধ করবে, বাল্য বিবাহ ও শিশু নির্যাতন বন্ধে ভূমিকা রাখবে, শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে ( উচ্চতা, ওজন, চোখের দৃষ্টি পরীক্ষা,  কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াবে, স্টুডেন্ট কাউন্সিল করবে, স্কুল ঘর ,  টয়লেট পরিস্কার রাখবে, অনলাইনে  স্টুডেন্ট প্রোফাইল তৈরি করবে, অনলাইনে উপবৃত্তির তথ্য এন্ট্রি দিবে, চাহিদা দিবে, নাচ , গান,  আবৃত্তি, অভিনয়, ছবি আঁকা  শিখাবে, কাব কার্যক্রম করাবে,বাগান করবে,  খেলা শিখাবে, হোম ভিজিট, মা সমাবেশ,  অভিভাবক সমাবেশ, উঠান বৈঠক করবে, ভোটার তালিকা করবে, ভোট নিবে আরও কত কী!  


প্রাইমারির শিক্ষকরা সব বিষয়ে পারদর্শী। যদি অলরাউন্ডার বলেন কাউকে তো প্রাথমিক শিক্ষকদেরই বলবেন। এক প্রাইমারির শিক্ষক দিয়ে বাংলা, ইংরেজী, ধর্ম, বাওবি, বিজ্ঞান সংগীত, চারুকারু, শা.শি.... সব সাবজেক্ট করাতে পারবেন। 


অথচ একজন নতুন শিক্ষক যোগদান করে পায় ১৭০০০/১৮০০০  বেতন!  হায়রে দেশ, হায়রে নীতিনির্ধারক!


মর্যাদার অন্যতম মাপকাঠিই বেতন গ্রেড।  বেতন গ্রেডকে এক নম্বর মাপকাঠি বলতে পারি তবে একমাত্র মাপকাঠি না। আমাদের সামাজিক মর্যাদা নিরূপণ হয় তো অর্থনৈতিক ও পেশাগত মানদণ্ড দ্বারা। আর এই মানদণ্ডে আমরা প্রবঞ্চনার শিকার। আমাদের সমাজে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের হেয় প্রতিপন্ন করা হয়।  সমাজের লোকের ধারণা,  অনার্স মাস্টার্স কমপ্লিট করে আমাদের কোথাও চাকরি হয়নি বিধায় আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। যদি আমাদের বেতন বেশি হত এমন নেগেটিভ মন্তব্য শুনতে হত না। বর্তমান বাজারে দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতিতে  আমরা আর্থিকভাবে যেমন দূর্বিষহ জীবন যাপন করি  তেমনি সামাজিক  মর্যাদার দিক হীনমন্যতায় ভুগছি।  অধিকাংশ শিক্ষকের মাথায় লক্ষ লক্ষ ঋণের বোঝা। ব্যাংকে খোঁজ নিলে তার প্রমাণ মিলবে।


অদক্ষ শিক্ষক বলার আগে আমাদের জানতে হবে দক্ষতা কী? 


আমি মনে করি, যোগ্যতা ও দক্ষতার দিক থেকে শিক্ষকের কোন ঘাটতি নেই।  এসএসসি বা এইচএসসি পাশ করে যারা শিক্ষক হয়েছেন তাঁরাও কিন্তু অনার্স ও মাস্টার্স হোল্ডারদের সাথে পরীক্ষা দিয়ে, প্রতিযোগিতায় টিকে মেধা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়েই শিক্ষক হয়েছেন।  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি স্বচ্ছ।  এখানে মামা, খালুর পরিচয়, দলীয় পরিচয়  বা ঘুষ দিয়ে চাকরি নেবার কোনো সুযোগ নেই। 


পরবর্তীতে উক্ত  এসএসসি বা এইচএসসি পাশ অনেক শিক্ষকই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে তাঁরা তাঁদের শিক্ষা সনদ ডিপার্টমেন্টে শো করতে পারেন নি। তাই সঠিক জরিপ উঠে আসেনা। 


এছাড়াও উক্ত এসএসসি বা এইচএসসি পাশ শিক্ষকদের ১ বছর বা দেড় বছর মেয়াদি যে সিইনএড বা ডিপিএড প্রশিক্ষণ দেয়া হয়  আমি মনে করে এতে করে সকল শিক্ষকই পেশাগত দক্ষতা অর্জন করে দক্ষ হয়ে উঠে।  তাছাড়া আমরা জানি, 'প্র্যাকটিস মেকস এ ম্যান পারফেক্ট ' - চর্চাই মানুষকে দক্ষ করে তুলে। আর শিক্ষকদের পাঠদানের চর্চার কোন ঘাটতি নেই । 


আর কিছু সংখ্যক অদক্ষ থাকবেই। এটা সকল ডিপার্টমেন্টেই আছে। তবে অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের মত ততোটা অদক্ষ নন যতটা লোকমুখে শোনা যায়।  কারণ অদক্ষরা অফিস চালাতে পারলেও ক্লাসরুম কন্ট্রোল ও পাঠদান করার মত কঠিন কাজ করতে সাহস করবে না।


আসুন শিক্ষককে সামাজিক মর্যাদা নিরূপণের মানদণ্ডে উচ্চ মর্যাদা  প্রদানে সহমত পোষণ করি এবং তা বাস্তবায়নে সহায়তা করে দেশকে এগিয়ে যেতে অবদান রাখি।

মন্তব্য করুন