Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩০ অক্টোবর, ২০২৪ ১২:৫৫ অপরাহ্ণ

দুই তীরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর..............................

শ্রেণি-৫ম

বিষয় ঃ আমার বাংলা বই

দুই তীরে

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমি ভালোবাসি আমার

নদীর বালুচর,

শরৎকালে যে নির্জনে

চকাচকীর ঘর।

যেথায় ফুটে কাশ

তটের চারি পাশ,

শীতের দিনে বিদেশী সব

হাঁসের বসবাস।

কচ্ছপেরা ধীরে

রৌদ্র পোহায় তীরে,

দু – একখানি জেলের ডিঙি

সন্ধেবেলায় ভিড়ে।

আমি ভালোবাসি আমার

নদীর বালুচর,

শরৎকালে যে নির্জনে

চকাচকীর ঘর।

তুমি ভালোবাস তোমার

ওই ও পারের বন,

যেথায় গাঁথা ঘনচ্ছায়া

পাতার আচ্ছাদন।

যেথায় বাঁকা গলি

নদীতে যায় চলি,

দুই ধারে তার বেণুবনের

শাখায় গলাগলি।

সকাল – সন্ধেবেলা

ঘাটে বধূর মেলা,

ছেলের দলে ঘাটের জলে

ভাসে ভাসায় ভেলা।

তুমি ভালোবাস তোমার

ওই ও পারের বন,

যেথায় গাঁথা ঘনচ্ছায়া

পাতার আচ্ছাদন।

তোমার আমার মাঝখানেতে

একটি বহে নদী,

দুই তটেরে একই গান সে

শোনায় নিরবধি।

আমি শুনি শুয়ে

বিজন বালু – ভুঁয়ে,

তুমি শোন কাঁখের কলস

ঘাটের ‘ পরে থুয়ে।

তুমি তাহার গানে

বোঝ একটা মানে,

আমার কূলে আরেক অর্থ

ঠেকে আমার কানে।

তোমার আমার মাঝখানেতে

একটি বহে নদী,

দুই তটেরে একই গান সে

শোনায় নিরবধি।

১। প্রশ্ন : শব্দগুলোর অর্থ লেখ।

[ নির্জন, চখাচখি, তট, ডিঙি, আচ্ছাদন, বেণুবন।] 

উত্তর :

শব্দ-----------অর্থ

 নির্জন    ---জনশূন্য স্থান।

চকাচকি------হাঁস জাতীয় পাখি।

তট-------------নদীর তীর।

ডিঙি----------এক ধরনের নৌকা।

আচ্ছাদন-----ঢাকনি, ছাউনি।

বেণুবন-------বাঁশবাগান।

২। প্রশ্ন : ঘরের ভেতরের শব্দগুলো খালি জায়গায় বসিয়ে বাক্য তৈরি কর।

[ চখাচখিরা আচ্ছাদন তটে বেণুবন নির্জন ডিঙি] 

ক. এলাকাটি এত --------যে গা ছমছম করে।

খ. নদীর ধারে --------দল বেঁধে উড়ে বেড়ায়।

গ. গ্রামের ছোট নদীগুলো দিয়ে মানুষ -----করে পারাপার হয়।

ঘ. নদীর দুই ---------প্রতিবছর মেলা বসে।

ঙ. নদীর তীরে বটগাছটি বর্ষাকালে মানুষ ---------হিসেবে ব্যবহার করে।

চ. নদীর ধারে গজিয়ে ওঠা --------বাতাসে দুলতে থাকে।

উত্তর : ক. এলাকাটি এত নির্জন যে, গা ছমছম করে।

খ. নদীর ধারে চখাচখিরা দল বেঁধে উড়ে বেড়ায়।

গ. গ্রামের ছোট নদীগুলো দিয়ে মানুষ ডিঙি করে পারাপার হয়।

ঘ. নদীর দুই তটে প্রতিবছর মেলা বসে।

ঙ. নদীর তীরে বটগাছটি বৃষ্টির সময় মানুষ আচ্ছাদন হিসেবে ব্যবহার করে।

চ. নদীর ধারে গজিয়ে ওঠা বেণুবন বাতাসে দুলতে থাকে।

৩। প্রশ্ন : শব্দগুলো দিয়ে বাক্য রচনা কর।

[ ভালোবাসা, শরৎকাল, কাশ, শীত, কচ্ছপ, মেলা ]

উত্তর : ভালোবাস: -  আমি আমার দেশকে ভালোবাসি।

শরৎকাল:- আশ্বিন ও কার্তিক এই দুই মাস শরৎকাল।

কাশ:-  নদী তটের চারপাশে কাশফুল ফোটে।

শীত:-    শীতকাল আমার খুব প্রিয়।

কচ্ছপ: -  কচ্ছপ পানিতে থাকে।

মেলা:-  বাংলা বছরের প্রথম দিকেই বৈশাখী মেলা শুরু হয়।

৪।নিচের শব্দগুলোর সমার্থক শব্দ লেখ।

     [  নদী, তট, বন, ঘর, জল।] 

      উত্তর :    

মূল শব্দ    ----    সমার্থক শব্দ

      নদী   ----    তরঙ্গিণী, তটিনী।

      তট  -----    কূল, তীর।

      বন  ----     অরণ্য, জঙ্গল।

      ঘর  ---    গৃহ, আবাসস্থল।

    পানি,----------- বারি।জল  

৫।   নিচের শব্দগুলোর বিপরীত শব্দ লেখ।

     [  মিল, বাঁকা, রোদ, ঘন, সুন্দর]

      উত্তর :

      মূল শব্দ        বিপরীত শব্দ

      মিল  ----    অমিল

      বাঁকা -----   সোজা

      রোদ ----    বৃষ্টি

      ঘন  ---------পাতলা

      সুন্দর     -------     অসুন্দর

৬।   বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর

                                  [ সঠিক উত্তরটি খাতায় লেখ ]

১)   কবি কী ভালোবাসেন? 

      ক   বালুচর    খ    বেণুবন   

      গ   জেলের ডিঙি    ঘ    পাতার আচ্ছাদন

 সঠিক উত্তরঃ-     বালুচর    

২)   চকাচকিরা কেমন জায়গায় ঘর বাঁধে?    

      ক   যেখানে বাঁশবন থাকে       খ    যেখানে মানুষজনের বাস

      গ   যেখানে জনপ্রাণী থাকে না       ঘ    যেখানে ধানখেত থাকে

সঠিক উত্তরঃ-     গ   যেখানে জনপ্রাণী থাকে না  

৩)   কখন বিদেশি হাঁসেরা আসে?      

      ক   গ্রীষ্মকালে খ    শরৎকালে

      গ   শীতকালে ঘ    বসন্তকালে

সঠিক উত্তরঃ-     গ   শীতকালে  

৪)   কচ্ছপেরা বালুচরে কী করে?            

      ক   রোদ পোহায়    খ    বাসা বাঁধে

      গ   বৃষ্টিতে ভেজে    ঘ    লুকিয়ে থাকে

 সঠিক উত্তরঃ-    ক   রোদ পোহায়   

৫)   জেলের ডিঙি কখন ভিড়ে?              

      ক   সকাল-সন্ধ্যেবেলা খ    শীতের দিনে    

      গ   গভীর রাতে ঘ    সন্ধ্যেবেলা

 সঠিক উত্তরঃ-   ঘ    সন্ধ্যেবেলা

৬)   বন থেকে আসা রাস্তার দুধারে কী?

      ক   বটগাছ    খ    বাঁশবাগান 

      গ   কাশফুল   ঘ    কেয়াফুল

সঠিক উত্তরঃ-     খ    বাঁশবাগান 

         ৭)   ছেলের দল কী ভাসিয়ে ভাসে?

      ক   নৌকা   খ ভেলা

      গ   ডিঙি ঘ    কলাগাছ

সঠিক উত্তরঃ-     খ    ভেলা    

৮)   নদীটি দুই তীরের মানুষদের মাঝে কী তৈরি করেছে?

      ক   দূরত্ব খ    শত্রুতা   

      গ   বন্ধন ঘ    প্রতিযোগিতা

 সঠিক উত্তরঃ-   গ   বন্ধন

৯)   চকাচকির ঘর কোথায়?

      (ক) বেণুবনে   (খ)  বালুচরে

      (গ)  তটের চারপাশে  (ঘ)  গভীর বনে

 সঠিক উত্তরঃ-  (খ) বালুচরে 

১০)  ‘চ্ছ’ যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণ নিয়ে গঠিত?

      (ক)  চ ও চ    (খ)  চ ও ছ

      (গ)  চ, ছ ও র-ফলা (ঘ)  ট ও ছ

 সঠিক উত্তরঃ-  (খ) চ ও ছ  

১১)  ‘তট’ শব্দের অর্থ কী?

      (ক)  কালো মেঘ (খ)  নীল মেঘ

      (গ)  নদীর তীর      (ঘ)  শ্যামল গ্রাম

সঠিক উত্তরঃ-   (গ) নদীর তীর

১২)  ‘জনশূন্য স্থান’ বোঝাতে কোন শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে?

      (ক)  কাশবন    (খ) বেণুবন

      (গ)  বালুচর     (ঘ)  নির্জন

সঠিক উত্তরঃ-  (ঘ) নির্জন

১৩)  কবিতাংশে প্রকাশিত হয়েছেÑ

      (ক)  নদীর দুই তীরের সৌন্দর্য     (খ) নৌকায় ভ্রমণের অনুভূতি

      (গ)  নদীতীরের মানুষের জীবনচিত্র      (ঘ)  বাংলাদেশেরঋতুবৈচিত্র্য

সঠিক উত্তরঃ-  (ক) নদীর দুই তীরের সৌন্দর্য

নিজে করো সঠিক উত্তরটি খাতায় লেখ।

১. কবিতায় কবি কিসের বর্ণনা দিয়েছেন?

ক. বেণুবনের খ. নদীতীরের দৃশ্য

গ. গ্রাম্য দৃশ্যের ঘ. বাঁকা গলির

২. নদীর ওপারের বনটি কেমন?

ক. পাতায় ঢাকা খ. স্বপ্নে আঁকা

গ. নির্জন এলাকা ঘ. আঁকাবাঁকা

৩. 'আচ্ছাদন' শব্দের অর্থ কী?

ক. ঢেকে রাখা খ. ছাদ গ. ছেদ করা ঘ. আবরণ

৪. 'বেণুবন' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

ক. কাশবন খ. জঙ্গল

গ. গভীর অরণ্য ঘ. বাঁশবাগান

৫. নদীর ধার কিসের শাখায় গলাগলি হয়ে আছে?

ক. কাশবনের খ. বাঁশবনের

গ. বেণুবনের ঘ. ঘাসবনের

৬. কখন নদীতে বেশি পানি থাকে?

ক. গ্রীষ্মকালে খ. বর্ষাকালে

গ. শরৎকালে ঘ. শীতকালে

৭। এক বাক্যে উত্তর লিখ

ক] প্রশ্ন : নদীর তীরে কারা রৌদ্র পোহায়?

উত্তর : কচ্ছপেরা নদীর তীরে রৌদ্র পোহায়।

খ] প্রশ্ন : কখন জেলের ডিঙি তীরে ভিড়ে?

উত্তর : সন্ধ্যেবেলায় জেলের ডিঙি তীরে ভিড়ে।

গ] প্রশ্ন : কখন নদীর ঘাটে বধূর মেলা বসে?

উত্তর : সকাল-সন্ধ্যেবেলা নদীর ঘাটে বধূর মেলা বসে।

ঘ] প্রশ্ন : ওই পারের বনটি কেমন?

উত্তর : ওই পারের বনটি ঘনছায়া।

ঙ] : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোথায় জন্মগ্রহন করেন?

উত্তর : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহন করেন।

চ] বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত তারিখে জন্মগ্রহন করেন?

উত্তর :  ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ মে, ১২৬৮ বাংলা সনের ২৫ বৈশাখ জন্মগ্রহণ করেন। 

ছ] বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পেশায় কি ছিলেন?

উত্তর :  তিনি  কবি , কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, দার্শনিক, গীতিকার, সুরস্রষ্টা, চিত্রশিল্পী, সমাজসেবী ও শিক্ষাবিদ। তার রচনাভাণ্ডার বিশাল। 

জ] বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে কোন বিষয়ে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?

উত্তর : ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

ঝ]  বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত তারিখে মারা যান?

উত্তর : ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ আগস্ট, ১৩৪৮ বাংলা সনের ২২ শ্রাবণ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

বর্ণনামুলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১। 'দুই তীরে' কবিতার মূলভাব নিজের ভাষায় লেখ।

উত্তর : একটি নদী। সেই নদীর দুই তীরে বাস করেন দু'জন মানুষ। একজন ভালোবাসেন নদীর বালুচর, যেখানে শরৎকালে চখাচখিরা ঘর বাঁধে। আর তীরে ফুটে থাকে কাশফুল। শীতের সময় সেই বালুচরে হাঁসেরা এসে ভিড় করে। কচ্ছপ রোদ পোহায়, সন্ধ্যায় তীরে এসে ভিড়ে জেলের ডিঙি। অন্যজন ভালোবাসেন বন, যার আছে ঘন ছায়া। ঘন ছায়াঘেরা সেই বন থেকে একটি রাস্তা এসে মিশেছে নদীতে। নদীর ঘাটে বধূরা আসে, জলে ভেলা ভাসায় ছেলের দল। একটি নদী কিন্তু দুই তীরের মানুষকে কী সুন্দর মিলিয়ে দিয়েছে।

প্রশ্ন-২।  কথাগুলো বুঝিয়ে লেখ।

তুমি ভালোবাস তোমার

ওই ওপারের বন,

যেথায় গাঁথা ঘনচ্ছায়া

পাতার আচ্ছাদন।

উত্তর : একটি নদী। সেই নদীর দুই তীরে বাস করে দু'জন মানুষ। বালুচরে বসবাসকারী মানুষটি অন্য তীরে বন এলাকায় বসবাসকারী মানুষটির উদ্দেশে বলছে তার ভালো লাগা সেই তীরের কথা। যে তীরে ঘন ছায়াঘেরা বন রয়েছে। রয়েছে পাতার ছাউনিতে ঢাকা এক অপরূপ শ্যামল প্রকৃতি। পাতায় ঘেরা ছায়া সুনিবিড় বনের সৌন্দর্যে ওপারের মানুষটি মুগ্ধ। দুই তীরের দু'জন দু'ভাবে মুগ্ধ_ এই কথাটিই এখানে বোঝানো হয়েছে।

প্রশ্ন-৩।  নদীতীরের দৃশ্যের বর্ণনা দাও।

উত্তর : নদীতীরের দৃশ্য বেশ মনোরম। এর চার পাশে ফোটে কাশফুল। শরৎকালে কাশফুলের নির্জনে চখাচখিরা ঘর বাঁধে। শীতের সময় বিদেশী হাঁসেরা এসে বাস করে। কচ্ছপেরা তীরে রোদ পোহায়। দু-একখানি জেলের ডিঙি সন্ধ্যায় এসে তীরে ভিড়ে । সকাল-সন্ধ্যা নদীতীরে বধূরা আসে গোসল করতে। ছেলের দল ভেলা ভাসায় পানিতে। সব মিলিয়ে নদীতীর হয়ে ওঠে আকর্ষণীয়।

প্রশ্ন-৪।  দুই তীরে দু’জন মানুষের ভালো লাগার জিনিসগুলো কী?

উত্তর : একটি নদী, তার দুই তীরে দু’জন মানুষ বাস করে। একজনের ভালো লাগে নদীর বালুচর, শরৎকালে চকাচকিরা যেখানে ঘর বাঁধে। এ ছাড়া তার ভালো লাগে এর তীরে ফুটে থাকা কাশফুল। শীতের সময়ের ভিড় করা হাঁস, রোদ পোহানো কচ্ছপ। সন্ধ্যায় জেলের ভেড়ানো ডিঙি। অন্যজনের ভালো লাগে বন, যেখানে আছে ঘন ছায়া। যেখান থেকে একটা রাস্তা এসে মিশেছে নদীতে। নদীর ঘাটে বধূদের জল আনতে যাওয়া, ছেলেদের জলে ভাসানো ভেলা।

প্রশ্ন-৫। নদীর এ পাড়ের লোকটি কী ভালোবাসে?

উত্তর : ভূমিক- কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নদীর দুই তীরের মানুষের জীবনানন্দ অবলোকন করে দেখেছেন, কোন পাড়ের লোক কী ভালোবাসে। সে কথা ব্যক্ত করেই কবি ‘দুই তীরে’ নামক কবিতা রচনা করেছেন।

নদীর এ পারের লোকটি যা ভালোবাসে : দুটি পাড় দিয়েই নদী হয়। আর দু’পাড়েই লোকজন বসবাস করে। তাই দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে নদীর সঙ্গে তাদের গভীর টান অনুভূত হয়। প্রত্যেকেই তাদের পারের নিজস্ব পরিবেশ, পারিমণ্ডলকে গভীরভাবে ভালোবাসে। যেমন- এ পাড়ের লোক ভালোবাসে তার নদীর বালুচর, যেখানে শরৎকালে চকাচকিরা নির্জনে এসে ঘর বাঁধে। তীরে তীরে ফুটে থাকে কাশফুল, শীতের সময় হাঁসেরা এসে ভিড় করে, কচ্ছপেরা দলবেঁধে এসে যে রোদ পোহায়, সারা দিন নদীর বুকে নৌকা চালিয়ে জেলেরা মাছ ধরে, সন্ধ্যার পর এসে ডিঙি ভেড়ায়। এসবকিছু এ পারের লোকটি ভালোবাসে।

উপসংহার : নদীমাতৃক বাংলাদেশের মানুষের নদীর সঙ্গে সখ্যতা আজন্মকালে। নদীর দু’পারের মানুষেরা তাদের জীবনযাপন নদীর তীরের পরিবেশের সঙ্গে মিলিয়ে নেয়।

প্রশ্ন-৬। নদীর ওই পারের লোকটি কী ভালোবাসে? ব্যাখ্যা দাও।

উত্তর : ভূমিকা- নদীর সঙ্গে মিতালি করেই এ দেশের মানুষ জীবনযাপন করে। ফলে নদীর পাড়ের পরিবেশের সঙ্গে তারা একাত্মতা পোষণ করে। নদীর দু’পারের লোকেরা কে কী ভালোবাসে তাই নিয়ে ‘দুই তীরে’ নামক কবিতা রচিত হয়েছে।

নদীর ওই পারের লোকটি যা ভালোবাসে : যে কোনও নদীই দুটি পাড় নিয়ে গড়ে ওঠে এবং দুই পারে অসংখ্য লোকটি বাস করে। গড়ে তোলে সমাজ, মিতালি করে নদীর ও নদী তীরের পরিবেশের সঙ্গে। ভালোবাসে নদী, মাটি ও মানুষকে। আর ভালোবাসে নদীর পারে গড়ে ওঠা পরিবেশকে। কবির মতো নদীর ওই পারের লোকটি ভালোবাসে লতাপাতার ঘেরা ঘন আচ্ছাদিত বন, যার আছে নিবিড় ঘন ছায়া। সেখান দিয়ে একটি আঁকাবাঁকা রাস্তা গিয়ে নদীতে মিশিছে। প্রান্ত বধূর দল সকাল-সন্ধ্যায় নদীর ঘাটে জল আনতে চলে ওই রাস্তা ধরে। আবার কিশোর ছেলের দল যারা দিনভর নদীর জলে খেলা করে। ভেলা বানিয়ে ভেসে বেড়ায় নদীর বুকচিরে। এসব কিছুই নদীর ওই পারের লোকটি ভালোবাসে।

উপসংহার : দু’পাড় দিয়ে নদী গড়ে ওঠে, আর দু’পারে গড়ে ওঠে মানুষের বাসস্থান।

প্রশ্ন-৭। ওই পারের বনটি কেমন?

উত্তর : ওই পারের বনটি যেমন : নদীর ওই পারের বনের দৃশ্য অপরূপ সৌন্দর্যে ভরা। নদীর ওই পারটি ঘন গাছপালায় আচ্ছাদিত। গাছের পাতার ঘন ছায়ায় সারাবছর শীতল থাকে ওপারের প্রকৃতি। ওপারে দূর গ্রাম থেকে একটি রাস্তা এসে নদীতে মিশেছে। রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে আছে বেণু গাছ। গাছের শাখাগুলো একটার সঙ্গে আরেকটা লাগালাগি করে রয়েছে। দূর থেকে দেখতে বনের মতোই মনে হয়। সে বন সৃষ্টি করে এক অপরূপ দৃশ্যের।

প্রশ্ন-৮। সকাল-সন্ধ্যা ছেলের দল কী করে?

উত্তর : ভূমিকা : ‘দুই তীরে’ কবিতায় কবি নদীর তীরের মানুষের জীবনের বর্ণনা করেছেন।

ছেলের দল যা করে : দুষ্টু ছেলেরা মেতে ওঠে দুষ্টুমিতে। তারা ভেলা বানিয়ে নদীতে ভাসায়। এভাবে সকাল-সন্ধ্যাবেলা বধূ আর ছেলেরা নদীর তীর মুখরিত করে রাখে।

মন্তব্য : নদীর তীরের জীবন নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে।

প্রশ্ন-৯। নদীর বালুচরে কী ঘটে?

উত্তর: নদীর বালুচরে যা ঘটে: নিজ ভূমি সবমানুষ ভালোবাসে। নিজ প্রকৃতির সৌন্দর্য সব মানুষের কাছে কোমল-স্নিগ্ধ। কবিও তাঁর নদীর তীরের বালুচর ভালোবাসেন। সেখানকার প্রকৃতিতে পালাবদল ঘটে। ফুটে ওঠে অপরূপ দৃশ্য। সেখানে শরত্কালে চকাচকি পাখি বাসা বাঁধে।  কাশফুলে সাদা হয় বালু চর। বালু আর কাশফুল মিলে চারপাশে শুধু সাদা আর সাদা দেখায়। এরপর ঋতুর পরিবর্তন হয়। শীতকাল আসে। শীতের দিনে বিদেশি পাখিরা বালুচরে বাসা বাঁধে। কচ্ছপেরা বালুচরে রোদ পোহায়। সন্ধ্যায় জেলেরা নৌকা নিয়ে ঘরে ফেরে। এসব ঘটনা এক অপরূপ প্রাকৃতিক ছবি আঁকে।

প্রশ্ন-১০। ওই পারের বনটি কেমন?

উত্তর: ওই পারের বনটি যেমন: নদীর ওই পারের বরে দৃশ্য অপরূপ সৌন্দর্যে ভরা। নদীর ওই পারটি ঘন গাছপালায় আচ্ছাদিত। গাছের পাতার ঘন ছায়ায় সারাবছর শীতল থাকে ওপারের প্রকৃতি। ওপারে দূর গ্রাম থেকে একটি রাস্তা এসে নদীতে মিশেছে। রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে আছে বেণু গাছ। গাছের শাখাগুলি একটার সাথে আরেকটা লাগালাগি করে রয়েছে। দূর থেকে দেখতে বনের মতোই মনে হয়। সে বন সৃষ্টি করে এক অপরূপ দৃশ্যের।

প্রশ্ন-১১। সকাল-সন্ধ্যা ছেলের দল কী করে?

উত্তর: ভূমিকা: ‘দুই তীরে’ কবিতায় কবি নদীর তীরের মানুষের জীবনের বর্ণনা করেছেন।

ছেলের দল যা করে: দুষ্টু ছেলেরা মেতে ওঠে দুষ্টুমিতে। তারা ভেলা বানিয়ে নদীতে ভাসায়। এভাবে সকাল-সন্ধ্যাবেলা বধূ আর ছেলেরা নদীর তীর মুখরিত করে রাখে।

মন্তব্য: নদীর তীরের জীবন নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

(১)   উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

আমি ভালোবাসি আমার

নদীর বালুচর

শরৎকাল যে নির্জনে

চকাচকির ঘর।

যেথায় ফুটে কাশ

তটের চারিপাশ,

শীতের দিনে বিদেশি সব

হাঁসের বসবাস।

(ক) কবিতাংশটুকু কোন কবিতার অংশ? কবিতাটির কবির নাম কী?          

(খ) ‘নির্জন’ শব্দটির অর্থ কী? কবি কেন এখানে ‘নির্জন’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন—দুটি বাক্যে লেখো।             

(গ) কবিতাংশটুকুর মূলভাব পাঁচটি বাক্যে লেখো।         

উত্তর : (ক) কবিতাংশটুকু ‘দুই তীরে’ কবিতার অংশ। কবিতাটির কবির নাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

(খ) ‘নির্জন’ শব্দটির অর্থ—জনশূন্য স্থান।

এখানে নির্জন শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে কবি জনশূন্য নদীর বালুচর ভালোবাসেন বলে। শরৎকালে সেই নির্জন স্থানে চকাচকিরা ঘর বাঁধে।

(গ) মূলভাব : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুই তীরে’ কবিতায় বলা হয়েছে—একটি নদীর দুই তীরে দুজন মানুষ বাস করেন। একজন ভালোবাসেন নদীর বালুচর। সেখানে শরৎকালে জনশূন্য স্থানে চকাচকিরা ঘর বাঁধে। এর তীরে তীরে কাশফুল ফুটে থাকে। শীতকালে বিদেশি সব হাঁস এই নদীর বালুচরে এসে বসবাস করে।

(২) উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

কচ্ছপেরা ধীরে

রৌদ্র পোহায় তীরে,

দু-একখানি জেলের ডিঙি

সন্ধে বেলায় ভিড়ে।

তুমি ভালোবাস তোমার

ওই ওপারের বন।

যেথায় গাঁথা ঘনচ্ছায়া

পাতার আচ্ছাদন।

(ক) কবিতাংশটুকু কোন কবিতার অংশ? কবিতাটির কবির নাম কী?          ২

(খ) ‘কচ্ছপ’ শব্দের অর্থ কী? এরা কী করে? দুটি বাক্যে লেখো। ৩

(গ) কবিতাংশটুকুর মূলভাব পাঁচটি বাক্যে লেখো।         ৫

উত্তর : (ক) কবিতাংশটুকু ‘দুই তীরে’ কবিতার অংশ। কবিতাটির কবির নাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

(খ) ‘কচ্ছপ’ শব্দের অর্থ কাছিম।

কচ্ছপেরা শীতকালে ধীরে ধীরে নদীর বালুচরে উঠে আসে। তারপর তীরে বসে রোদ পোহায়।

(গ) মূলভাব : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুই তীরে’ কবিতায় বলা হয়েছে—একটি নদীর দুই তীরে বসবাসরত দুজন মানুষের কথা। নদীর এপারের বালুচরে শীতকালে কচ্ছপেরা নদী থেকে ধীরে ধীরে তীরে উঠে এসে রোদ পোহায়। সন্ধ্যাবেলায় জেলেদের দুই-একখানা ডিঙি নৌকা এপারে ভেড়ে। আর নদীর ওপারে যে লোকটি বসবাস করে, সে ওপারের বনকেই ভালোবাসে। সেই বনটি পাতার আচ্ছাদনে ছায়াময়-মায়াময় পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।

(৩) উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

যেথায় বাঁকা গলি

নদীতে যায় চলি,

দুই ধারে তার বেণু বনের

শাখায় গলাগলি।

সকাল সন্ধ্যাবেলা

ঘাটে বধূর মেলা

ছেলের দলে ঘাটের জলে

ভাসে ভাসায় ভেলা।

(ক) কবিতাংশটুকু কোন কবিতার অংশ? কবিতাটির কবির নাম কী?          ২

(খ) ‘বেণু বন’ কী? বেণু বন কী করে? দুটি বাক্যে লেখো।          ৩

(গ) কবিতাংশটুকুর মূলভাব পাঁচটি বাক্যে লেখো।         ৫

উত্তর : (ক) কবিতাংশটুকু ‘দুই তীরে’ কবিতার অংশ। কবিতাটির কবির নাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

(খ) ‘বেণু বন’ হলো—বাঁশবাগান।

নদীর ওপারে যেখানে একটি বাঁকা গলি রয়েছে, সেটি সরাসরি নদীতে চলে গিয়েছে। তার দুই ধারে রয়েছে বাঁশবাগান, যার ঘনত্ব এতটাই বেশি যেন এর শাখাগুলো পরস্পর গলাগলি করছে।

(গ) মূলভাব : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুই তীরে’ কবিতায় বলা হয়েছে—একটি নদীর দুই তীরে দুজন মানুষ বাস করে। অপর পারে বসবাসরত মানুষটি ভালোবাসে বন। সেই বন থেকে একটা বাঁকা গলি নদীতে গিয়ে মিশেছে। নদীর ঘাটে সকাল-সন্ধ্যাবেলা বধূরা কলসিতে করে জল নিতে আসে। আর ছেলের দল নদীর ঘাটে জলে নিজেরা সাঁতার কাটে আর ভেলা ভাসায়

মন্তব্য করুন