সহকারী প্রধান শিক্ষক
৩১ অক্টোবর, ২০২৪ ০৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
“ বাগিচায় বুলবুলি তুই ফুল শাখাতে দিসনে আজই দোল।
আজো তা'র ফুল কলিদের ঘুম টুটেনি, তন্দ্রাতে বিলোল।
বাগিচায় বুলবুলি তুই ফুল শাখাতে দিসনে আজই দোল।”
কলম থামান হতভাগ্য পিতাটি। বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে, একবার বাইরে তাকান কী তিনি! নিশ্চয়ই তাকিয়েছিলেন... হতাশা শূণ্যতাকে আঁকড়ে ধরে শান্তি খুঁজতে চায় বরাবরই।
১৯২৬ সাল, কৃষ্ণনগর থেকে ট্রেনে চেপেছেন উদভ্রান্ত এক পিতা! হতভাগ্য পিতার মেজো ছেলে বুলবুল ভীষণ অসুস্থ। টাকা লাগবে। তাই, লেখক পিতা কলকাতায় কল্লোল পত্রিকার দপ্তরে ছুটে যাচ্ছেন। যদি কিছু ব্যবস্থা হয়।
গাড়িতেই পেলেন কাগজটি, একদিকে ছাপা বিজ্ঞাপন, উল্টো পৃষ্ঠা সাদা। সেখানেই পেনসিল দিয়ে গজলটি লিখলেন আনমনে, বিষাদের সীসে দিয়ে...
টাকা জোগাড়ের পর নৃপেনকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়কে গজলটি দিয়ে চলে যান তিনি। এক হতভাগ্য বাবা যিনি কি-না লেখকও বটে, তাঁর যন্ত্রণা প্রকাশের খুব স্বাভাবিক মাধ্যম লেখাই। লেখক সে যেমনই হোক তার হাসি-কান্না, হর্ষ-বিষাদ দেয়ালা করে লেখাতেই... তাই তো মেজোছেলে অরিন্দম খালেদ বুলবুলের অসুস্থতা এমন বিষাদের গজল হয়ে ফোটে।
বাবাটি কে নিশ্চয়ই বলতে হবে না, তবুও বলছি কাজী নজরুল ইসলাম।
তথ্যসূত্র - বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত - গোলাম মুরশিদ
কে বাজায় বাঁশী - বিনোদ ঘোষাল
বক্তব্য একটাই: এই গজলটির প্রেক্ষাপট না জেনে রিলস এ ব্যবহার বন্ধ করুন, চটুল নাচ, কমেডি,রান্না, বাচ্চার পটি পরিস্কার এর ভিডিও তে পর্যন্ত..... প্লিজ বন্ধ করুন?
#সংগৃহীত
৭০
১৪৪ মন্তব্য