Loading..

ব্লগ

রিসেট

০১ নভেম্বর, ২০২৪ ০৫:৩৮ অপরাহ্ণ

নামাজের নিয়ম ( পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতের নিয়ম )

নামাজের নিয়ম

নামাজ পড়ার নিয়ম -এর ক্ষেত্রে মাযহাবভিত্তিক অল্প কিছু মত পার্থক্য আছে। তবে প্রত্যেক মাযহাবের নিয়মই গ্রহণযোগ্য। এই লেখায় আমি শুধুমাত্র হানাফী মাযহাবের নিয়ম বর্ণনা করবো। কেননা আমাদের দেশের ও এই উপমহাদেশের বেশিরভাগ মানুষ হানাফী মাযহাবের অনুসারী। এক্ষেত্রে কোন নামাজ কত রাকাত জেনে নিতে হবে। নিচে কোন নামাজ কত রাকাত সে বিষয়ে আলোচনা করা আছে। আগে নামাজের নিয়মগুলো জেনে নিন। এখানে পুরো নিয়ম সংক্ষিপ্ত আকারে দেয়া হলো:

  • প্রথমে সঠিক নিয়মে অজু করে নামাজের প্রস্তুতি নিন

  • এরপর নামাজের নিয়ত করতে হবে। এটা মুখে বা মনে মনে বলা বাধ্যতামূলক না। আমরা যে নামাজের জন্য দাঁড়াচ্ছি, এটাই নিয়ত হিসেবে প্রতীয়মান হবে

  • এরপর তাকবীর দিয়ে হাত বাঁধুন। প্রচলিত অনেক নিয়ম আছে। তবে, সবচেয়ে বেশি প্রচলিত নিয়মানুযায়ী বাম হাতের উপর ডান হাত রাখুন

  • নামাজ দাঁড়িয়ে আদায় করা ফরজ। তবে, গুরুতর সমস্যা থাকলে বসে বা শুয়েও আদায় করা যায়। কিন্তু সমস্যা গুরুতর না হলে, কোনভাবেই বসে বা শুয়ে আদায় করা যাবে না

  • এরপর বলুন (বাংলা উচ্চারণ): ‘সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়াবি হামদিকা ওয়া তাবারা কাসমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।’ [নাসাঈ, হাদিস: ৮৮৯]

  • এরপর পড়ুন: ‘আউজু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম’ [তাহাবি: ১/৩৪৭]

  • তারপর পড়ুন: ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’। [তাহাবি: ১/৩৪৭]

  • এবার সুরা ফাতিহা পড়ুন

  • সুরা ফাতিহা শেষ হলে একটি সুরা অথবা তিনটি ছোট আয়াত, যা কমপক্ষে লম্বা একটি আয়াতের সমতুল্য হয় পড়ুন। [আবু দাউদ, হাদিস: ৬৯৫]

  • অতঃপর আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যান। রুকুতে মাথা নিতম্বের বরাবর করুন। [আবু দাউদ, হাদিস: ৭২৯]

  • রুকুতে আঙুলগুলো ছড়িয়ে দিয়ে হাঁটু আঁকড়ে ধরুন। [মুজামে সাগির: ২/৪৯৭]

  • রুকুতে কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম’ পড়ুন। [তিরমিজি, হাদিস : ২৪২]

  • এবার রুকু থেকে ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে মাথা উঠান। মুক্তাদি হলে অনুচ্চৈঃস্বরে শুধু ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ বলুন। এরপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যান। [সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ৭৪৭]

  • সিজদায় যাওয়ার সময় প্রথমে হাঁটু, তারপর হাত, তারপর উভয় হাতের মধ্যে কপাল মাটিতে রাখুন। নিজের পেট রান থেকে এবং বাহুকে পার্শ্বদেশ থেকে পৃথক করে রাখুন। হাত ও পায়ের আঙুলকে কিবলামুখী করে রাখুন। [বুখারি, হাদিস: ৭৮৫]

  • সিজদায় কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ পড়ুন। [তিরমিজি, হাদিস: ২৪২]

  • এরপর সিজদা থেকে উঠার সময় সর্বপ্রথম মাথা উঠিয়ে উভয় হাত রানের ওপর রেখে স্থিরতার সঙ্গে বসে পড়ুন

  • এরপর তাকবির বলে দ্বিতীয় সিজদা করুন

  • দ্বিতীয় সিজদায়ও কমপক্ষে তিনবার তাসবিহ পড়ুন। বিজোড় সংখ্যায় এর বেশিও পড়া যাবে

  • তারপর ভূমিতে হাত দ্বারা ঠেক না দিয়ে এবং না বসে সরাসরি তাকবির বলে দাঁড়িয়ে যান

এ পর্যন্ত প্রথম রাকাত সম্পন্ন হলো

  • এখন আবার প্রথম রাকাতের মত শুরু করুন। এক্ষেত্রে হাত উঠাবেন না, ছানাও পড়বেন না এবং আউজুবিল্লাহও পড়বেন না

  • আগের মতো সুরা ফাতিহা ও সঙ্গে অন্য একটি সুরা পড়ে রুকু-সিজদা করবেন

  • তবে, এখানে একটি বাড়তি কাজ করতে হবে। দ্বিতীয় সিজদা শেষ করে ডান পা খাড়া করে বাম পা বিছিয়ে দিয়ে তার ওপর বসে যাবেন। তখন আপনার হাত থাকবে রানের ওপর এবং ডান পায়ের আঙুলগুলো থাকবে কিবলামুখী। [মুসলিম, হাদিস: ৯১২]

  • অতঃপর নিম্নের তাশাহহুদ পড়বেন। বাংলা উচ্চারণ: ‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত তায়্যিবাত। আসসালামু আলাইকা, আইয়্যু হান্নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আস সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহিন। আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহ।’ [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৮৮]

  • তাশাহহুদ পড়ার সময় ‘আশহাদু আল-লা ইলাহা’ পড়ার সময় শাহাদাত আঙুল উঁচু করে ইশারা করবেন। আর ‘ইল্লাল্লাহু’ বলার সময় আঙুল নামিয়ে ফেলবেন। তবে তাশাহহুদের বাক্য ও আঙুল দিয়ে ইশারা করার বিষয়ে অন্য নিয়মও ইমামদের বক্তব্যে দেখা যায়

এভাবে আপনার ২ রাকাত নামাজ আদায় হয়ে গেল। এখন নামায যদি ২ রাকাত বিশিষ্ট হয়, সেক্ষেত্রে এখন শেষ করার জন্য কিছু কাজ করতে হবে। নতুবা, ৩ ও ৪ রাকাত নামাজের ক্ষেত্রে একই নিয়মে ৩য় ও ৪র্থ রাকাত আদায় করতে হবে। যে রাকাত শেষ রাকাত হবে, সে রাকাতে উপরের নিয়মে সিজদার পর তাশাহুদ পড়তে হবে আর, বলেছিলাম সকল রাকাত শেষে, তাশাহুদ পড়ার পর আরও কিছু কাজ করতে হবে। নামাজ শেষের পূর্বের কিছু কাজ:

  • এখন দরুদ শরিফ পাঠ করবেন। দরুদ শরিফের বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মদ, ওয়ালা আলি মুহাম্মদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মদ, ওয়ালা আলি মুহাম্মদ, কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।’ [মুসলিম, হাদিস: ৬১৩]

  • এরপর পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত যেকোনো দোয়া পাঠ করবেন। [মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, ১/২৯৮] সাধারণত আমরা দোয়ায়ে মাসুরা পড়ি। দোয়ায়ে মাসুরার বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি জালামতু নাফসি জুলমান কাসিরাও ওলা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা, ফাগফিরলি মাগফিরাতাম-মিন ইনদিকা, ওয়ার হামনি ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহিম।’ [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৯]

  • এরপর ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বলতে বলতে ডানে ও বামে মাথা ঘোরাবেন এবং দুবারই সালাম দেবেন। সালাম ফেরানোর সময় আপনার পাশের নামাজি ব্যক্তি এবং ফেরেশতাদের কথা স্মরণ করবেন

এভাবেই ২, ৩ ও ৪ রাকাত বিশিষ্ট বিভিন্ন নামাজ আদায় করবেন

মন্তব্য করুন

ব্লগ