Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ নভেম্বর, ২০২৪ ০২:২৮ অপরাহ্ণ

উপকরণের মাধ্যমে পাঠদান সুবিধা

প্রত্যেক পেশাজীবীকেই তার নিজস্ব পেশায় সফলতা অর্জনের জন্য পেশাগত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নেয়ার সাথে সাথে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা লাভ করতে হয় কিন্তু কেবল এ দুটির মাধ্যমেই তার পক্ষে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয়।

কোন কোন পেশা আছে (চিকিৎসা বিদ্যা, প্রকৌশল বিদ্যা ইত্যাদি) যেগুলোতে সফল হতে হলে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সাথে সাথে ঐ পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং বহুল ব্যবহৃত উপকরণ এবং সহায়ক সামগ্রীর ব্যবহারেও দক্ষতা অর্জন করতে হয়। বাস্তবিক পক্ষে এসব উপকরণের সঠিক ব্যবহারের কলাকৌশল আয়ত্ত্ব করা এ সকল পেশার জন্য নির্ধারিত প্রশিক্ষণ এবং ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা লাভের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।

একজন শল্যচিকিৎসক যত দক্ষ ও অভিজ্ঞ হন না কেন, তিনি তার পেশায় অর্থাৎ অস্ত্রোপচার কাজে কখনই সফল হতে পারবেন না যদি তাকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সাজসরঞ্জাম সরবরাহ করা না হয়। এরূপ একজন সৈনিককে সমরাস্ত্র সরবরাহ করা না হলে তার পক্ষে যুদ্ধেক্ষত্রে যুদ্ধ করে সাফল্য লাভ করা অসম্ভব। শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষকের কাছে পাঠ সহায়ক কোন উপকরণ যদি না থাকে তবে তিনিও নিরস্ত্র সৈনিকের মত শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীকে অনেক ক্ষেত্রে যথার্য সাহায্য ও সহযোগিতা দিতে পারবেন না।

শিক্ষার বিষয়বস্তুকে শিক্ষার্থীর কাছে আকর্ষণীয় ও আনন্দদায়ক করতে হলে শিক্ষকের হাতে পাঠসহায়ক কিছু উপকরণ থাকা আবশ্যক। পাঠ সহায়ক উপকরণের সহায়তায় বেশ জটিল বিষয়কেও সহজে শিক্ষার্থীদের কাছে স্পষ্ট ও বোধগম্য করে তোলা যায়।
একজন পেশাজীবী হিসেবে সফল হতে হলে শিক্ষকের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অঙ্গ হিসেবে শিক্ষা উপকরণ ও শিক্ষা সহায়ক সামগ্রী সংগ্রহ, তৈরি, ব্যবহারে নৈপুণ্য লাভের সুযোগ থাকতে হবে।

শিক্ষা উপকরণ কী : 
শিখন- শেখানো অর্থাৎ শিক্ষা দেয়া ও নেয়ার কাজে যে সমস্ত বস্তু বা সামগ্রী অবদান রাখতে পারে সেগুলোকে শিক্ষা উপকরণ বা শিক্ষা সামগ্রী বলা হয়। শিক্ষা উপকরণের সবচেয়ে পরিচিত ও উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হচ্ছে পাঠ্যপুস্তক, সহায়ক পুস্তক ইত্যাদি। এছাড়াও শিক্ষা উপকরণের মধ্যে রয়েছে শ্রেণীকক্ষে সাধারণভাবে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি যেমন- ব্লাকবোর্ড, চক, মার্কার কলম, ফ্লানেল বোর্ড ইত্যাদি। এই দুই শ্রেণীর উপকরণকে আমরা সাধারণ শিক্ষা উপকরণ বলতে পারি। এগুলো ছাড়া যে সমস্ত উপকরণ পাঠগ্রহণ ও পাঠদানে বিশেষ অবদান রাখতে পারে অর্থাৎ যে সমস্ত উপকরণ পাঠগ্রহণ ও পাঠদানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর কাজকে বিশেষভাবে সহায়তা করে বলে এগুলোকে বিশেষ ধরনের শিক্ষা উপকরণ বলা যায়। এগুলোকে সাধারণত ‘শিক্ষা সহায়ক উপকরণ’ নামে অভিহিত করা হয়। যে সমস্ত উপকরণের সাহায্যে পাঠ্য বিষয়কে শিক্ষার্থীদের কাছে সহজবোধ্য করে তোলা যায়, তাকে পাঠ সহায়ক উপকরণ বলে। অর্থাৎ শিখন-শেখানোর কাজ আনন্দদায়ক, আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য করার জন্য যে সমস্ত উপকরণ ব্যবহৃত হয়, এককথায় শিখন- শেখানোর কাজে বিশেষভাবে সহায়ক হয়, এরকম উপকরণকে শিক্ষা সহায়ক উপকরণ বলে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ