Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ নভেম্বর, ২০২৪ ১১:১৭ অপরাহ্ণ

স্মরণ - সৌন্দর্যের পূজারি কবি জন কিটস ---------------------------------------------------- ‘বিউটি ইজ ট্রু–থ, ট্রু–থ বিউটি সৌন্দর্যের পূজারি কবি জন কিটস।

স্মরণ -

              সৌন্দর্যের পূজারি

               কবি জন কিটস

----------------------------------------------------

‘বিউটি ইজ ট্রু–থ, ট্রু–থ বিউটি’ চিরন্তন প্রবাদ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এই চরণের কবি আর কেউ নন, চিরকালীন সৌন্দর্যের পূজারি কবি জন কিটস।


জন্ম ১৭৯৫ সালের ৩১ অক্টোবর লন্ডনের এক আস্তাবলে। বাবা টমাস কিটস প্রথমে ভাড়াটে আস্তাবলে কাজ করতেন। পরে তিনি সেই আস্তাবলের মালিকের মেয়েকে বিয়ে করে সেই প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়ে যান। 


কিটসরা ছিলেন চার ভাই ও এক বোন। কিটসের বাবার আর্থিক অবস্থা বেশ ভালো ছিল। পড়ালেখার জন্য ছেলেদের তিনি হ্যারাতে পাঠাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাবার সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। কিটসকে তিনি এনফিল্ডের জন ক্লার্কের স্কুলে ভর্তি করে দেন। স্কুলটা ছোট হলেও এর কার্যক্রম ছিল বেশ আধুনিক ও নান্দনিক। 


ক্লার্কের পরিবারের পরিবেশ ছিল ভিন্ন ধরনের। সেখানে ক্লার্কের ছেলে চার্লস কাউনডেনের সঙ্গে কিটসের পরিচয় হয়। কাউনডেন ছিলেন সঙ্গীতজ্ঞ। তিনি প্রথম কিটসের কবি মন ও প্রতিভাকে জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করেন।


            মা বাবার মৃত্যু এবং


এপ্রিল ১৮০৪ সালে কিটসের বাবা যখন ক্ষয়রোগে মারা যান- তখন কিটসের বয়স মাত্র আট বছর। মা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। কিন্তু মায়ের সেই বিয়ে সুখের ছিল না। ফলে তিনি বাবার বাড়ি ফিরে আসেন। 


১৮১০ সালে মাও ক্ষয়রোগে মারা যান। কিটসের বয়স তখন ১৪ বছর। মা মারা যাওয়ার সময় সন্তানদের তিনি পিতামহীর কাছে রেখে যান। পিতামহী কিটসকে বিদ্যালয় থেকে নিয়ে এসে এক ডাক্তারের অধীনে শিক্ষানবিশের কাজে নিযুক্ত করেন।


      সাহিত্যচর্চায় মনোযোগ শুরু


১৮১৪ সালে তিনি চিকিৎসাবিদ্যা শেখার জন্য লন্ডনের সেন্ট টমাস মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। কিছুদিন চিকিৎসাবিদ্যা শেখেনও। কিন্তু এ কাজে মনোনিবেশ করতে পারেননি। তিনি নিজেই বুঝতে পারেন, চিকিৎসাবিদ্যা শিক্ষা তার কাজ নয়।


সাহিত্যের প্রতি প্রবল আগ্রহ থেকে সাহিত্য-চর্চায় মনোনিবেশ করেন তিনি। এই ১৮১৪ সালেই, যখন তার বয়স মাত্র উনিশ, তখন তিনি রচনা করেন ‘অ্যান ইমিটেশন অব স্পেনসার’। এটিই তার প্রথম রচনা।


               প্রথম কাব্যগ্রন্থ


তার প্রথম কবিতার বই প্রকাশিত হয় ৩ মার্চ ১৮১৭ সালে। বইটির নাম ‘পোয়েমস’। বইটি তিনি লে হান্টকে উৎসর্গ করেন। বইটির কয়েকটি বিখ্যাত কবিতা হচ্ছে- 'অন ফার্স্ট লুকিং ইনটু চ্যাপম্যানস হোমার, আই স্টুড টিপ টু আপন অ্যা লিটল হিল' ইত্যাদি।


এরপর কিটস দীর্ঘ কবিতা লিখতে শুরু করেন। এবার তিনি লিখলেন 'এন্ডিমিয়ন' নামের কাব্যগ্রন্থটি। এতে স্থান পায় মেষপালক এবং চন্দ্রদেবীর প্রেমকাহিনী।


         প্রকৃতির সঙ্গে যখন সখ্য


কিটসের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে যখন তিনি স্কটল্যান্ডে বন্ধু চার্লসের সঙ্গে বেড়াতে যান। বেড়ানোর জন্য লেকের পাশের গ্রামগুলো তারা বেছে নেন। 


১৮১৮ সালের জুন-আগস্টের গ্রীষ্মকালের এ ভ্রমণে সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে কিটসের বেশ সখ্য গড়ে উঠেছিল। সেখানে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে তিনি পরিচিত হয়েছিলেন এবং জেনেছিলেন নানারকম মানুষের বিচিত্র চরিত্র-প্রকৃতি সম্পর্কে।


          জীবনে আবার দুর্যোগ


১৮১৮ সালের শেষের দিকে তিনি তার ছোট ভাই টমের সেবায় ব্যস্ত সময় কাটান। টম তখন ক্ষয়রোগে আক্রান্ত। একই সালের ১ ডিসেম্বর টম মারা যান। টানা তিন মাস ভাইয়ের সেবা করে কিটস নিজেই দুর্বল হয়ে পড়েন। ১৮১৯ সালের বসন্তে তার দেহেও ক্ষয়রোগের লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর পরই কিটসের জীবনে দুর্যোগের ঘনঘটা নেমে আসতে শুরু করে।


                প্রেমে ব্যর্থতা


রক্ত-মাংসের মানুষ তিনিও। তাই ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়েও ফ্যানি ব্রাউনি নামের এক তন্বী তরুণীর প্রেমে পড়ে যান। একে তো ছোট ভাইয়ের সেবা করে স্বাস্থ্য ভাঙে তার। তার ওপর সে সময়ে তিনি চরম অর্থ সংকটে পড়েন। এ অবস্থায় অর্থ সংকট কাটানোর জন্য ভাবেন, জাহাজের সার্জন হবেন। এ সময় বন্ধু ব্রাউন একটি নাটক লিখে বেশ সুনাম অর্জন করেন।


কিটসকে তিনি পরামর্শ দেন, দু’জন মিলে নাটক লিখে মঞ্চায়ন করবেন। এ কাজে তারা কিছুটা সফলও হন। যে সময়টাতে একদিকে তিনি ক্ষয়রোগে জীবনী শক্তি হারাচ্ছেন, ভুগছেন আর্থিক টানাপোড়েনে, ঠিক তখনই অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তার পছন্দের সেই ফ্যানি ব্রাউনির অন্যত্র বাগদান হয়ে যায়। প্রচণ্ড আঘাত পান কিটস, মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। ভাঙতে থাকে তার স্বাস্থ্যও।


          একসময় চলে গেলেন


কিটসের শেষ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১ জুলাই, ১৮২০ সালে। গ্রন্থটি প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইতিবাচক সাড়াও পান তিনি। কিন্তু বইটি বিক্রি হয় ধীরগতিতে। তখন ডাক্তারের পরামর্শে স্বাস্থ্যের উন্নতি ও মানসিক স্থিতিশীলতার জন্য তিনি ইতালি ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেন। জন টেইলর, যিনি তার শেষ বই প্রকাশ করেছিলেন, তাকে ইতালি ভ্রমণের জন্য আর্থিক সহায়তা দেন। কিটস লন্ডন ত্যাগ করেন ১৭ সেপ্টেম্বর ১৮২০ সালে। প্রায় একমাস লেগে যায় তার ইতালি পৌঁছাতে। ততদিনে তার ক্ষয়রোগ আরও মারাত্মক আকার ধারণ করে। 


১৮২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি জগদ্বিখ্যাত কবি কিটস পৃথিবী ছেড়ে চলে যান।


তথ্যসূত্রঃ 'দৈনিক যুগান্তর'

৩ মার্চ ২০১৮

মেসবা খান

মন্তব্য করুন