Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০১:১৪ পূর্বাহ্ণ

শিশুর যথাযথ বিকাশ ও শিক্ষা গ্রহণে শিক্ষকের ভূমিকা

শিক্ষা মানুষের মনুষ্য ও বিবেকের সমস্ত দরজা-জানালা খুলে দেয় এবং অন্ধত্ব দূর করে তাকে আলোর পথে ধাবিত করে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, শিক্ষা বলতে আমরা কী বুঝি? শুধু কি বইপত্রে লিখিত কিছু সীমাবদ্ধ জ্ঞান অর্জন করাকে বোঝায়?আমি মনে করি, শিক্ষা অর্জনটা এমন হওয়া উচিত, যা আমাদের ভেতর-বাহির দুটোরই পরিশুদ্ধ পরিবর্তন আনতে পারে। আমাদের চিন্তাচেতনা, আচার-আচরণ, বিবেক-মনুষ্যত্ব সর্বত্র যেন তার একটা প্রভাব পড়ে। শিক্ষার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ছাত্র-শিক্ষক এবং বাবা-মা অর্থাৎ অভিভাবক। এই তিনের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই শিক্ষার সঠিক সফলতা অর্জন সম্ভব। আমাদের আজকের শিশু-কিশোরেরাই যেহেতু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, জাতির কর্ণধার, কাজেই তাদের সুস্থ-সবল, প্রাণবন্ত দেহ ও উন্নত জীবন গঠনে নৈতিক শিক্ষা অনুশীলন বিষয়ে জ্ঞান লাভ করা অতীব জরুরি। আর এ ক্ষেত্রে একজন শিক্ষকের ভূমিকা অনস্বীকার্য।জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা, সুশীলতা, সৃজনশীলতা অর্জন অনেকটাই নির্ভর করে একজন শিক্ষকের কার্যকলাপের ওপর। তিনি জাতির বিবেক, তিনি প্রাজ্ঞবান, প্রজ্বলিত আলোক শিখা, জ্ঞানের আধার, চলমান অভিধান। শিক্ষক তাঁর প্রাজ্ঞতা দিয়ে গড়ে তোলেন একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর সমাজ এবং যে সমাজের একজন হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে আজকের শিশু-কিশোরেরাই। তারাই হবে আগামীর শিক্ষক, জাতির গর্ব ও অহংকার। তারাই হবে সমাজসংস্কারক ও আলোকিত সমাজের বিবেকবান মানুষ। কাজেই শিশুদের বা শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে, যোগ্যভাবে ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা একজন শিক্ষকের গুরুদায়িত্ব।শিশুরাই আমাদের প্রাণ। প্রাণের স্পন্দটা বোধ হয়, এখানেই বেশি অনুভূত হয়। আজকের শিশুরাই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। ওরাই জাতির আশা-ভরসা, স্বপ্ন। এই শিশুদের সুনাগরিক, দেশপ্রেমিক ও সৎ গুণাবলিসম্পন্ন মানুষরূপে গড়ে তোলার দায়িত্ব মা-বাবা এবং শিক্ষকের। কারণ, শিশুরা মা-বাবার আদর্শেরই বেড়ে ওঠে। ঘরেই শুরু হয়: শিশুর প্রথম শিক্ষা। সেই হিসাবে মা-বাবাই তার প্রথম শিক্ষক। আর শিক্ষক তাকে পরিচয় করিয়ে দেন বর্ণমালার সঙ্গে, আলোকিত পৃথিবীর সঙ্গে, ন্যায়-অন্যায় বোধের সঙ্গে আর পরিচয় করিয়ে দেন শুভ ও শুভ্রতার সঙ্গে। শিক্ষক সব সময় তাঁর ছাত্রছাত্রীদের কাছে আদর্শ রোল মডেল। একজন শিক্ষকের আচার-ব্যবহার, ব্যক্তিত্ব, সর্বোপরি অধ্যয়ন কৌশল একজন ছাত্র বা ছাত্রীর জীবনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।

শিক্ষককে বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগর। শিক্ষকের হাতেই তৈরি হয় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। কাজেই ছাত্র-শিক্ষকের মধ্য সম্পর্কটা হওয়া উচিত আন্তরিকতাপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ।

মন্তব্য করুন