Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ নভেম্বর, ২০২৪ ১১:১৯ অপরাহ্ণ

আলিয়া মাদরাসার পরীক্ষা বা মূল্যায়ন পদ্ধতিতে যে সকল ত্রুটি রয়েছে :

শিরোনাম:❝আলিয়া মাদরাসার পরীক্ষা বা মূল্যায়ন পদ্ধতিতে যে সকল  ত্রুটি রয়েছে❞ :


শিখন যাচাইয়ের  সফলতা অনেকাংশ নির্ভর করে মানসম্মত মূল্যায়ন বা পরীক্ষা পদ্ধতির উপর। পাঠদানের পর  একজন শিক্ষার্থী কতটুকু  শিখল তা যাচাই-বাছাইরের একমাত্র বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হলো পরীক্ষা বা মূল্যায়ন পদ্ধতি। এই মূল্যায়ন কয়েক ধাপে হতে পারে, যেমন : শিখনকালীন মূল্যায়ন,সামষ্টিক বা ষাণ্মাসিক মূল্যায়ন ইত্যাদি। মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ত্রুটি থাকলে একজন শিক্ষার্থীর শিখন অভিজ্ঞতা সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করা যায় না। পাঠদানের পর তার কী পরিমাণ জ্ঞানার্জন হলো তা পরিমাপের একমাত্র উপায় হলো পরীক্ষা। এখন এই পরীক্ষা পদ্ধতিতে যদি ত্রুটি থাকে তাহলে শিক্ষার্থীদের সেই বিষয়ে দুর্বলতা থেকেই যায়।বর্তমানে আলিয়া মাদরাসায় শুধু দুইটি (অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক) পরীক্ষা হয়।আর দাখিল,  আলিমে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবং  ফাযিল,  কামিলে ইসলামি আরবি  বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পাবলিক   পরীক্ষা হয়।মাদরাসার ক্লাস পরীক্ষাগুলোতে দেখা যায় অনেক সময় বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে  প্রশ্ন আনা হয়,বা কিছু মাদরাসায় বিষয় শিক্ষক প্রশ্ন করে থাকেন।তবে এমন যোগ্য  শিক্ষকের সাংখ্যা খুবই নগন্য। তাই অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়  প্রকাশনী থেকে আনা প্রশ্নের  মান খুবই  খারাপ হয়। তাদের তৈরি করা প্রশ্নে মুখস্থ নির্ভর উত্তর বেশি থাকে।সৃজনশীল বা চিন্তাগন প্রশ্ন খুবই কম থাকে।বিশেষ করে তিনটা ব্যাকরণ বিষয়ের প্রশ্নে এপ্লাইড গ্রামারের প্রশ্ন ২০% থাকে বাকি ৮০% মুখস্থ নির্ভর।এরফলে শিক্ষার্থীরা এপ্লাইড গ্রামারের প্রশ্ন খুব কম পড়ে।কারণ আমাদের দেশের পড়াশোনা পরীক্ষা কেন্দ্রীক। আমরা শিক্ষার্থীর চাইতে পরীক্ষার্থী বেশি। 


★পরীক্ষা পদ্ধতিতে ত্রুটিসমূহ:

১.প্রশ্ন তৈরির সময় আগের বছরের টপিক ও পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন বাদ দেওয়া হয়।যার ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ টপিক বাদ পরে যায়। 

২.এপ্লাইড গ্রামারের প্রশ্ন থাকে ২০%।যা পরীক্ষায় উত্তর না করলেও পাশ এবং লেটার মার্ক তোলা সম্ভব। 

৩ পশ্নের ৮০% ই হয় মুখস্থ নির্ভর। তাই শিক্ষার্থীরা বুঝার ও চিন্তা করার চাইতে মুখস্থ করে বেশি। 

৪.সালওয়ারী প্রশ্ন বেশি থাকে। এতে নকলের প্রবণতা বৃদ্ধি করে। যেমন : ২০১২,২০১৪,২০১৬,আবার ২০১১,২০১৩ এবং ২০১৫ এইভাবে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

৫.প্রশ্ন পত্রের কাগজ একেবারে ছোট ও কম দামি থাকে।

৬.প্রশ্ন করার সময় ব্যাবহারিক প্রশ্নগুলো এরিয়ে যাওয়া হয়।ফলে শিক্ষার্থীরা আর সে-সকল প্রশ্নগুলো অধ্যয়ন করেনা। 

৭.যে কোনো ব্যাকরণের প্রশ্ন হওয়া উচিত এপ্লাইড। কিন্তু মাদরাসার তিনটা ব্যাকরণের প্রশ্নই হয় বর্ণনামূলক এবং মুখস্থ নির্ভর।

৮.ইবতেদায়ী স্তরের প্রশ্নগুলো বেশির ভাগই দেখা যায় মুখস্থ নির্ভর। অথচ এই স্তরের প্রশ্নগুলো বেশি বুদ্ধি ভিত্তিক হওয়া উচিত। 


আ.রহিম

শিক্ষক

 সৈয়দ আব্দুল মান্নান ডি. ডি. এফ. আলিম মাদরাসা, বরিশাল।

মন্তব্য করুন