Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ নভেম্বর, ২০২৪ ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

?? গুনগত শিক্ষা কী ??

??গুণগত শিক্ষা এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে প্রতিটি শিশুর বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের যোগান থাকবে। প্রতিটি শিশু একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণ করবে, উন্নত জীবনের চর্চা করবে। শিখন পরিবেশ হবে ভীতিহীন। শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে শিখন-শেখানো কাজে অংশ গ্রহণ করবে ও উচ্চতর শিক্ষার জন্য প্রস্তুত হবে।

?প্রতিটি শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ও বৃহত্তর সমাজের কাজের সম্পৃক্ত হতে শিখবে।যোগ্যও দক্ষ শিক্ষকের সংস্পর্শে শিক্ষার্থীরা আত্মবিকাশের সুযোগ পাবে। তারা কর্মজীবনের জন্য তৈরি হবে এবং বৈশ্বিক পরিবেশে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হবে।

?গুণগত শিক্ষা হবে একীভূত যেখানে সকল ধরনের শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। এখানে সাধারণ শিক্ষার্থীর সাথে অতি মেধাবী, ক্ষীণ বুদ্ধি, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী, পথশিশু, শ্রমজীবী শিশু, দলিত জনগোষ্ঠি যেমন পড়তে পারবে তেমনি বিভিন্ন জাতি, বর্ণ, ভাষা, সংস্কৃতির মানুষ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিখন পরিচালিত হবে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা গুলোকে টেকসই রূপদানের লক্ষ্যে ২০১৬-২০৩০ মেয়াদে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ ̈মাত্রা (এসডিজি) ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণাপত্রের ৪ নং লক্ষ্যে গুণগত শিক্ষার বিশেষ জোর দিয়ে বলা হয়েছে

To ensure inclusive and equitable quality education and promote lifelong learning.

?‘শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড’ এ কথাটি শ্বাশত ও চিরন্তন। প্রশ্ন হলো, এক্ষেত্রে  গুণগত শিক্ষার সংজ্ঞা সুনির্দিষ্টকরণ হয়েছে কি না? শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো দেশের জনগোষ্ঠীকে তাদের কৌতূহলী প্রশ্নের সমাধান করার সক্ষমতা অর্জন করার উপযোগী করে তোলা, আর  গুণগত শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো, জনগোষ্ঠীকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পন্ন জনসম্পদে পরিণত করা।  গুণগত শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি তার সমাজ ও দেশের সম্পদে পরিণত হয়, তার চিন্তা-চেতনায়, কর্মে বিশ্বমানের পরিবর্তন আসে।তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হয়ে আচরণে কাঙ্খিত পরিবর্তন ঘটে, প্রতিকূল পরিস্তিতি মোকাবেলা করে নিজের ও সমাজের উন্নয়নে নিজেকে সক্ষম করে তোলে, ফলে সে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যায়, প্রয়োজনে নিজেকে বদলাতে শেখে, বাঁচতে শেখে, বাঁচাতে শেখে, ভালো মানুষ হতে শেখে, শিখে নেয় কীভাবে প্রতিকূলতার সাথে নিজেদেরকে খাপ খাইয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। এ শিক্ষা শুরু হয় তার জম্ম থেকেএবং তা চলে আমৃত্যু।

?গুণগত শিক্ষা বিষয়টি কেবল শিক্ষক, বিদ্যালয়, পুস্তক, শিক্ষার্থী বা শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বা তা কোনো পদ্ধতিগত উপাদানও নয়। কারণ  গুণগত শিক্ষাকে সামগ্রিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়; যার সাথে বিদ্যালয়ের কর্মতৎপরতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গুণগত শিক্ষা শিক্ষার্থীদেরকে।‌ন্যায়বোধ,কর্তব্যপরায়ণতা, শৃঙ্খলা, আচরণবিধি, ধর্মনিরপেক্ষতা, বন্ধুত্বর্পূণ মনোভাব, সহাবস্থান, অনুসন্ধিৎসু,দেশপ্রেমিক, দেশের অতীত ও বর্তমান ইতিহাস, দেশের  গুণীজন ও সাধারণ জনগণের প্রতি ভালোবাসাবোধ,দায়বদ্ধতা, অধ্যাবসায়সহ নৈক্তিক ও আধ্যাত্মিক অন্তর্নিহিত  গুণ উন্মোচনে সহায়তা করে। এটি শিশুদের কুসংস্কার থেকে বিজ্ঞানমনস্কও সংস্কৃতিমনা হিসেবে গড়ে উঠতে উৎসাহিত করে। অধিকন্তু, এটি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে, আর শিক্ষার্থীদের সঠিক দক্ষতা ও প্রান্তিক যোগ্যতা অর্জনের মধ্যদিয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জনের দিকে ধাবিত করে। শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, জীবন দক্ষতার উন্নয়ন, দৃষ্টিভঙ্গির গুণগত পরিবর্তন এবং সামাজিকভাবে সচেতন করে তোলাসহ পরবর্তী ধাপের শিক্ষা গ্রহণের উপযোগী করে তোলে(জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০)।

?গুণগত শিক্ষার প্রতিফলনই সমাজের অন্ধকার দিক গুলো যথা- মাদক সেবন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, ইভটিজিং,বাল্যবিবাহের অভিশাপ, লিঙ্গ বৈষম্য সাম্প্রদায়িক মনোভাব, খাদ্যেভেজাল, সাইবার অপরাধ ইত্যাদি অনাকাঙ্খিক্ষত অভ্যাস ও কার্যক্রম থেকে শিক্ষার্থীদের বিরত রেখে একটি সুষ্ঠু সমাজব্যাবস্থা গড়ে তুলতে পারে।গুণগত শিক্ষাই দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে উৎপাদনশীল, সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈক্তিকতা সম্পন্ন মানব তৈরি করে, ন্যায়বিচার, বৈষম ̈হীন সমাজ ব্যাবস্থা গঠন, সততা, নিষ্ঠা, সহযোগিতা ও সহনশীল মনোভাব তৈরির পরিবেশ নিশ্চিত করে। সুশিক্ষাই শারীরিক সুস্থ্যতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে তরান্বিত করে সামাজিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সক্ষম। গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করার প্রধান উপায় হচ্ছে মানসম্মত বা মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ। তবেই একটি সমাজ হয়ে উঠবে সাবলম্বী। 

মন্তব্য করুন