সহকারী শিক্ষক
০৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০৬:১০ অপরাহ্ণ
মহাশূন্যে বাতাস নেই অথচ পৃথিবীতে এত বাতাস কেন
সূর্যের গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণ ধারণের উপযুক্ত বায়ুমণ্ডল আছে। এই বায়ুমণ্ডল কোটি কোটি বছরের বিশেষ প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে। পৃথিবী সৃষ্টির প্রথম দিকে লাখ লাখ আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত ঘটত। তরল লাভার সঙ্গে প্রচুর বাষ্পও বের হতো। বাষ্প তো আসলে পানি, যার উপাদানগুলো হলো ২ ভাগ হাইড্রোজেন ও ১ ভাগ অক্সিজেন পরমাণু। অগ্ন্যুৎপাতে আরও বের হতো কার্বন ডাই–অক্সাইড ও অ্যামোনিয়া। ১টি কার্বন ও ২টি অক্সিজেন পরমাণু নিয়ে কার্বন ডাই–অক্সাইড অণু এবং ১টি নাইট্রোজেন ও ৩টি হাইড্রোজেন পরমাণু নিয়ে অ্যামোনিয়া অণু গঠিত। লক্ষ করলে দেখব, এসব অণু–পরমাণু নিয়েই মূলত বায়ুমণ্ডল গঠিত। অবশ্য আরও কিছু ছোটখাটো গ্যাসীয় অণু বাতাসে রয়েছে। ওগুলোও এসেছে সেই অগ্ন্যুৎপাতের সময় গলিত লাভার সঙ্গে। এখন প্রশ্ন হলো, আগ্নেয়গিরি থেকে তো মুক্ত অক্সিজেন বের হয়নি। তাহলে পৃথিবীর বাতাসে এত অক্সিজেন এল কীভাবে? অক্সিজেন এসেছে কার্বন ডাই–অক্সাইড ও বাষ্পীয় পানি থেকে। আমরা আগেই দেখেছি, এদের উপাদানে অক্সিজেন রয়েছে। এই অক্সিজেন গ্যাসীয় অণুগুলো থেকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে আসল ভূমিকা রেখেছে মহাসাগরের পানি ও প্রাথমিক স্তরের ব্যাকটেরিয়া। সূর্যের আলোও সেখানে ভূমিকা রেখেছে। সাগরের পানিতে কার্বন ডাই–অক্সাইডের একটি বড় অংশ দ্রবীভূত হয়। সেখান থেকে ব্যাকটেরিয়া সূর্যের আলো ও কার্বন ডাই–অক্সাইড নিয়ে শুধু কার্বনটুকু কাজে লাগায় ও অক্সিজেন মুক্ত করে। অন্যদিকে সূর্যের আলো অ্যামোনিয়ার অণু ভেঙে নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন আলাদা করে। হাইড্রোজেনের ঘনত্ব খুব কম। হালকা বলে বেশ কিছু হাইড্রোজেন পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বল উপেক্ষা করে মহাশূন্যে বিলীন হয়ে যায়।
১
১ মন্তব্য