Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ নভেম্বর, ২০২৪ ০৫:০২ অপরাহ্ণ

অরবরই পুষ্টিগুণে ভরপুর এক ফল।

অরবরই পুষ্টিগুণে ভরপুর এক ফল।

 


অরবরই দৃষ্টিনন্দন এক অপূর্ব ফলের নাম। তবে এলাকাভেদে এর রয়েছে আরও কিছু নাম। যেমন ফলসা, নলতা, লেবইর, লবণী, ফরফরি, নোয়েল, রয়েল, রুয়াল, হরিফল, আলবরই। ইংরেজি নামটাও কিন্তু বেশ ! 'Star Goose berry.' 

নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় অরবরইকে অরকুডুলি বলে। গাছের ডালে বিন্দু-বিন্দু গোল-গোল ফল। অনেক গুলো ফল থোকায় থোকায় একত্রে থাকে। গাছের নিচ থেকে জটলা পাকিয়ে থাকার এই সৌন্দর্যটুকু সবার দৃষ্টি কাড়ে। কাছে যেতে ইচ্ছে হয়! গাছের ডালে ডালে ছুটে বেড়ানো ফলপ্রেমী কাঠবিড়ালি ও পাখি এর দেখা পেলে গাছের সঙ্গ সহজে ছেড়ে যেতে চায় না। এর ফুলের রং লালচে। ফল দেখতে গোলাকার,পাঁচ ছয়টা খণ্ড বা ভাঁজ দেখা যায়, পাকলে হালকা হলদে রং ধারণ করে। আমাদের দেশে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট এলাকায় উঁচু ভূমিতে ও বাড়ির ভিটায় এদের বেশি দেখা যায়। সারাবিশ্বে অরবড়ই গাছ লাগানো হয় সৌন্দর্য-বৃক্ষ হিসেবে।


গুণাগুন: এই ফল প্রচুর ভিটামিন সি ও পানি সমৃদ্ধ। ফলে বেশি তৃষ্ণার্ত থাকলে এটা খেলে তৃষ্ণা নিবারিত হয়। হাম, জন্ডিস, বসন্ত রোগে এই গাছের ব্যবহার বাংলার পল্লীঅঞ্চলে আবহমান কাল থেকে প্রচলিত।

এর প্রধান রাসায়নিক পদার্থ হচ্ছে, এস্করবিক এসিড, ফাইটো স্টেরোল ও স্যাপনিন। ভারতীয় বনৌষধি মতে, এর ফল ক্ষুধার উদ্রেক করে, লিভারের এক উপকারী টনিক সর্দি কাশিতে এর নির্যাস ব্যবহৃত হয়। চীন ও থাই ভেষজে অরবরই ওষুধের এক মূল্যবান উপাদান। অরবড়ইয়ের রস ভিনেগার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

জ্বর উপসমে ও চর্মরোগে পাতার নির্যাস ব্যবহৃত হয়। টক স্বাদের পাকা অরবরই ঝাল-লবণ দিয়ে মাখিয়ে খেতে ভীষণ মজা লাগে। এছাড়া এটা দিয়ে আচার, জুস, জেলি, চাটনি ইত্যাদি তৈরি করা হয়। অনেকে এটা দিয়ে চমৎকার টক রান্না করেন বা ভর্তা তৈরি করেন। ঠান্ডায় এর ভর্তা বা সিদ্ধ করে এর রস খেলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। এছাড়াও অরবরই ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি ও চুলের খুশকি দূর করে চুল মজবুত করতে সাহায্য করে। শ্বাসযন্ত্রের রোগ চিকিৎসার জন্য বেশ উপকারি একটি ফল। ডায়বেটিস রোগীরা আচার বা জুস বানিয়ে খেলে ভালো উপকার পাবেন। কৃমিনাশক হিসেবে এই ফলের বীজ ব্যবহার করা হয়। জলপাই ও বরই এর মতো অরবরইও আচার বানিয়ে ফ্রিজে নরমালে রাখা যায় এক বছর। তবে প্রতি মাসে একবার রোদে দিতে হবে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ