সহকারী শিক্ষক
১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০২:৩৫ অপরাহ্ণ
পিরামিড নির্মাণের সময়ে ব্লকগুলোর ওজন স্থানান্তর সহজ করতে ভিজে বালির ওপর টেনে আনা হত।
ভিজে বালি দিয়ে টেনে আনলে, ঘর্ষণ কমে যায় এবং ব্লকগুলোকে আরও কম শক্তিতে টানা সম্ভব হয়। মিশরীয়দের জ্ঞানের এই সূক্ষ্মতাকে আজকের বিজ্ঞানীরাও বিস্ময়কর মনে করেন, কারণ এই কৌশল আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের মূলনীতিগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অন্যদিকে, পিরামিডের গঠন দেখে ধারণা করা হয় যে, মিশরীয়দের তখনকার সময়ে জ্যামিতি এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ে গভীর জ্ঞান ছিল। পিরামিডের প্রতিটি দিক প্রায় নিখুঁতভাবে চারটি কার্ডিনাল দিক—উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব এবং পশ্চিম—এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি করার জন্য, মিশরীয়রা আকাশের নক্ষত্রের চলন এবং সূর্যের অবস্থানের ভিত্তিতে জটিল হিসাব করেছিল, যা একধরনের প্রাচীন অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সাইন্টিফিক পদ্ধতি বলে ধরা হয়।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে যে, পিরামিডের ভিতরের কিছু চেম্বার এবং প্যাসেজ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে পিরামিডের ভেতরে বায়ুপ্রবাহ বজায় থাকে। এটি শুধু নির্মাণশৈলীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় উষ্ণ আবহাওয়ায় পিরামিডের ভেতর ঠান্ডা রাখা সম্ভব হয়েছিল। অর্থাৎ, তারা বায়ু চলাচলের মাধ্যমে এক ধরনের প্রাচীন তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করতে পেরেছিল।
সবশেষে, পিরামিডের অভ্যন্তরে ব্যবহৃত কিছু ব্লকের নিখুঁত কাটা এবং বসানোর পদ্ধতি দেখে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, প্রাচীন মিশরীয়রা হয়তো প্রতিসাম্য ও লেভেলিং মেকানিজম ব্যবহার করত। আধুনিক লেজারের মতো নিখুঁত যন্ত্র না থাকলেও, তারা এমন কিছু হাতিয়ার তৈরি করেছিল যা দিয়ে ব্লকগুলো একেবারে নির্ভুলভাবে বসানো সম্ভব হয়েছে।
১
১ মন্তব্য