সহকারী শিক্ষক
১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০৮:৩০ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর শ্রেণিকক্ষে ব্যবহার উপযোগী অংশগ্রহনমূলক পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়োগের দক্ষতা অনুসন্ধান এবং শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা প্রদানের কৌশল অনুশীলন
ভুমিকা: আধুনিক শিক্ষণ-শিখন কার্যক্রমে অংশগ্রহণমূলক শিক্ষাদান পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা সর্বজন বিদিত। এই পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম সহজ ও প্রাণবন্তহয়। একঘেয়েমী দূর হয়। শিখন দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকর হয়। এই পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে একজন শিক্ষকের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং শিক্ষার্থীরা হয় আত্মপ্রত্যয়ী। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জ্ঞান, ধারণা ও জ্ঞানের পারস্পরিক আদান-প্রদান করতে পারে। সর্বোপরি শিক্ষাদানের অনুকুল পরিবেশ গঠনে সহজ হয়।
শেণিকক্ষে ব্যবহার উপযোগী অংশগ্রহনমূলক পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়োগের দক্ষতার প্রধান ক্ষেত্রসমুহ:
*শিক্ষাকের পেশাগত দক্ষতাঃ শিক্ষকের পেশাগত দক্ষতার ক্ষেত্রে অনেক বড়। তবে সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে শ্রেনিকক্ষে অংশগ্রহনমূলক পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষকের পেশাদারিত্বকে শিক্ষাকের ভাববঙ্গি, শৃঙ্খলাবোধ ও বিষয়ভিত্তি জ্ঞান এই ৪টি উপক্ষেত্রের আওতায় আনা যেতে পারে।
*শিক্ষকের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনাঃ শিক্ষাক্রেমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে এবং সে অনুযায়ী প্রস্ততি নেওয়ার দক্ষতা থাকতে হবে। এর আওতায় পড়ে পাঠ পরিকল্পনা ও পূর্ব প্রস্তুতি।
* পাঠ পরিকল্পনাঃ পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়নের দক্ষতা একজন শিক্ষকের জন্য অপরিহার্য শিক্ষাক্রমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।
*যোগাযোগ দক্ষতাঃ অংশগ্রহনমূলক পদ্ধতি ও কৌশল ব্যবহারে যোগাযোগ দক্ষতা গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা সঠিকভাবে যোগাযোগ করতে না পারলে শিখনফল অর্জন সম্ভব হবে না।
*আন্তব্যক্তিক দক্ষতাঃ শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আন্তঃব্যক্তি দক্ষতা অর্জন করানোর যোগ্যতা থাকতে হবে।
*বিশ্লেষণমূলক চিন্তন দক্ষতাঃ অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি ও কৌশল ব্যবহার করে শিখন শিখানো কাজ পরিচালনায় কখনও কখনও সমস্যা সমাধান বা সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে হয়।
*আচারণ সম্পর্কিত দক্ষতাঃ শিক্ষার্থীদের মনত্বত্ত্ব বুঝে সে অনুযায়ী পদ্ধতি, কৌশল ব্যবহার করলে এবং শিক্ষার্থীদের সাথে আচরণ করলে শিখন-শেখানো কার্যকর, ফলপ্রসূ ও সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করা সহজ হবে।
*শিক্ষার্থীদের পাঠে অংশগ্রহন করানোর দক্ষতাঃ শিক্ষার্থীদের পাঠে অংশগ্রহন করানোর দক্ষতার ওপর অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি ও কৌশল ব্যবহারের সফলতা নির্ভর করে।
* একীভূতকরনের দক্ষতাঃ শিক্ষকগণ অনেক সময় নিজের অজান্তেই বা অনিচ্ছাকৃতভাবেই যারা সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে ভিন্ন তাদের দিকে সাড়া প্রদান করেন না বা তাদের এড়িয়ে যান।
* প্রশ্নকরণের দক্ষতাঃ শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করা এবং তাদের প্রশ্ন করতে সুযোগ প্রদান শিখন-শেখানো প্রক্রিয়ার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের একটি উপায়।
* ব্যবস্থাপনার দক্ষতাঃ ব্যবস্থাপনার উপর অংশগ্রহনমূলক শিখন-শেখানো পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়োগের যথার্থতা নির্ভারশীল। ব্যবস্থাপনার আওতায় রয়েছে অনেক উপক্ষেত্র।
* বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট উপকরণ চিহ্নিতকরণ, সংগ্রহ ও সময়োপযোগী ব্যবহার দক্ষতাঃ কোন বিষয়বস্তু ও কোন পদ্ধতির জন্য কী ধরনের উপকরণ ব্যবহার উপযোগী তা চিহ্নিতকরণ ও সংগ্রহ করার দক্ষতা শিক্ষকের থাকতে হবে।
* শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করার দক্ষতাঃ শিখনের সাফল্য কেবল একটি মাত্র পরীক্ষার দ্বারা বা পিরিয়ডের শেষের দিকে কয়েকটি গতানুগতিক প্রশ্নের মাধ্যমে পরিমাপ করা যায় না। অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি ও কৌশলের মাধ্যমে পরিচালিত শিখন যাচাইয়ের জন্য ধারাবাহিক মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন।
* শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা প্রদানের কৌশল অনুশীলন (সুস্পষ্টতা, ধারাবাহিকতা, লিখিত ও মৌখিক) : শ্রেণিকক্ষে শিখন-শেখানো কার্যক্রম পরিচালনা করার সময় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাঝেই শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা প্রদান করা প্রয়োজন হয়। এসব নির্দেশনা পাঠ সংশ্লিষ্ট বা কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ও শ্রেণি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিক্ষণে শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট কোন কাজ দেওয়া বা প্রশ্ন করার দরকার হয়। শিক্ষার্থীদের যে নির্দেশনাই দেওয়া হোক না কেন তা সুস্পষ্ট হতে হবে এবং কার্যক্রম সুষ্ঠভাবে পরিচালনার জন্য নির্দেশনার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা প্রয়োজন। কেননা নির্দেশনা স্পষ্ট কিন্তু কোনটির পর কোনটি হবে তা যদি ক্রম অনুযায়ী না থাকে তাহলে তা অকার্যকর হতে পারে। এই নির্দেশনাসমুহ মৌখিক হতে পারে আবার লিখিত হতে পারে। নির্দেশনা একটি বড় আকার বা কিছুটা জটিল প্রকৃতির হলে তা লিখিত হওয়া বাঞ্ছনীয়।
সুষ্পষ্ট নির্দেশনাঃ সহজ অনুসরণযোগ্য নির্দেশনা থেকে সকল শিক্ষার্থী উপকার পায়। সুস্পষ্ট নির্দেশনা বিভিন্ন প্রকার প্রতিবন্ধি এবং অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অধিকতর গুরুত্বপূর্ন। সে কারণে শিক্ষককে সুনির্দিষ্ট, সুস্পষ্ট এবং দুবোধ্য নয় এমন নির্দেশনা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। নির্দেশনা প্রদানে দুর্বোধ্য ও দ্ব্যর্থক শব্দ ও বাক্য পরিহার করতে হবে। শিক্ষক শ্রেনিতে যে নির্দেশনা প্রদান করেন তা অনেক সময় শ্রেনির সকল শিক্ষার্থীর নিকট বোধগম্য নাও হতে পারে। তাই শিক্ষকের উচিত নির্দেশনার ধারাবাহিকতাঃ শিখন-শেখানো কার্যক্রম সুষ্ঠভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষকের নির্দেশনা স্পষ্ট হওয়ার সাথে সাথে নির্দেশনার বিভিন্ন অংশের মধ্যে যদি ধারাবাহিকতা না থাকে তাহলে শ্রেণিতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে এবং উদ্দেশ্য অনুযায়ী কাজটি সফল না হওয়ার সম্ভবনা থাকে। কাজেই নির্দেশনার ক্ষেত্রে শিক্ষককে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। আগের কাজ পরে এবং পরের কাজ আগে করতে বললে শিক্ষার্থীদের বুঝতে অসুবিধা হবে এবং কাজটি ফলাফল হবে অপ্রত্যাশিত ও উদ্দেশ্যের সাথে সঙ্গতিবিহীন। তাছাড়া শিক্ষক যদি প্রথমে একটি কাজের নির্দেশনা দিয়ে পরক্ষণেই অন্য একটি নির্দেশনা পরিবর্তন করতে হলে সেটাও সুস্পষ্ট হতে হবে এবং নির্দেশনার মধ্যে ধারাবাহিকতা থাকতে হবে।
লিখিত ও মৌখিক নির্দেশনাঃ লিখিত ও মৌখিক এ দুটি মূলত নির্দেশনা প্রদানের ধরন বা প্রক্রিয়া। অর্থাৎ নির্দেশনার সুস্পষ্টতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নির্দেশনা লিখিত বা মৌখিকভাবে দেওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে লিখিত ও মৌখিক নির্দেশনা প্রদানে সুস্পষ্টতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। যখন কোন নির্দেশনা মুখে কথা বলার মাধ্যমে প্রদান করা হয় তাকে মৌখিক নির্দেশনা বলা হয়। আবার যখন কোন নির্দেশনা লিখিতভাবে বা কোন ছবি বা গ্রাফের মাধ্যমে বা শব্দ, ছবি, চিত্র ইত্যাদি বিশ্লেষন করার জন্য দেওয়া হয় তখন তাকে লিখিত নির্দেশনা বলে। একটু বড় আকারের বা কোন জটিল বিষয় বিশ্লেষন করার জন্য লিখিত নির্দেশনা প্রয়োজন হয়। পরিকল্পনা করে সেমতে লিখিত নির্দেশনা প্রদান করলে শিক্ষার্থীদের বুঝতে সুবিধা হয়। আবার কখনও কখনও লিখিত নির্দেশনাকে অধিকতর স্পষ্ট করার জন্যও মৌখিক নির্দেশনা প্রদান করতে হয়।
উপসংহারঃ শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহনমূলক পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষককে নানা রকম সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়। এ জন্য মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের জানা উচিত আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কোন কোন অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়োগ উপযোগী। প্রয়োগ উপযোগী এ সকল পদ্ধতি ও কৌশল ও কৌশল ব্যবহার করে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করতে শিক্ষকের কিছু সুনির্দিষ্ট দক্ষতা অর্জন করার প্রয়োজন হয়। আবার শ্রেনিকক্ষে শিক্ষণ কাজে শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের নির্দেশনা প্রদান করতে হয়। এ সকল নির্দেশনা যদি স্পষ্ট না হয় এবং ধারাবাহিকতা না থাকে তাহলে শ্রেণি কার্যক্রম অকার্যকর হয়েযেতে পারে। এ সকল নির্দেশনা লিখিত হতে পারে আবার মৌখিকও হতে পারে।
তথ্য সূত্র বা রেফারেন্স
# পাঠ্য বই ‘শিখন-শেখানো দক্ষতা ও কৌশল (EDBN-1402)
# শিক্ষক বাতায়ন ওয়েবসাইট
# শিক্ষাসংক্রন্ত বিভিন্ন অনলাইন ব্লগ ইত্যাদি
৭
৬ মন্তব্য