আজ ১৪ নভেম্বর ২০২৪ ফেয়ার‘র আয়োজনে এবং বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন এর সহায়তায় কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে সকাল ১১টায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান শিক্ষার উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বিজ্ঞান ক্লাবসমূহের স্থায়ীত্বকরণ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
ফেয়ার এর ভাইস চেয়ারম্যান তাজনিহার বেগম এর সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত
ছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম শীল এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো: আমিরুল ইসলাম এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম আহমেদ খান। এছাড়াও সেমিনারে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় অবস্থিত বিভিন্ন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধানগণ, বিজ্ঞান ক্লাবের প্রতিনিধি, মিডিয়াকর্মীসহ ফেয়ার এর নির্বাহী পরিষদের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনের জন্য বিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞানাগার ও কম্পিউটার ল্যাব ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় আমাদের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিজ্ঞান শিক্ষা ছাড়া জাতির অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই আমাদের বিদ্যালয়গুলোতে ব্যবহারিক ক্লাস বৃদ্ধি করতে হবে।”
সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফেয়ার-এর পরিচালক দেওয়ান আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, “আজকের এই সেমিনার এর মাধ্যমে বিজ্ঞান ক্লাবগুলোকে কিভাবে স্থায়ীত্বশীল করা যায় সে বিষয়ে আলোকপাত করবো। আমাদের লক্ষ্য হলো বিদ্যালয় পর্যায়ে বিজ্ঞান চর্চার সুযোগ ও সুবিধা বৃদ্ধি করা এবং শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ে আরও আগ্রহী করে তোলা।
তিনি আরও বলেন, “বিজ্ঞান শিক্ষা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত অগ্রগতির জন্য নয়, বরং সমগ্র জাতির উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। আমাদের প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা চাই, প্রতিটি বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ক্লাবগুলো কার্যকরভাবে কাজ করুক এবং শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে বিজ্ঞান শিখে বাস্তব জীবনে তার প্রয়োগ করতে শিখুক।”
এছাড়াও সেমিনারে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। শিক্ষকগণ বলেন, “ফেয়ার-এর উদ্যোগের ফলে আমাদের বিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞান শিক্ষার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে। বিজ্ঞানাগার, আধুনিক প্রযুক্তি সরঞ্জাম এবং বিজ্ঞান ক্লাবগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে বিজ্ঞান চর্চার সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের বিজ্ঞানের প্রতি ভয় দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তারা আরও বলেন, “বিজ্ঞান আমাদের প্রতিটি কাজকে সহজ করে দিয়েছে এবং মেধার সাথে বিজ্ঞানের সমন্বয় ঘটিয়ে আমরা অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারি। ফেয়ার-এর নিরলস প্রচেষ্টায় আমাদের শিক্ষার্থীরা এখন বিশ্বমানের জ্ঞান অর্জন করতে পারছে, যা ভবিষ্যতে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। তাই এই ধরণের প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের চর্চা বাড়াতে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”সেমিনারে শিক্ষকগণ ফেয়ার এবং বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনকে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে অবদান রাখার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
সেমিনারে বক্তব্য রাখেন, হরিনারায়নপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: একরামুল হোসেন, লক্ষীপুর হাসানবাগ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুল আলম, দিনমণি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালাউদ্দিন খান, ঝাউদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার বিশ্বাস।
সেমিনারে উপস্থিত সাংবাদিক হাসান আলী, শরীফ বিশ্বাসসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ফেয়ার এবং বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনকে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে অসামান্য অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “ফেয়ার-এর উদ্যোগে বিজ্ঞান শিক্ষার অগ্রগতি আমাদের সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ভুমিকা রাখছে। শিক্ষার্থীরা এখন আরও আগ্রহের সঙ্গে বিজ্ঞান চর্চা করছে এবং এ ধরণের প্রকল্প তাদের বিজ্ঞান বিষয়ে সৃজনশীল ভাবনার বিকাশে সহায়তা করছে।”
বিজ্ঞান ক্লাবের প্রতিনিধিরা সেমিনারে উপস্থিত থেকে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন । আব্দালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গ্যালিলিও সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি মো: আব্দুল্লাহ আল মাহীন, বেগম হামিদা সিদ্দিক স্কুল এন্ড কলেজের রাদারফোর্ড সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি নুসরাত জাহান সারমিন, এবং বারখাদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ডিসকভারি সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি মো: জুবায়ের ইসলাম উপস্থিত ছিল। এসময় তারা বিজ্ঞান ক্লাব পরিচালনা ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের কৌশল তুলে ধরে।
সেমিনারে শুরুতে মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতির বিভিন্ন দিকসহ প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ফেয়ার কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ৩০টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান শিক্ষার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যা শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ভীতি দূর করে তাদের বিজ্ঞানমনস্ক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে।
৬৪
১০০ মন্তব্য