ঢাকা শিক্ষাবোর্ড অফিস। যেখানে নাম-বয়স সংশোধনের আরেক নাম ভোগান্তি। অধিকাংশ ভুলের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেরানী বা সংশ্লিষ্টরা দায়ী হলেও কখনও দিনের পর দিন আবার কখনও বছরের পর বছর ধরে বোর্ডে ধরনা দিতে হয় ভুক্তভোগীদের।
মাকসুদুর রহমান। সনদপত্রে বাবার নামের ভুল সংশোধন করতে প্রায় তিন বছর আগে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে অনলাইনে আবেদন করেছিলেন। দফায় দফায় ধরনা দিয়েও কোনো সমাধান না পেয়ে এবার এসেছেন শেষ চেষ্টায়।
তিনি বলেন, এক মাস পরে অফিসে আসার পর বলেছে, অপেক্ষা করেন কল করবে। দুমাস পর গেলাম একই কথা। এভাবে ছয় মাস আসা যাওয়া করেছিলাম। কিন্তু কাজ হয়নি। অবশেষে ৩ বছর পর এলাম।
শুধু মাকসুদ নন, হাজারেও মানুষ নাম-জন্ম তারিখ কিংবা বাবা মায়ের নাম সংশোধন করাতে এসে শিকার হচ্ছেন ভোগান্তির।
অনেক সময় শুনানিতে হাজির হওয়ার খুদে বার্তা এলেও লিস্টে থাকে না নাম। তাই এদিক-ওদিক ঘুরে কোনো কুল-কিনারা না পাওয়ায় আটকে আছে বিদেশ যাত্রাসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজও।
শুধু নাম, বয়স সংশোধন নয়, সনদ ও নম্বরপত্র ভেরিফিকেশেনেও আছে দীঘর্সূত্রতা। জরুরি কাজের ফি জমা দিয়েও ঘুরতে হয় দিনের পর দিন। তবে টাকা দিলেই কাজ হয় সময়ের আগে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, অনেক সময় জন্ম নিবন্ধনসহ সঠিক কাগজপত্র দিলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেরানীদের অসর্তকতায় রেজিস্ট্রেশন কার্ড, প্রবেশপত্র, সনদ ও নম্বরপত্রে ভুল হয়। তবে সেই কেরানীরাই আবার সংশোধনের জন্য ঘুষের ফাঁদ পাতেন।
নাম ও বয়স সংশোধন করে দেয়ার বিনিময়ে ঘুষ চাওয়ার অডিও ও অভিযোগ এসেছে সময় সংবাদের হাতে। অডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, একটা খরচ দিতে বলছি। দিলে তদবির করে আগেভাগে দিতে পারবো।
আরেকজন কত দেয়া লাগবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, টাকা ৫ হাজার লাগবে।
যাচাই করে দেখা যায় ভুক্তভোগীর কাছে যে নম্বর থেকে ঘুষ চাওয়া হয় তা বোর্ডের সেকশন কর্মকর্তা বাবুল আকন্দের। কক্ষে গিয়ে জানা যায়, সদ্য অবসরে গেছেন তিনি। তবে মোবাইল ফোনে ঘুষের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তা অস্বীকার করেন বাবুল।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, একদিনে যে পরিমাণ আবেদন জমা হয়, তা যাচাই-বাছাই করে নিষ্পত্তি করতে এক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হয়। তাই দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে জরুরি হলে আমাদের জানালে তা আমরা পরদিন সভা ডেকে কাজটা দ্রুত নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করি।
যেসব কর্মকর্তা ঘুষসহ দুর্নীতিতে জড়াবে তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলছেন এই চেয়ারম্যান।
৪
৭ মন্তব্য