সহকারী শিক্ষক
১৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০৬:২৬ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
অধ্যয়ন ছুটি (Study Leave)
সরকার কর্তৃক আরোপিত শর্ত মোতাবেক অথবা কলেজ পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কোন বিষয়ে অধ্যয়নের জন্য অধ্যয়ন ছুটি মঞ্জুর করা যায়। সরকারী বা পরিচালনা পরিষদের মনোনয়নক্রমে বি.এড. বি.পি.এড. এম, এড ইত্যাদি কোর্সে ভর্তির সুযোগ থাকলে প্রশিক্ষণবিহীন জ্যেষ্ঠত শিক্ষক সংশ্লিষ্ট কোর্সে ভর্তির জন্য মনোনয়ন প্রাপ্তির যোগ্য বলে গণ্য হবেন। সরকার/কলেজ পরিচালনা পরিষদ যদি মনে করে যে, কোন প্রভাষক/সহকারী অধ্যাপক/ সহযোগী অধ্যাপক কোন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী (এম.ফিল. পি.এইচ. ডি ইত্যাদি) লাভ করলে তাঁর পেশাগত জ্ঞান এবং দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে তাহলে তাঁর অধ্যয়ন ছুটি মঞ্জুর করতে পারে। ছুটিপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষক এ মর্মে অঙ্গীকার প্রদান করবেন যে অধ্যয়ন শেষে তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ৫ (পাঁচ) বৎসর চাকুরি করবেন।
অধ্যয়ন ছুটির শর্তাবলী
১। একমাত্র সরকার/কলেজ পরিচালনা পরিষদই অধ্যয়ন ছুটি মঞ্জুর করতে পারে।
২। অধ্যয়ন ছুটির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বা বাইরে অর্ধগড় বেতনে অতিরিক্ত ছুটি (Extra leave) নেওয়া যাবে। যেসব শিক্ষকের চাকুরি ৫ (পাঁচ) বছর পূর্ণ হয় নাই তাদেরকে অথবা ৩ (তিন) বছরের মধ্যে অবসর গ্রহণের কথা রয়েছে এমন শিক্ষককে অথবা ২৫ (পঁচিশ) বৎসর চাকুরি করার পর কোন শিক্ষকের অবসর গ্রহণের কথা থাকলে উক্ত ২৫ (পঁচিশ) বছর
চাকুরি সমাপ্ত হবার ৩ (তিন) বছর সময়কালের মধ্যে অথবা যে সব শিক্ষক আনুপাতিক পেনশনে সহসাই অবসর গ্রহণ (About to retire) করবেন তাদেরকে সাধারণভাবে অধ্যয়ন ছুটি মঞ্জুর করা যাবে না।
৩। কেবলমাত্র চাকরির প্রয়োজনই অধ্যয়নে ছুটি মঞ্জুর করা যাবে। এক সাথে ১২ (বারো) মাস পর্যন্ত অধ্যয়ন ছুটিই সর্বাধিক সন্তোষজনক পরিমাণ বিবেচিত হবে এবং ব্যতিক্রমধর্মী কোন কারণ না থাকলে উক্ত ছুটির মেয়াদ ১২ (বারো) মাসের বেশি বর্ধিত করা যাবে না। কোনক্রমেই একজন শিক্ষককে তাঁর সারাজীবন চাকুরিকালীন সময়ের জন্য ২ (দুই) বছরের বেশি অধ্যয়ন ছুটি মঞ্জুর করা যাবে না অথবা এমন সময়ের ব্যবধানে এই ছুটি মঞ্জুর করা যাবে না যাতে তাঁর দৈনন্দিন কর্মের সাথে যোগাযোগ রহিত হয় এবং ছুটিজনিত অনুপস্থিতির কারণে ক্যাডারে নানা জটিলতার অবতারণা ঘটে। এই ২ (দুই) বৎসর অধ্যয়ন ছুটির সাথে অসাধারণ ছুটি অথবা মেডিকেল প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে প্রদত্ত ছুটি ছাড়া ৪ (চার) মাস পর্যন্ত অন্য যে কোন প্রকার ছুটি একত্রে প্রদান করা যেতে পারে। এই ৪ (চার) মাসের সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর অর্থাৎ একজন শিক্ষকের নিয়মিত কর্ম হতে (২৪ + ৪) = ২৮ মাস অনুপস্থিতির প্রশ্ন জড়িত থাকলে সেক্ষেত্রে উক্ত সময়ের অতিরিক্ত ছুটি অসাধারণ ছুটি অথবা মেডিকেল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে ছুটি বলে গণ্য হবে। তবে শর্ত থাকে যে, বি এস আর পার্ট-১ এর বিধান মোতাবেক সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর সামগ্রিক অনুপস্থিতি কোনক্রমেই ৫ (পাঁচ) বছরের অধিক হবে না।
৪। পেনশন ও পদোন্নতির জন্য চাকরিকাল গণনায় অধ্যয়ন ছুটিকে কর্মরত বলে গণনা করা হবে। ইতিমধ্যে একজন শিক্ষক অন্য যেসব ছুটি বিধি মোতাবেক প্রাপ্ত হয়েছেন অধ্যয়ন ছুটি উহাকে কোনরূপ প্রভাবিত করবে না। এই ছুটি অর্ধ-গড় বেতনে অতিরিক্ত ছুটি হিসাবে গণ্য হবে কিন্তু অর্ধ-গড় বেতনের ছুটির সর্বসাকুল্যে হিসাবের মধ্যে ইহা অন্তর্ভুক্ত হবে না।
৫। এই প্রকার ছুটির একজন শিক্ষক ছুটিকালীন সময়ে শিক্ষা ভাতা পাবেন এবং অতিরিক্ত ৪ (চার) মাস ছুটির জন্য অৰ্ধ-গড় বেতনে ছুটিকালীন বেতন প্রাপ্য হবেন।
৬। অধ্যয়ন ছুটির প্রতিটি আবেদন নিরীক্ষা কর্মকর্তার সার্টিফিকেটসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দাখিল করতে হবে এবং সে কোর্সে বা পরীক্ষার অংশগ্রহণ করতে যেন, উহার পূর্ণ বিবরণ দিবেন।
৭। কোর্সের ফি সংশ্লিষ্ট কর্মচারী নিজে বহন করবেন। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ তা বিবেচনাপূর্বক প্রদান করতে পারেন।
৮। কোর্স সমাপ্তিতে উহার সার্টিফিকেট সরকার/পরিচালন পরিষদের নিকট দাখিল করতে হবে।
৯। অধ্যয়ন ছুটিকাল পদোন্নতি ও পেনশনের জন্য কর্মকাল হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু “ছুটি হিসাব” এর জন্য কর্মকাল হিসেবে গণনাযোগ্য নয়। এই ছুটি ইতোমধ্যে জমাকৃত ছুটি হতে বাদ যাবে না। এই প্রকার ছুটি অর্ধ-গড় বেতনে অতিরিক্ত ছুটি হিসাবে গণ্য হবে। তবে পাওনা অর্ধ-গড় বেতনের ছুটি হতে বাদ যাবে না।
১০। অডিট রুলিং (এফ আর ৮৪) এর বিধান মোতাবেক কোন কর্মকর্তার ৫ (পাঁচ) বৎসরের চেয়ে কম চাকরি হলে তাকে অধ্যয়ন ছুটি মঞ্জুর করা ছুটি মঞ্জুরীর ক্ষমতাসম্পন্ন কর্তৃপক্ষের ইচ্ছাধীন। অর্থাৎ ছুটি মঞ্জুরীর ক্ষমতাসম্পন্ন কর্তৃপক্ষ তার নিয়ন্ত্রণাধীন কোন শিক্ষককে তাঁর ৫ (পাঁচ) বৎসরের কম চাকুরি থাকলেও অধ্যয়ন ছুটি মঞ্জুর করতে পারেন।
১১। অধ্যয়ন ছুটির সাথে সংযুক্তভাবে অন্য প্রকার ছুটির ২৮ (আটাশ) মাসের অনুপস্থিতির মধ্যে কোন বন্ধ থাকলে তা উক্ত ছুটির অন্তর্ভুক্ত হবে।
১২। কোন নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত অধ্যয়ন ছুটি মঞ্জুর করার পরবর্তী পর্যায়ে যদি দেখা যাযকোর্সটি ঐ মঞ্জুরকৃত মেয়াদের পূর্বেই সমাপ্ত হইয়াছে, তাহা হলে ঐ অতিরিক্ত সময় মঞ্জুরকৃত অধ্যয়ন ছুটি হতে বাদ যাবে, যদি না তিনি মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষের নিকট হতে ঐ অতিরিক্ত সময় সাধারণ ছুটি হিসাবে গণ্য করার অনুমতিগ্রহণ করেন।
১৩। অধ্যয়ন ছুটির প্রতিটি আবেদন নিরীক্ষা কর্মকর্তার সার্টিফিকেটসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দাখিল করতে হবে এবং যে কোর্সে বা পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন, উহার পূর্ণ বিবরণ দিবেন।
১৪। কোর্সের ফি সংশ্লিষ্ট কর্মচারী নিজে বহন করবেন। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ তা বিবেচনারপূর্বক প্রদান করতে পারেন।
১৫। কোর্স সমাপ্তিতে উহার সার্টিফিকেট কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করতে হবে।
১৬। অধ্যয়ন ছুটি ভোগকালে অর্ধ-গড় বেতনে ছুটিকালীন বেতন প্রাপ্য।
নোট : অধ্যয়ন ছুটির সাথে একত্রে অন্যান্য ছুটির ২৮(আটাশ) মাসের অনুপস্থিতির মধ্যে কোন বন্ধ থাকলে তা উক্ত ছুটির অন্তর্ভুক্ত হবে।
১৩
১৯ মন্তব্য