Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০৯:০৩ অপরাহ্ণ

দেনমোহর নির্ধারণ যেভাবে সহজ করতেন নবীজি

রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে সাহাবায়ে কেরাম তেমন ধনবান ছিলেন না। যারা ছিলেন তারা পরস্পর সহযোগিতায় সম্পদ ব্যয় করতেন। তাই নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেনমোহর নির্ধারণ সহজ করতেন।

একই কারণে বিয়ের আয়োজন যত কম ব্যয়বহুল হবে তত বরকতময় বলেছেন। তারপরও তিনি একটি ছাগল দিয়ে হলেও যেন ওলিমার আয়োজন করা হয় সেই নির্দেশনা দিয়েছেন পাত্রকে।

 
দেনমোহর কতটা সহজ করতেন তিনি (স.) তা নিয়ে বিভিন্ন হাদিস থাকলেও এখানে একটি হাদিস উল্লেখ করা হলো। হাদিসটি হজরত সাহল ইবনে সাদ (রা.)-এর বরাতে বর্ণিত হয়েছে।
 
এক নারী রসুলুল্লাহ (স.)-এর কাছে এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রসুল, আমি আমার জীবন আপনার হাতে সমর্পণ করতে এসেছি।’ নবীজি (স.) তার দিকে তাকিয়ে সতর্ক দৃষ্টিতে তার আপাদমস্তক দেখলেন। তারপর মাথা নিচু করে রইলেন। ওই নারী যখন দেখলেন রসুলুল্লাহ (স.) কোনো ফয়সালা দিচ্ছেন না, তখন তিনি বসে পড়লেন।
সাহাবিদের মধ্য থেকে একজন দাঁড়িয়ে তখন বললেন, ‘হে আল্লাহর রসুল, যদি আপনার বিয়ের প্রয়োজন না থাকে, তবে আমার সঙ্গে এই নারীকে বিয়ে দিয়ে দিন।’ রসুলুল্লাহ (স.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার কাছে কী আছে?’ সাহাবিটি উত্তর দিলেন, ‘হে আল্লাহর রসুল, আমার কাছে কিছুই নেই।’
 
রসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘তুমি তোমার পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে গিয়ে দেখ, কিছু পাও কি না।’ সাহাবি চলে গেলেন। ফিরে এসে বললেন, ‘আল্লাহর কসম, আমি কিছুই পাইনি।’ রসুলুল্লাহ (স.) তখন বললেন, ‘আবার গিয়ে লোহার একটি আংটিও পাও কিনা দেখো।’
 
সাহাবি আবারও ফিরে গেলেন। এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রসুল, তা-ও পেলাম না। এই আমার বস্ত্র। শুধু এটাই আছে।’ তার কাছে কোনো চাদরও ছিল না। লোকটি তার অর্ধেক নারীটিকে দিতে চাইলেন।
 
রসুলুল্লাহ (স.) বললেন, ‘তোমার বস্ত্র দিয়ে সে কী করবে? তুমি যদি এটি পরো, তাহলে তার কোনো কাজে আসবে না; আর যদি সে পরে, তাহলে তোমার কোনো কাজে আসবে না।’
 
সাহাবিটি বেশ কিছুক্ষণ নীরবে বসে থাকলেন। এর পর উঠে দাঁড়িয়ে চলে যেতে উদ্যত হলেন। নবীজি (স.) তখন তাকে ডেকে এনে প্রশ্ন করলেন, ‘তোমার কি কোরআন মুখস্থ আছে?’ তিনি বললেন, ‘অমুক অমুক সুরা আমার মুখস্থ।’
 
রসুলুল্লাহ (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘এগুলো কি তোমার মুখস্থ।’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’ রসুলুল্লাহ (স.) তখন বললেন, ‘যে পরিমাণ কোরআন তোমার মুখস্থ আছে, তার বিনিময়ে তোমার কাছে এই নারীকে আমি বিয়ে দিলাম।’ (বুলুগুল মারাম ৯৭৯)
 
এভাবে তাদের সহজে দেনমোহর নির্ধারণ করে বিয়ে হয়ে যায়। তবে এই হাদিস এই বার্তাও দেয় যে, যার সামর্থ্য আছে সে যেন ভালো মানের দেনমোহর নির্ধারণ করে। কেননা দেনমোহর একজন নারীর অধিকার।
 
নবীজির যুগে দেনমোহর কম ধরা হলেও সাহাবিদের যুগে অধিক পরিমাণে দেনমোহর ধার্য করা হতো। কারণ তখন তাদের সামর্থ্য বেড়ে গিয়েছিল। এজন্য দেনমোহর কম বা বেশি নির্ধারণের কোনো সীমা নেই। পাত্র ও পাত্রী পক্ষের মতামত ও সামর্থ্য অনুপাতে দেনমোহর নির্ধারণ করা উচিত। যাতে কারও ওপর জুলুম না করা হয়।


মন্তব্য করুন