Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০৯:০৬ অপরাহ্ণ

বক্তাদের নিয়ে নবীজি যা বলেছেন

দীনের দাওয়াত সর্বত্র পৌঁছে দেয়া পবিত্র কোরআন ও হাদিসের নির্দেশ। মানব জাতির মঙ্গলের জন্য মহান আল্লাহ অসংখ্য নবী-রসুল এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। নবী রসুলগণ মানবজাতির কাছে মহান আল্লাহর পরিচয় তুলে ধরে ইসলামের পথে দাওয়াত দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাওয়াতের নির্দেশ দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে রসুল! আপনার প্রতি যা ওহি আসে লোকদের কাছে পৌঁছে দেন।’ 

মহান আল্লাহ আরও বলেন, আর যেন তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল হয়, যারা কল্যাণের প্রতি আহ্বান করবে, ভালো কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে আর তারাই সফলকাম। (সুরা আলে ইমরান: ১০৪)হজরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে আছে, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার পক্ষ থেকে একটি মাত্র আয়াত হলেও তা মানুষের কাছে পৌঁছে দাও। আর বনী ইসরায়েলের বরাতে কথা বর্ণনা করতে পার, এতে কোনো ক্ষতি নেই। কিন্তু যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যা চাপিয়ে দেয়, সে যেন জাহান্নামে তার থাকার জায়গা নির্ধারণ করে নেয়। (তিরমিজি: ২৬৬৯)

 
হজরত আবু মাসউদ আনছারী (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি কল্যাণের পথ দেখাবে সে ব্যক্তি ঐ ব্যক্তির সমপরিমাণ সওয়াব পাবে, যে ঐ পথে চলবে। (মুসলিম, মিশকাত: ২০৯ক; ইলম অধ্যায়)
 
হজরত জারির (রা.) বলেন, নবীজি বলেছেন, যে ব্যক্তি দাওয়াতের মাধ্যমে ইসলামের একটি মৃত সুন্নত চালু করবে সে তার সওয়াব পাবে এবং ঐ সুন্নাতের প্রতি মানুষ আমল করে যত সওয়াব পাবে তাদের সমপরিমাণ সওয়াব তার আমলনামায় লেখা হবে, তবে তাদের কারও সওয়াব কম করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি ইসলামে কোন মন্দ আমল চালু করবে সে জন্য তার পাপ রয়েছে। আর ঐ মন্দ আমল করে যত লোক যে পরিমাণ পাপ অর্জন করবে সবার সমপরিমাণ পাপ তার আমলনামায় লেখা হবে, তবে তাদের কারো পাপ এতটুকুও কম করা হবে না। (মুসলিম, মিশকাত: ২১০; ইলম অধ্যায়)
 
হজরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) বলেন, আমি নবীজিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, মহান আল্লাহ ঐ ব্যক্তির মুখমণ্ডল উজ্জল করুক যে ব্যক্তি আমার কোনো হাদিস শুনে এবং যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবে অপরের নিকট পৌঁছে দেয়। কেননা অনেক সময় যার নিকট পৌঁছানো হয়, সে ব্যক্তি শ্রোতা অপেক্ষা অধিক জ্ঞানী হয়। (তিরমিজি মিশকাত:২৩০; ইলম অধ্যায়) এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে, দাওয়াত দানকারীর কল্যাণের জন্য নবীজি আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।
 
মহান আল্লাহ বলেন,
 

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ- كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ

 

অর্থ: হে মুমিনগণ! তোমরা যা কর না তা তোমরা কেন বল? তোমরা যা কর না তোমাদের তা বলা আল্লাহর দৃষ্টিতে অতিশয় অসমেত্মাষজনক (সুরা ছফ: ২-৩)
 
হজরত আনাস (রা.) বলেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 
 

যখন আমাকে মিরাজের রাতে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন আমি কতিপয় লোককে দেখলাম, যাদের ঠোঁট আগুনের কাঁচি দ্বারা কেটে দেয়া হচ্ছে। আমি বললাম, হে জিবরাইল! এরা কারা? তিনি বললেন, তারা আপনার উম্মতের বক্তাগণ, যারা মানুষকে ভাল কাজের জন্য আদেশ করত এবং নিজেদেরকে ভুলে যেত তারা কোরআন তেলাওয়াত করত। কিন্তু তারা চর্চা করত না। (তারগিব ওয়াত তারহীব: ২৩২৭)

 


হজরত ওসামা ইবনু যায়েদ (রা.) বলেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘এক ব্যক্তিকে কিয়ামতের দিন নিয়ে আসা হবে। তারপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এতে করে তার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যাবে। আর সে তা নিয়ে ঘুরতে থাকবে যেমনিভাবে গাধা আটা পিষা জাঁতার সাথে ঘুরতে থাকে। জাহান্নামীরা তার নিকট একত্রিত হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করবে, আপনি কি আমাদেরকে ভাল কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজের নিষেধ করতেন না? সে বলবে, হ্যাঁ। আমি তোমাদেরকে ভাল কাজের আদেশ করতাম, কিন্তু নিজেই তা করতাম না। আর খারাপ কাজ হতে তোমাদেরকে নিষেধ করতাম, কিন্তু আমি নিজেই তা করতাম।’ (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত: ৫১৩৯;  আদব অধ্যায়, সৎ কাজের নির্দেশ অনুচ্ছেদ)

মন্তব্য করুন