Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৯ নভেম্বর, ২০২৪ ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ

# শান্তিতে নোবেলজয়ী অশান্তি সৃষ্টি কারী কিছু প্রেসিডেন্ট

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর পৃথিবীময় অশান্তি ছড়িয়ে  দিয়েছিলেন এরকম অনেক নোবেল জয়ী আছেন, যার কারণে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার নিয়ে বিতর্কেরও যেন শেষ নেই । শান্তিতে ২০১৯ সালে নোবেল পুরস্কার পাওয়া ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ  নিজ দেশের তিগ্রে অঙ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন  । ইতিহাসে আবিই প্রথম শান্তিতে নোবেল পাওয়া অশান্তি সৃষ্টিকারী মানুষ নন, তার আগের সারিতে আরও অনেকে আছেন যারা নোবেলের ইমেজ রক্ষায় শান্তির দাবিতে যুদ্ধ করে অগণিত মানুষ হত্যা করেছেন । যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহনের মাত্র নয় মাস পরেই শান্তিতে নোবেল পেয়েছিলেন । কিন্তু কিছুদিন না যেতেই তার নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র বর্হিদেশে যুদ্ধে লিপ্ত হয় । টানা আট বছর আফগানিস্তান, ইরাক , সিরিয়া , লিবিয়া , ইয়ামেন , সোমালিয়া ও পাকিস্তানে যুদ্ধ চালান তিনি । 

এশিয়ায় শান্তিতে নোবেলজয়ী মিয়ানামারের গণতন্ত্রপন্থি নেএী আং সান সুচি । দেশটির রোহিঙ্গা জনগোষ্টির ওপর সামরিক নির্যাতন ও তাদের মানবধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আছে সুচির ওপর । অথচ তিনিই মিয়ানমারের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালানোর কারণে গৃহবন্দি থাকাকালীন শান্তিতে নোবেল পেয়েছিলেন । মিয়ানমারে শুধু রোহিঙ্গারাই নয়, আরও কয়েকটি জাতিগোষ্টির ওপর নিয়মতান্ত্রিক নির্যাতন চলছে, যাকে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম গৃহযুদ্ধ বলা হচ্ছে । ১৯৭৩ সালে ভিয়েতনামের লি দ্যুকের সঙ্গে যখন হেনরি কিসিঙ্জারের নাম নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির তালিকায় আসে , তখন বিস্মিত হয়েছিল বিশ্ববাসী । কিসিঙ্জারকে শান্তিতে নোবেল দেওয়া হয়েছিল ভিযেতনামের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্হতার কারণে। যদিও নোবেল প্রাপ্তির পর সেই যুদ্ধবিরতি থাকেনি । আরও দুই বছর যুদ্ধ চলে । তখন লি দ্যুকে তার নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন ,” এই পুরস্কার রাজনৈতিক ব্যাঙ্গকে অবধারিত করে তুলেছে “। কিসিঙ্জার কম্বোডিয়াতে কার্পেট বোম্বিংয়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এরপরেই আছে ইতালির আর্নেস্তো মনেতার নাম । শান্তিতে নোবেল জয়ের চার বছরের মাথায় তিনি লিবিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেন । মনেতার যুদ্ধং দেহি মনোভাব প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শুরুর দিকের পরিস্হিতিকে প্রভাবিত করেছিল । সাবেক সেনা মেনতা জাতীয়তাবাদী জেনারেল গুইসেপ্পে গেরিলাদের  সঙ্গেও যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন । যুক্তরাষ্ট্রের আরেক প্রেসিডন্ট থিওডোর রুজবেল্ট ১৯০৬ সালে রাশিয়া-জাপান যুদ্ধের মধ্যস্হতা করে শান্তিতে নোবেল পান । অথচ থিওডোর রুজবেল্টের নেতৃত্বাধীন ক্যালিভারি রেজিমেন্টই স্পেন-আমেরিকা যুদ্ধে ব্যাপক হত্যা-ধ্বংস চালিয়েছিল । তার হত্যাকান্ডের ঘটনায় তৎকালীন সময়ে সুইডেনের পত্রিকার একটি প্রতিবেদনের শিরোনামে লেখা হয়েছিল ,’কবরে আলফ্রেড নোবেলের মাথা ঘুরছে’।

আমাদের দেশের শান্তিতে নোবেল জয়ী একমাত্র ব্যক্তি যদি ভবিষতে অশান্তি সৃষ্টি করেন, তাহলে আমাদের মনবেদনার কারণ থাকবে বলে মনে হয় না। আমার ফেইস বুক বন্ধুরা কী বলেন ? 


# শান্তিতে নোবেলজয়ী অশান্তি সৃষ্টি কারী কিছু প্রেসিডেন্ট

মন্তব্য করুন

ব্লগ