Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০৪:১৯ অপরাহ্ণ

এআই প্রগ্রামার এআই প্রগ্রামার

কোডিংয়ে এআই টুলসের ব্যবহার একেবারে সহজ। প্রয়োজন শুধু কোড কোন ভাষায় এবং কী কাজের জন্য লাগবে, সেটা সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দেওয়া। প্রায় নিখুঁত কোড নিমেষেই হাজির হয়ে যাবে। এ ছাড়া চাইলে কোডকে এক প্রগ্রামিং ভাষা থেকে অন্য ভাষায়ও রূপান্তর করা যাবে এআইয়ের মাধ্যমে।

পূর্ণাঙ্গ ওয়েবপেজ বা সফটওয়্যার এখনো শুধু এআই কোড ব্যবহার করে করা সম্ভব নয়, মূলত এআইয়ের লেখা কোড প্রায় সময়ই কিছু ঘষামাজার প্রয়োজন হয়। এর পরও গত এক বছরের কেস স্টাডিতে দেখা গেছে এআই ব্যবহার করে সফটওয়্যার নির্মাতাদের কাজের গতি প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। কোড লেখকরা সব সময়ই কাজে আটকে গেলে স্ট্যাকওভারফ্লো-এর মতো ফোরামের শরণাপন্ন হয়ে আসছেন, সে জায়গাটিই এআই কোড জেনারেশন সিস্টেম দখল করেছে।

 

গিটহাব কোপাইলট

মাইক্রোসফটের সঙ্গে ওপেনএআইয়ের পার্টনারশিপ চুক্তিতে তৈরি হয়েছে এআই চ্যাটবট সেবা কোপাইলট।

জনপ্রিয় কোড হোস্টিং সেবা গিটহাবেই প্রথম কোপাইলট সেবাটি যুক্ত করা হয়। প্রায় এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কোডিং এআই সেবাগুলোর মধ্যে গিটহাব কোপাইলট তার জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। সি প্লাস, প্লাস, টাইপস্ক্রিপ্ট, পাইথন, জাভাস্ক্রিপ্ট এবং গো ল্যাঙ্গুয়েজে যাঁরা প্রগ্রামিং করেন তাঁদের জন্য সেবাটি অপরিহার্য। যদিও গিটহাবে হোস্ট করা হাজারো ব্যবহারকারীর কোড কাজে লাগিয়ে কোপাইলটকে ট্রেনিং দেওয়ায় অনেক কোডারই সেবাটিকে নকলবাজ বলেছেন।
একেবারে গোড়া থেকে কোড জেনারেট করা থেকে শুরু করে অসমাপ্ত কোডের বাকি অংশ লিখে দেওয়া, কোড গোছানোর জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়ার মতো কাজগুলো কোপাইলট করতে সক্ষম। ভিজুয়াল স্টুডিও কোড, নিওভিম বা জেটব্রেইনসের মতো আইডিইতে সেবাটি ব্যবহার করা যাবে। চাইলে বিনা মূল্যে সেবাটি ব্যবহার করা গেলেও সব ফিচারের জন্য মাসে কিছু ফি গুনতে হবে।

ট্যাবনাইন

গিটহাব কোপাইলটের আদলে তৈরি করা হয়েছে ট্যাবনাইন কোড কমপ্লিশন টুল। জাভার পাশাপাশি অন্যান্য প্রগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এবং প্রচলিত সব আইডিইতে ব্যবহারযোগ্য ট্যাবনাইন।

ফলে এর মধ্যেই সেবাটি হয়ে উঠেছে জনপ্রিয়। এলজি, অ্যাকসেনঞ্চর বা স্যামসাংয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এর মধ্যেই ট্যাবনাইনকে কাজে লাগাতে শুরু করেছে। ট্যাবনাইন প্রগ্রামের অগ্রভাগ দেখে বাকি কোড তৈরি করে দিতে পারে, ফাংশনের ডিক্লারেশন দেখে সেটার বাকি অংশ লিখে নিতে পারে নিজ থেকেই, আর কোডের কমেন্ট পরে অ্যাপের বাকি অংশের কোড ব্লক তৈরি করে দিতে সক্ষম। সবচেয়ে বড় বিষয়, ট্যাবনাইনের বেসিক ফিচার ব্যবহার করা যাবে বিনা মূল্যে আর প্রফেশনাল টুলসের মাসিক মূল্যও খুবই কম।

 

চ্যাটজিপিটি (জিপিটি৪)

এআই চ্যাটবটের মধ্যে আজও চ্যাটজিপিটি সবচেয়ে জনপ্রিয়। বেশির ভাগ প্রগ্রামার কোডিংয়ের জন্য সেটি কাজে লাগিয়ে আসছেন। নতুন জিপিটি ৪-ও মডেল কাজে লাগিয়ে জটিল সব সফটওয়্যারের জন্য কোড লেখা যাবে বিনা মূল্যে। যদিও জ্ঞানের পরিধিতে জিপিটি ৩.৫ পিছিয়ে, তবে জিপিটি ৪-ও এর চেয়ে এখনো নির্ভুল কোডিংয়ে এগিয়ে আছে। চ্যাটের মাধ্যমে কী ধরনের কোড দরকার সেটা বুঝিয়ে দিলে কোড জেনারেট করা যাবে, আবার ভুল কোড সংশোধনীর কাজেও চ্যাটজিপিটি পারদর্শী। জেনারেট করা কোড আরো নিখুঁত করা থেকে অন্য প্রগ্রামিং ভাষায় রূপান্তরের কাজও করতে পারে চ্যাটজিপিটি। চ্যাটজিপিটির কোডে পূর্বে বেশ ভুল থাকলেও বিগত বছরে তা অনেকটাই শুধরে দেওয়া হয়েছে। তবে চ্যাটজিপিটির মতো সব কাজের কাজি চ্যাটবটের বদলে প্রগ্রামিংয়ের জন্য বিশেষায়িত সেবা ব্যবহার করাই শ্রেয়। তবে যাদের প্রগ্রামিংয়ের চেয়ে ডকুমেন্টেশন বা অন্যান্য কাজের জন্য এআই লাগে বেশি, তাদের জন্য চ্যাটজিপিটি প্রিমিয়াম সেবা হতে পারে কাজের।

 

অ্যামাজন কোডহুইসপারার

যাঁরা অ্যামাজন তথা এডব্লিউএস নেটওয়ার্কের মধ্যে কাজ করেন তাঁদের জন্য কোডহুইসপারার চমৎকার একটি সেবা। কোড লেখার সময় সেটিকে আরো পরিমার্জিত করার বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া থেকে কোডের বাকি অংশ পুরোটাই জেনারেট করার মতো কাজ কোডহুইসপারার করতে পারবে। কোডের মধ্যে প্রয়োজনীয় কমেন্ট এবং তার ডকুমেন্টেশন লেখার কাজও কোডহুইসপারার করতে সক্ষম। একটি প্রগ্রামের প্রাথমিক কোড দেখে বাকি ফাংশন বা কোড ব্লক কী হতে পারে তা আন্দাজ করে কোড জেনারেট করার ফিচারটি কোডহুইসপারারকে করেছে বাকি সব এআই সেবার চেয়ে আলাদা। অ্যামাজনের নিজস্ব কোডগুরু ছাড়াও জেটব্রেইনস বা ভিজুয়াল স্টুডিও কোডের মধ্যে প্লাগইন হিসেবে সেবাটি ব্যবহার করা যাবে। তবে কোডগুরু ব্যবহার করলে প্রগ্রামের মধ্যে কোনো নিরাপত্তাজনিত সমস্যা আছে কি না সেটাও কোডহুইসপারার স্ক্যান করে বের করতে পারবে। সেবাটি ব্যবহার করা যাবে বিনা মূল্যে, তবে প্রফেশনাল কাজে ব্যবহার করতে হলে মাসে ১৯ ডলার ফি দিতে হবে। 

 

রেপ্লিট এআই

ক্লাউডভিত্তিক আইডিই সেবার জন্য বিখ্যাত রেপ্লিটের মধ্যেও যুক্ত হয়েছে এআই সেবা। তাদের রেপ্লিট এআই সেবার মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু কোডিং টুলস, যা কোড জেনারেশন থেকে কারেকশন, সবই করতে সক্ষম। রেপ্লিট এআই স্যুটের মধ্যে সবচেয়ে কাজের বলা যায় কোড কমপ্লিশন টুল। নির্ভুলভাবে অসমাপ্ত কোড শেষ করে কার্যকর সফটওয়্যার তৈরি করতে করতে চরম পারদর্শী এ টুল। বাকি সব কোডিং এআইয়ের চেয়ে রেপ্লিটের মধ্যে শুধু ভুলের পরিমাণ কমই নয়, কোডের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় অংশও খুবই নগণ্য। প্রায় সব জনপ্রিয় প্রগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে কাজ করতে সক্ষম হলেও রেপ্লিট এআই সবচেয়ে ভালোভাবে কাজ করে জাভাস্ক্রিপ্ট, এসকিউএল, এইচটিএমএল এবং সিএসএস নিয়ে। অর্থাৎ ওয়েবসাইট এবং ওয়েব অ্যাপ তৈরির জন্য রেপ্লিট চমৎকার। বিনা মূল্যে ব্যবহারের জন্য স্টার্টার প্যাকেজ থাকলেও মাসপ্রতি ২০ ডলার মূল্যের কোর প্যাকেজটি বেশি কাজের।

 

অ্যানড্রয়েড স্টুডিও এবং জেমিনি

গুগলের জেমিনি নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া কাটছে না। গুগলের ডিপমাইন্ড প্রজেক্টের উদ্ভাবিত আলফাকোড সিস্টেম হওয়ার কথা ছিল বিশ্বের সেরা কোডিং এআই। দুঃখজনক বিষয়, আলফাকোড আজও সবার জন্য সেবা আকারে হাজির করতে পারেনি গুগল। তাদের জেমিনি এআই শুরুতে চমৎকার কোড লিখতে পারলেও নতুন এআই মডেলভিত্তিক জেমিনির কোডের মান নিয়ে রয়ে গেছে সংশয়। এর পরও অ্যানড্রয়েড স্টুডিওর মধ্যে থাকা জেমিনি সেবা অ্যানড্রয়েড অ্যাপ লেখার ক্ষেত্রে বাকি সব এআই মডেলের চেয়ে কার্যকরী। যাঁরা অ্যানড্রয়েড অ্যাপ নিয়ে কাজ করছেন এবং এখনো এক্লিপস আইডিই দিয়েই চালাচ্ছেন কাজ, তাঁরা অ্যানড্রয়েড স্টুডিও এবং জেমিনি ব্যবহার করে দেখতে পারেন। অ্যানড্রয়েড স্টুডিওতে জেমিনি ব্যবহারে লাগবে না কোনো ফি, প্রতিটি ফিচার ব্যবহার করা যাবে বিনা মূল্যে। সেটাও মাথায় রাখতে হবে।

 

হাগিংফেস

যাঁরা মেশিন লার্নিং মডেল নিয়ে কাজ করেন বা একবার হলেও চেষ্টা করেছেন নিজের পিসিতে এআই জেনারেশন সেবা চালিয়ে দেখার, তাদের মধ্যে হাগিংফেস নামটি পরিচিত। হাগিংফেসের তৈরি ট্রান্সফরমার, ডিফিউজার বা সেফটেনসর ব্যবহার করে নিজস্ব কোডিং এআই সেবা তৈরি বেশ সহজ। তবে তার জন্য প্রয়োজন হবে বেশ শক্তিশালী কম্পিউটার। তবে চাইলে হাগিংফেসের সার্ভারেও এআই চালিয়ে কাজ করা যাবে। হাগিংফেস মূলত ওপেনসোর্স লামা, জিপিটি এবং স্টেবল ডিফিউশনের মতো মুক্ত কোডভিত্তিক এআই নিয়ে কাজ করে। বাকি সব বাণিজ্যিক এআইয়ের বদলে হাগিংফেসের মডেলগুলো ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে তথ্য গোপনীয়তার সুরক্ষা। বেশির ভাগ এআই সেবা ব্যবহারকারীদের তথ্য বিভিন্ন কাজের জন্য সংগ্রহ করে থাকে। নিজস্ব এআই মডেল ব্যবহারের বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও অন্তত তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। ধীরে ধীরে তাদের হোস্ট করা ওপেনসোর্স লামা মডেলটির কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, হয়তো আরো এক বছরের মধ্যে সেটি বাণিজ্যিক এআই সেবাকে ছাড়িয়েও যেতে পারে।

মন্তব্য করুন