সহকারী অধ্যাপক
২০ নভেম্বর, ২০২৪ ০৪:৫০ অপরাহ্ণ
অতঃপর যাকে তার আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে; অত্যন্ত সহজভাবেই তার হিসাব-নিকাশ করা হবে। আর সে তার পরিবার-পরিজনের কাছে আনন্দিত হয়ে ফিরে যাবে।
অতঃপর যাকে তার আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে; অত্যন্ত সহজভাবেই তার হিসাব-নিকাশ করা হবে। আর সে তার পরিবার-পরিজনের কাছে আনন্দিত হয়ে ফিরে যাবে। …আর যাকে তার আমলনামা পিঠের পেছনে দেয়া হবে… আর সে জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে।
সূরাঃ আল-ইনশিকাক আয়াতঃ ৬-১৫ মাক্কী
:৬ یٰۤاَیُّهَا الۡاِنۡسَانُ اِنَّكَ كَادِحٌ اِلٰی رَبِّكَ كَدۡحًا فَمُلٰقِیۡهِ
হে মানুষ, তোমার রব পর্যন্ত (পৌঁছতে) অবশ্যই তোমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। অতঃপর তুমি তাঁর সাক্ষাৎ পাবে। আল-বায়ান
হে মানুষ! তোমাকে তোমার রব পর্যন্ত পৌঁছতে বহু কষ্ট স্বীকার করতে হবে, অতঃপর তুমি তার সাক্ষাৎ লাভ করবে। তাইসিরুল
হে মানবসকল! তোমরা কঠোর পরিশ্রম করতে থাক, তোমাদের আমাল অনুযায়ী তোমাদের রবের সাক্ষাত লাভ করবে, আর এটাতো অবশ্যম্ভাবি। মুজিবুর রহমান
O mankind, indeed you are laboring toward your Lord with [great] exertion and will meet it. Sahih International
৬. হে মানুষ! তুমি তোমার রবের কাছে পৌছা পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, অতঃপর তুমি তাঁর সাক্ষাত লাভ করবে।(১)
(১) كدح এর অর্থ কোন কাজে পূর্ণ চেষ্টা ও শক্তি ব্যয় করা। [ফাতহুল কাদীর] মানুষের প্রত্যেক চেষ্টা ও অধ্যবসায় আল্লাহর দিকে চূড়ান্ত হবে। অর্থাৎ মানুষ দুনিয়ায় যা কিছু কষ্ট-সাধনা প্ৰচেষ্টা ও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে সে সম্পর্কে সে মনে করতে পারে যে তা কেবল দুনিয়ার জীবন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ এবং দুনিয়াবী স্বাৰ্থ লাভ করাই এর উদ্দেশ্য। কিন্তু আসলে সে সচেতন বা অচেতনভাবে নিজের রবের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে এবং অবশেষে তাকে তার কাছেই পৌছতে হবে। মানুষ এখানে যে চেষ্টা-চরিত্র করছে, পরিশেষে তার পালনকর্তার কাছে পৌছে এর সাথে তার সাক্ষাৎ ঘটবে এবং এর শুভ অথবা অশুভ পরিণতি সামনে এসে যাবে। অথবা এর অর্থ প্রত্যেক মানুষ আখেরাতে তার পালনকর্তার সাথে সাক্ষাৎ করবে এবং হিসাবের জন্যে তার সামনে উপস্থিত হবে। [দেখুন: কুরতুবী]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাত করতে চায়, আল্লাহও তার সাক্ষাত করতে পছন্দ করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাত করতে চায় না, আল্লাহও তার সাথে সাক্ষাত করতে অপছন্দ করেন।” আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা (অথবা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্য কোন স্ত্রী) বলেন, “আমরা তো মৃত্যুকে অপছন্দ করি।” রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তা নয়। কিন্তু মুমিন ব্যক্তির যখন মৃত্যু ঘণিয়ে আসে, তখন তাকে আল্লাহ তা'আলার সস্তুষ্টি ও সম্মানের সুসংবাদ দেওয়া হয়। তখন তার কাছে মৃত্যু অপেক্ষা অন্য কিছু প্রিয় হতে পারে না। এভাবে সে আল্লাহর সাক্ষাত করতে পছন্দ করে, তাই আল্লাহ্ তা'আলাও তার সাথে সাক্ষাত করতে পছন্দ করেন। আর কাফির ব্যক্তিকে মৃত্যুর সময় আল্লাহর আযাব ও শাস্তির সংবাদ দেওয়া হয়, তখন মৃত্যু অপেক্ষা অপ্রিয় আর কিছু থাকে না। সে আল্লাহর সাক্ষাত অপছন্দ করে বিধায় আল্লাহ্ তা'আলা তার সাথে সাক্ষাত অপছন্দ করেন”। [বুখারী: ৬৫০৭, মুসলিম: ২৬৮৩]
তাফসীরে জাকারিয়া
৬। হে মানব! তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট পৌঁছানো পর্যন্ত যে কঠোর সাধনা করে থাকো তা তুমি দেখতে পাবে।[1]
[1] এখানে ‘মানব’ শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহূত হয়েছে। যাতে মু’মিন এবং কাফের উভয় শামিল। كدح কঠোর সাধনা বা পরিশ্রম করাকে বলা হয়; চাহে সে সাধনা বা পরিশ্রম ভালো কাজের জন্য হোক অথবা মন্দ কাজের জন্য। উদ্দেশ্য হল যে, যখন উল্লিখিত বস্তুসমূহ প্রকাশ পাবে; অর্থাৎ কিয়ামত আসবে তখন হে মানুষ! তুমি ভাল-মন্দ যা করেছ তা নিজ সম্মুখে দেখতে পাবে এবং সেই অনুযায়ী তোমাকে ভাল-মন্দ বদলা দেওয়া হবে। সামনে এর বিস্তারিত বর্ণনা আসছে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭ فَاَمَّا مَنۡ اُوۡتِیَ كِتٰبَهٗ بِیَمِیۡنِهٖ
অতঃপর যাকে তার আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে; আল-বায়ান
অতঃপর যার ‘আমালনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে। তাইসিরুল
অতঃপর যাকে ডান হাতে তার কর্মলিপি প্রদত্ত হবে – মুজিবুর রহমান
Then as for he who is given his record in his right hand, Sahih International
৭. অতঃপর যাকে তার আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে।
তাফসীরে জাকারিয়া
৭। সুতরাং যাকে তার ডান হাতে নিজ আমলনামা (কর্মলিপি) দেওয়া হবে,
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮ فَسَوۡفَ یُحَاسَبُ حِسَابًا یَّسِیۡرًا
অত্যন্ত সহজভাবেই তার হিসাব-নিকাশ করা হবে। আল-বায়ান
তার হিসাব সহজভাবেই নেয়া হবে। তাইসিরুল
তার হিসাব-নিকাশতো সহজভাবে গৃহীত হবে, মুজিবুর রহমান
He will be judged with an easy account Sahih International
৮. তার হিসেব-নিকেশ সহজেই নেয়া হবে।(১)
(১) এতে মুমিনদের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে যে, তাদের আমলনামা ডান হাতে আসবে। এবং তাদের সহজ হিসাব নিয়ে জান্নাতের সুসংবাদ দান করা হবে। তারা তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে হৃষ্টচিত্তে ফিরে যাবে। তার হিসেব নেয়ার ব্যাপারে কড়াকড়ি করা হবে না। তাকে জিজ্ঞেস করা হবে না, ওমুক ওমুক কাজ তুমি কেন করেছিলে? ঐসব কাজ করার ব্যাপারে তোমার কাছে কি কি ওযর আছে? নেকীর সাথে সাথে গোনাহও তার আমলনামায় অবশ্যি লেখা থাকবে। কিন্তু গোনাহের তুলনায় নেকীর পরিমাণ বেশী হবার কারণে তার অপরাধগুলো উপেক্ষা করা হবে এবং সেগুলো মাফ করে দেয়া হবে। কুরআন মজিদে অসৎকর্মশীল লোকদের কঠিন হিসেবা-নিকেশের জন্য “সু-উল হিসাব” (খারাপভাবে হিসেব নেয়া) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। [সূরা আর-রা'দ ১৮]
সৎ লোকদের সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ “এরা এমন লোক যাদের সৎকাজগুলো আমি গ্ৰহণ করে নেবো এবং অসৎকাজগুলো মাফ করে দেবো।” [সূরা আল-আহকাফঃ ১৬] আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, কেয়ামতের দিন যার হিসাব নেয়া হবে, সে আযাব থেকে রক্ষা পাবে না। এ কথা শুনে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা প্রশ্ন করলেন, কুরআনে কি (فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَسِيرًا) বলা হয়নি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এই আয়াতে যাকে সহজ হিসাব বলা হয়েছে, সেটা প্রকৃতপক্ষে পরিপূর্ণ হিসাব নয়; বরং কেবল আল্লাহ রাব্বুল আলমীনের সামনে পেশ করা। যে ব্যক্তির কাছ থেকে তার কাজকর্মের পুরোপুরি হিসাব নেয়া হবে, সে আযাব থেকে কিছুতেই রক্ষা পাবে না। [বুখারী: ৪৯৩৯, মুসলিম: ২৮৭৬l
তাফসীরে জাকারিয়া
৮। তার হিসাব নেওয়া হবে সহজভাবে। [1]
[1] সহজ হিসাব এই যে, মুমিনের আমল-নামা পেশ করা হবে। তার ভুল-ত্রুটিও সামনে উপস্থিত করা হবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা নিজের রহমত এবং অনুগ্রহে তাদেরকে মার্জনা করে দেবেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন যে, রসূল (সাঃ) বলেছেন, ‘‘যার হিসাব নেওয়া হবে সে ধ্বংস হয়ে যাবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন, আল্লাহ তাআলা কি এ কথা বলেননি যে, যার ডান হাতে আমল-নামা দেওয়া হবে তার হিসাব সহজ হবে?’’ (মা আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার উদ্দেশ্য ছিল যে, এই আয়াত অনুপাতে হিসাব তো মু’মিনদেরও হবে কিন্তু সে ধ্বংসগ্রস্ত হবে না।) তিনি (সাঃ) স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে বললেন যে, ‘‘পেশ করা হবে মাত্র।’’ (অর্থাৎ, মুমিনের সাথে হিসাবের ব্যাপার হবে না বরং নামমাত্র পেশ করা হবে।) মু’মিনদেরকে আল্লাহর সম্মুখে পেশ করা হবে। কিন্তু যাকে জেরা করা হবে সে ধ্বংস হয়ে যাবে। (সহীহ বুখারী, তাফসীর সূরা ইনশিক্বাক পরিচ্ছেদ)
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
:৯ وَّ یَنۡقَلِبُ اِلٰۤی اَهۡلِهٖ مَسۡرُوۡرًا
আর সে তার পরিবার-পরিজনের কাছে আনন্দিত হয়ে ফিরে যাবে। আল-বায়ান
সে তার স্বজনদের কাছে সানন্দে ফিরে যাবে। তাইসিরুল
এবং সে তার স্বজনদের নিকট প্রফুল্ল চিত্তে ফিরে যাবে। মুজিবুর রহমান
And return to his people in happiness. Sahih International
৯. এবং সে তার স্বজনদের কাছে(১) প্ৰফুল্লচিত্তে ফিরে যাবে;
(১) কোনো কোনো মুফাস্সির বলেন, নিজের লোকজন বলতে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও সাথী-সহযোগীদের কথা বুঝানো হয়েছে। তাদেরকেও একইভাবে মাফ করে দেয়া হয়ে থাকবে। কাতাদাহ বলেন, এখানে পরিবার বলে জান্নাতে তার যে পরিবার থাকবে তাদের বোঝানো হয়েছে। [কুরতুবী; ফাতহুল কাদীর]
তাফসীরে জাকারিয়া
৯। এবং সে তার স্বজনদের নিকট প্রফুল্লচিত্তে ফিরে যাবে।[1]
[1] স্বজন বলতে তার পরিবারের মধ্যে থেকে যারা জান্নাতী হবে তারা অথবা এ হতে উদ্দেশ্য হল, সেই সমস্ত বেহেশ্তী হুর ও গিলমান, যা জান্নাতীগণ লাভ করবে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
:১০ وَ اَمَّا مَنۡ اُوۡتِیَ كِتٰبَهٗ وَرَآءَ ظَهۡرِه
আর যাকে তার আমলনামা পিঠের পেছনে দেয়া হবে, আল-বায়ান
আর যাকে তার ‘আমালনামা তার পিঠের পিছন দিক থেকে দেয়া হবে, তাইসিরুল
এবং যাকে তার কর্মলিপি তার পৃষ্ঠের পশ্চাদ্ভাগে দেয়া হবে – মুজিবুর রহমান
But as for he who is given his record behind his back, Sahih International
১০. আর যাকে তার আমলনামা তার পিঠের পিছনদিক থেকে দেয়া হবে,
তাফসীরে জাকারিয়া
১০। পক্ষান্তরে যাকে তার আমলনামা তার পিঠের পিছন দিক থেকে দেওয়া হবে,
সূরাঃ ৮৪/ আল-ইনশিকাক | Al-Inshiqaq | سورة الإنشقاق আয়াতঃ ২৫ মাক্কী
১১ فَسَوۡفَ یَدۡعُوۡا ثُبُوۡرًا
অতঃপর সে ধ্বংস আহবান করতে থাকবে। আল-বায়ান
সে মৃত্যুকে ডাকবে, তাইসিরুল
ফলে অচিরেই সে মৃত্যুকে আহবান করবে, মুজিবুর রহমান
He will cry out for destruction Sahih International
১১. সে অবশ্যই তার ধ্বংস ডাকবে;
তাফসীরে জাকারিয়া
১১। অচিরেই সে মৃত্যুকে আহবান করবে। [1]
[1] ثبور অর্থ হল ধ্বংস ও ক্ষতি। অর্থাৎ, সে চিল্লাবে ও চিৎকার করবে, ‘আমি মরে গেলাম, ধ্বংস হয়ে গেলাম’ বলে আর্তনাদ করতে থাকবে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
১২ وَّ یَصۡلٰی سَعِیۡرًا
আর সে জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে। আল-বায়ান
এবং জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে। তাইসিরুল
এবং জ্বলন্ত আগুনে সে প্রবেশ করবে। মুজিবুর রহমান
And [enter to] burn in a Blaze. Sahih International
১২. এবং জ্বলন্ত আগুনে দগ্ধ হবে;
তাফসীরে জাকারিয়া
১২। এবং সে জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
:১৩ اِنَّهٗ كَانَ فِیۡۤ اَهۡلِهٖ مَسۡرُوۡرًا
নিশ্চয় সে তার পরিবার-পরিজনদের মধ্যে আনন্দে ছিল। আল-বায়ান
সে তার পরিবার-পরিজনের মাঝে আনন্দে মগ্ন ছিল, তাইসিরুল
সে তার স্বজনদের মধ্যেতো সহর্ষে ছিল, মুজিবুর রহমান
Indeed, he had [once] been among his people in happiness; Sahih International
১৩. নিশ্চয় সে তার স্বজনদের মধ্যে আনন্দে ছিল,
তাফসীরে জাকারিয়া
১৩। কেননা, সে তার স্বজনদের মধ্যে আনন্দে মত্ত ছিল।[1]
[1] অর্থাৎ, দুনিয়ায় নিজের প্রবৃত্তির চাহিদা মিটাতে মগ্ন এবং আপন পরিবারের মাঝে বড় আনন্দিত ছিল।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
১৪ اِنَّهٗ ظَنَّ اَنۡ لَّنۡ یَّحُوۡرَ
নিশ্চয় সে মনে করত যে, সে কখনো ফিরে যাবে না। আল-বায়ান
সে ভাবত যে, সে কক্ষনো (আল্লাহর কাছে) ফিরে যাবে না। তাইসিরুল
যেহেতু সে ভাবতো যে, সে কখনই প্রত্যাবর্তিত হবেনা। মুজিবুর রহমান
Indeed, he had thought he would never return [to Allah]. Sahih International
১৪. সে তো ভাবত যে, সে কখনই ফিরে যাবে না(১);
(১) অর্থাৎ যার আমলনামা তার পিঠের দিক থেকে বাম হাতে আসবে, সে মরে মাটি হয়ে যাওয়ার আকাঙ্খা করবে, যাতে আযাব থেকে বেঁচে যায়। কিন্তু সেখানে তা সম্ভবপর হবে না। তাকে জাহান্নামে দাখিল করা হবে। এর এক কারণ এই বলা হয়েছে যে, সে দুনিয়াতে তার পরিবার-পরিজনের মধ্যে আখেরাতের প্রতি উদাসীন হয়ে আনন্দ উল্লাসে দিন যাপন করত। সে তার রবের কাছে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে বিশ্বাসী ছিল না। হিসাব-নিকাশের জন্য পুনরুত্থিত হবে না। কারণ সে পুনরুত্থানে ও আখেরাতে মিথ্যারোপ করত। [ফাতহুল কাদীর]
তাফসীরে জাকারিয়া
১৪। যেহেতু সে ভাবতো যে, সে কখনই প্রত্যাবর্তিত হবে না।[1]
[1] এটা ছিল তার আনন্দিত হওয়ার কারণ। অর্থাৎ, আখেরাতের প্রতি তার বিশ্বাসই ছিল না। حور শব্দের অর্থ হল ফিরে যাওয়া। যেমন, নবী (সাঃ) এ দু’আ করতেন, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল হাওরি বা’দাল কাওর।’ (সহীহ মুসলিম হজ্জ্ব অধ্যায়, তিরিমিযী, ইবনে মাজাহ) মুসলিম শরীফে ‘বা’দাল কাওন’ শব্দ এসেছে। উদ্দেশ্য হল যে, এ সকল কথা হতে আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যাতে আমি ঈমানের পর কুফরী, আনুগত্যের পর অবাধ্যতা অথবা ভালর পর মন্দের দিকে ফিরে না যাই।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
:১৫ بَلٰۤی ۚۛ اِنَّ رَبَّهٗ كَانَ بِهٖ بَصِیۡرًا
হ্যাঁ, নিশ্চয় তার রব তার প্রতি সম্যক দৃষ্টি দানকারী। আল-বায়ান
অবশ্যই ফিরে যাবে, তার প্রতিপালক তার প্রতি দৃষ্টি রাখছেন। তাইসিরুল
হ্যাঁ,(অবশ্যই প্রত্যাবর্তিত হবে) নিশ্চয়ই তার রাব্ব তার উপর সবিশেষ দৃষ্টি রাখেন। মুজিবুর রহমান
But yes! Indeed, his Lord was ever of him, Seeing. Sahih International
১৫. হ্যাঁ,(১) নিশ্চয় তার রব তার উপর সম্যক দৃষ্টি দানকারী।
(১) অর্থাৎ সে যা মনে করেছে তা ঠিক নয়। সে অবশ্যই তার রবের কাছে ফিরে যাবে। অবশ্যই সে পুনরুথিত হবে। [ফাতহুল কাদীর]
তাফসীরে জাকারিয়া
১৫। অবশ্যই (সে প্রত্যাবর্তিত হবে)।[1] নিশ্চয়ই তার প্রতিপালক তার উপর সবিশেষ দৃষ্টি রাখেন। [2]
[1] একটা অর্থ এটাও হতে পারে যে, এটা কি করে সম্ভব হতে পারে যে, সে ফিরে আসবে না এবং পুনর্বার জীবিত হবে না? অথবা ‘অবশ্যই’, ‘কেন নয়’, সে অবশ্যই আল্লাহর নিকট ফিরে আসবে।
[2] অর্থাৎ, তার আমল আল্লাহর নিকট কোন রকমের গুপ্ত ছিল না।
৪
৭ মন্তব্য