Loading..

ব্লগ

রিসেট

২১ নভেম্বর, ২০২৪ ০২:০৩ অপরাহ্ণ

শিখনফল কি? কেন লেখা দরকার ও বৈশিষ্ট্য

শিখনফল- কোনো একটি পাঠ শেষে শিক্ষার্থী কী জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করবে সে সম্পর্কে নির্ধারিত সুষ্পট ও সুনির্দষ্ট বিবরণ হল শিখনফল। শিখন-শেখানো কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থী এগুলো আয়ত্ত করে। আচরণের পরিবর্তনের মাধ্যমে শিখনফল অর্জিত হয়ে থাকে বিধায় এক আচরণিক উদ্দেশ্যেও বলা হয়। শিখনফল পূর্বেই নির্ধারণ করতে হয়।


শিখনফল লেখার নিয়ম 

১. শিখনফল লিখতে হবে শিক্ষার্থীর পারদর্শিতার পরিপ্রেক্ষিতে, শিক্ষকের পরিপ্রেক্ষিতে নয়। অথার্ৎ পাঠ শেষে শিক্ষার্থী তাদের পারদর্শিতা প্রদর্শনের জন্য কী কাজ সম্পাদন করতে পারবে, তা স্পষ্ট পরিভাষায় ব্যক্ত করতে হবে।


২. শিক্ষার তিনটি ক্ষেত্র অর্থাৎ জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শিখনফল চিহ্নিত করতে হবে।


৩. শিখনফল সকর্মক ক্রিয়া বাচক শব্দে লিখতে হবে। উপযুক্ত ‍ক্রিয়াপদ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীর পর্যবেক্ষণযোগ্য আচরণ প্রকাশ করা হয়। যেমন: শিক্ষার্থী ফুলের বিভিন্ন অংশশনাক্ত করতে পারবে। এ উদাহরণ শনাক্ত করা ক্রিয়াপদটি শিক্ষার্থীর এমন আচরণকে প্রকাশ করছে যা শিক্ষক পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। যার ফলে উদ্দেশ্যটি অর্জিত হলো কিনা, তা সহজেই পরিমাপ করা যায়।


৪. শিখনফল সুনির্দিষ্ট, স্পষ্ট ও পরিমাপযোগ্য হবে।



জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০১২ তে বিষয়, শ্রেণি ও অধ্যায়ভিত্তিক শিখনফল দেওয়া হয়েছে। যাতে বুদ্ধিবৃত্তীয়, আবেগীয় ও মনোপেশীজ এই তিনটি ক্ষেত্রের শিখনফল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

নিম্নে নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের পঞ্চম অধ্যায় (বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু) থেকে উল্লিখিত ৩টি ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত শিখনফল উদাহরণ হিসেবে ও পর্যালোচনার সুবিধার্থে তুলে ধরা হলো- 


# বাংলাদেশের ভে․গোলিক অবস্থান ও সীমানা বর্ণনা করতে পারবে। 

# বাংলাদেশের ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চলের শ্রেণিবিভাগ ও গঠন ব্যাখ্যা করতে পারবে। 

#  ভূপ্রাকৃতিক গঠন কীভাবে জনসংখ্যার বিস্তরণে প্রভাব বিস্তার করে তা বিশ্লেষণ করতে পারবে। 

#  বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহারের ওপর জনবসতি বিস্তারের প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারবে। 

#  বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের ভে․গোলিক অবস্থান ও ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চল চিহ্নিত করতে পারবে। 

#  পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্ধুদ্ধ হবে। 

#  জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবেলায় সচেতন হবে এবং অভিযোজনে সক্ষমতালাভ করবে। 

(সূত্র: জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০১২, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড,ঢাকা,২০১২)।





মন্তব্য করুন

ব্লগ