সহকারী শিক্ষক
২১ নভেম্বর, ২০২৪ ০৯:০৬ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
শিক্ষার্থীর মূল্যবোধ গঠন ও বিকাশের ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকা
বর্তমানে মূল্যবোধ অবক্ষয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিবার ও বিদ্যালয়ে যারা মূল্যবোধ গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণের কর্ণধার তাদেরকে এর প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিয়ে ভাবতে হবে। মূল্যবোধকে তাত্তি¡ক পর্যায়ে রেখে দিলে হবে না। এটি কোন কোর্স করেও শেখানো সম্ভব নয়। বাস্তব জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ ও অনুশীলন করতে হবে। মূল্যবোধ গঠনের প্রথম ও প্রধান পর্যায় হল পরিবার।
এক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়গুলো হল:
১) পিতামাতার পারস্পরিক সম্পর্ক ও শ্রদ্ধাবোধ;
২) পিতামাতার সাথে সন্তানের সম্পর্ক;
৩) সন্তানের প্রতি পিতামাতার দায়িত্ব ও কর্তব্য;
৪) পিতামাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য;
৫) সন্তানদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক;
৬) পরিবারের দাদা-দাদী, নানাÑনানী, চাচা-চাচী, ফুফু, খালা সকলের সাথে সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা;
৭) ঘরে যদি কোন সাহায্যকারী থেকে থাকেন তার প্রতি শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও তার শ্রমের প্রতি মর্যাদা দেওয়া;
৮) পরিবারে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা, ধর্মীয় রীতিনীতি লালন ও অনুশীলন। সর্বোপরি এগুলোর তাৎপর্য উপলব্ধি করা;
৯) নিজের কাজ নিজে করার মধ্য দিয়ে দায়িত্ববোধ ও শৃঙ্খলার বিকাশ;
১০) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অনুশীলন করানো;
১১) গৃহ শিক্ষকের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজে নিজেই বিদ্যালয়ের প্রতিদিনের পড়া, বাড়ির কাজ নিয়মিত সম্পন্ন করার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হওয়া;
১২) শ্রেণিতে মনোযোগী থেকে প্রয়োজনে অস্পষ্ট বিষয়গুলো শিক্ষককে প্রশ্ন করে সুস্পষ্ট করার মধ্য দিয়ে নিজেকে আত্মবিশ^াসী করে তুলতে অনুপ্রেরণা প্রদান করা;
১৩) কোন সন্তান, পিতামাতা যাতে ভার্চুয়াল ভাইরাসে আক্রান্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ফোন, ফেইসবুক, ইন্টারনেটের ব্যবহার অবশ্যই অর্থপূর্ণ হতে হবে;
১৪) সন্তানের সাথে পিতামাতাকে মানসম্পন্ন সময় (ছঁধষরঃু ঞরসব)অতিবাহিত করতে হবে;
১৫) পিতামাতার আয়ের উৎসের ক্সবধতা নিশ্চিত করতে হবে;
১৬) পরিবারটি একক না যৌথ তা বিবেচনায় রাখতে হবে।
বর্তমানে বেশিরভাগ পরিবারই একক পরিবার। এখানে পিতামাতা চাকুরিজীবী হলে সন্তানরা একাকীত্বে ভোগে। ফলে মূল্যবোধ গঠনকারী উপাদানগুলোর প্রয়োগ ও অনুশীলনের সুযোগ কম থাকে। সেক্ষেত্রে পিতামাতাকেই ব্যবস্থা করতে হবে এবং সিদ্ধান্ত নিতে হবে কীভাবে তারা তাদের সন্তানদের মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাবেন।
এক্ষেত্রে করণীয়গুলো যা হতে পারে:
১) সন্তানদের কোয়ালিটি টাইম দেওয়া;
২) তাদের কাউন্সেলিং করা যে, বাস্তব অবস্থাার প্রেক্ষিতে পারিপাশির্^ক কারণেই পিতামাতাকে জীবিকা নির্বাহের জন্যে চাকরি করতে হচ্ছে। এটি বিবেচনায় এনে তাদের স্বপরিচালিত হতে হবে। প্রয়োজনে তাদের কিছু কিছু ক্ষেত্রে ত্যাগস্বীকারও করতে হতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় এনে তাদের ওপর কোন কিছু চাপিয়ে না দিয়ে ভাল মন্দ বিবেচনা করে তারা কীভাবে সুপরিচালিত হতে পারে সে বিষয়ে তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা;
৩) সন্তানদের ভাল-মন্দ, আনন্দ ও কষ্ট পরস্পর ভাইবোনদের সাথে এবং পিতামাতার সাথে শেয়ার করার সুযোগ করে দেওয়া;
৪) নিজের ঘরেই আনন্দপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে করে অযথা যান্ত্রিকতার আশ্রয় নিয়ে অন্যায়ভাবে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত হয়ে সময় অতিক্রান্ত না করে;
৫) নিয়মিত ধর্মীয় রীতিনীতির অনুশীলন করার অভ্যাস গঠন;
৬) বড়দের শ্রদ্ধা এবং ছোটদের ¯েœহ ও ভালবাসার অভ্যাস গঠন এবং প্রতিশোধ প্রবণতা পরিহার;
৭) পিতামাতা ও সন্তান প্রত্যেকের মধ্যে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গঠন ও অনুশীলন।
বর্তমানে যৌথ পরিবারের সংখ্যা অনেকাংশেই কমে গেছে। যৌথ পরিবারের সন্তানদের আবেগ, অনুভূতি, ¯েœহ, ভালবাসা, শ্রদ্ধা প্রকাশের ক্ষেত্র অনেক বেশি বিধায় এখানে মূল্যবোধের বিকাশও তুলনামূলক সহজতর। যৌথ পরিবারে পারস্পরিক সম্পর্ক ও শ্রদ্ধা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মূল্যবোধ চর্চার ক্ষেত্রও বিস্তৃত। সেজন্যেই এখানে সন্তানরা প্রাকৃতিক ও সামাজিক নিয়মেই মূল্যবোধ চর্চা করতে পারে এবং ভুল থাকলে তা সংশোধন করতে পারে।
১৩
১৮ মন্তব্য