Loading..

ব্লগ

রিসেট

২১ নভেম্বর, ২০২৪ ০৯:১৪ অপরাহ্ণ

বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বিধিমালা (অষ্টম পর্ব)

কর্তব্য ছুটি (Leave on Duty)

নিম্নোক্ত বিষয়ে বেপজা পাবলিক স্কুল ও কলেজ-এর শিক্ষককে কর্তব্য ছুটি মঞ্জুর করা যাবেঃ

(ক) পরীক্ষা পরিচালনা

(খ) সরকারী, পরিচালনা পরিষদ, শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয় বা যে কোন আইন সংগত সংস্থা কর্তৃক আয়োজিত সম্ভাব্য সেমিনারে যোগদান।

(গ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাপ্ত আদালতের আদেশ বলে আদালতে জুরী বা রাজস্বাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হওয়া।

(ঘ) পারিশ্রমিক ছাড়া সরকার বা সরকারী সংস্থা বা শিক্ষা বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত কোন কমিটির সভায় সদস্য হিসেবে

যোগদান।

(ঙ) সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বা শিক্ষা বোর্ডের বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বা সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে আইনসংগত কোন সংস্থা বা সমিতিতে যোগদান।

(চ) যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ হিসেবে ভাষণদানের জন্য যোগদান।

অসাধারণ ছুটি (Extraordinary Leave)

বিনা বেতনে ছুটিকে অসাধারণ ছুটি বলা হয়। বিধি মোতাবেক অপর কোন ছুটি পাওনা না থাকলে অথবা সংশ্লিষ্ট সরকারি চাকুরে লিখিতভাবে অসাধারণ ছুটির জন্য আবেদন করলে এ ছুটি মঞ্জুর করা হয়। ছুটি ভোগকারীর হিসাব হতে অসাধারণ ছুটি ও ডেবিট করা হয় না।

কোন শিক্ষক/কর্মচারীকে বিধি মোতাবেক ছুটি মঞ্জুর করা সম্ভব না হলে বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক/কর্মচারী নিজে আবেদন করলে তাঁর অসাধারণ ছুটি মঞ্জুর করা যায়। অসাধারণ ছুটি ভোগকালে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক/কর্মচারী বেতন ও ভাতাদি পাবেন না এবং উক্ত সময়কাল তার চাকুরির জ্যৈষ্ঠতা নির্ধারণের বিবেচিত হবে না ।

প্রাপ্য ছুটি না থাকলে অথবা অনুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকলে অথবা সাময়িকভাবে বরখাস্তকালীন সময় (তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে) বিনা বেতনে ছুটি মঞ্জুর করা যায়। অন্যান্য প্রকার ছুটির সাথে একত্রে অসাধারণ ছুটি মঞ্জুর করা যেতে পারে।

অসাধারণ ছুটির শর্তাবলী

অসাধারণ ছুটি সম্পর্কিত বিধিমালা নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯ এর বিধি- ৯(৩) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। উক্ত বিধিটি নিম্নরূপ—

১। অসাধারণ ছুটি, যার জন্য ছুটিকালীন বেতন প্রদেয় নয়, যে কোন সরকারি কর্মচারীকে বিশেষ অবস্থার প্রেক্ষিতে প্রদান করা যেতে পারে-

(এ) যখন বিধিমতে অন্য কোন প্রকার ছুটি প্রাপ্য নয়; অথবা

(বি) যখন অন্য কোন প্রকার ছুটি প্রাপ্য হওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্মচারী লিখিতভাবে অসাধারণ ছুটির জন্য আবেদন জানায়।

২। (এ) স্থায়ী কর্মে নিয়োজিত সরকারি কর্মচারী ব্যতীত অন্যান্যের ক্ষেত্রে অসাধারণ ছুটির মেয়াদ এককালীন ৩ (তিন) মাসের

অধিক হবে না। তবে বিধান থাকে যে, স্থায়ী কর্মে নিয়োজিত নয় এমন যে সরকারি কর্মচারী বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য অনুমতি প্রাপ্ত হয়ে প্রশিক্ষণ সমাপনান্তে ৫ (পাঁচ) বৎসর সরকারের চাকরি করবেন, এই মর্মে বন্ড প্রদান করেছেন এবং চাকরির মেয়াদ নিরবচ্ছিন্নভাবে কমপক্ষে ৩ (তিন) বৎসর পূর্ণ হয়েছে, এরূপ যে সরকারি কর্মচারী উল্লেখিত প্রকার বন্ড প্রদান পূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রশিক্ষণে বা অধ্যয়নে রত রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। আরো বিধান থাকে যে, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার ক্ষেত্রে মেডিকেল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে অস্থায়ী সরকারি কর্মচারীকে সর্বাধিক ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত অসাধারণ ছুটি প্রদান করা যাবে। (বি) যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত একজন অস্থায়ী সরকারি কর্মচারীকে এককালীন সর্বাধিক ১২ (বার) মাস পর্যন্ত অসাধারণ ছুটি প্রদান করা যেতে পারে, তবে বিধান থাকে যে— যে পদ হতে সরকারি কর্মচারী ছুটিতে যাচ্ছেন, ঐ পদটি তাঁর কর্মে প্রত্যাবর্তন অবধি বহাল থাকবে।

দাখিলকৃত সার্টিফিকেটে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, যক্ষ্মা বিশেষজ্ঞ বা সিভিল সার্জনের ছুটির মেয়াদ উল্লেখপূর্বক সুপারিশ থাকলে অসাধারণ ছুটি মঞ্জুর করা যাবে। সুপারিশ প্রদানকালে মেডিকেল অফিসার বি এস আর, পার্ট-১ এর পরিশিষ্ট-৮ এর বিধি-(৭) অনুসরণ করবেন।

৩। ছুটি অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ ছুটিবিহীন অনুপস্থিত কালকে ভূতাপেক্ষিকভাবে অসাধারণ ছুটিতে রূপান্তর করতে পারবেন। 

মন্তব্য করুন