সহকারী শিক্ষক
২২ নভেম্বর, ২০২৪ ০৯:৪৮ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
?গোয়ালিয়র ফোর্ট....!! ঝাঁসি শহর থেকে গোয়ালিয়র শহরে প্রবেশ করতেই সাদা রঙের এক তোরণ দেখতে পেলাম। নাম তানসেন গেট। ড্রাইভার বললো এরকম চারটি গেট রয়েছে শহরে প্রবেশ করার। গোয়ালিয়র তানসেনের শহর। তবে যে স্থানীয়রা গোয়ালিয়র ফোর্টকে বলে জিব্রাল্টার অব ইন্ডিয়া। আসলে এই শহরের ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে ইতিহাস। মারাঠা সাম্রাজ্য আর মোঘলদের ইতিহাসে মোড়া গোয়ালিয়র ফোর্ট। গোয়ালিয়র ফোর্ট দেখবার পর যাবো মিয়া তানসেনের সমাধি দেখতে।
গোয়ালিয়র দুর্গ ! এই স্থাপত্য আজও রঙিনভাবেই সজ্জিত আছে ইতিহাসের অংশ হিসেবে।ছোট ছোট পাহাড়ে ঘেরা এক ঐতিহাসিক শহর গোয়ালিয়র। ভারতের মধ্যপ্রদেশের এক সময়কার রাজধানীও ছিল এটি। এই শহরেই দেখা মেলে অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনার।
দুর্গের পথেই পাথরে খোদাই বিভিন্ন নান্দনিক দৃশ্য দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে। এরপর মূল গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই একপাশে আর্কিটেক মিউজিয়াম আর অন্যপাশে লাল বেলে পাথরের বিশাল সেই দুর্গ। ৫০০ বছর আগের সেই নীল রঙের নকশাগুলো এখনো আগের মতোই চকচকে। এখানে একসঙ্গে আছে চারটি মঞ্জিল, পুকুর, রাজার দরবার হল ও মাটির নীচে চারতলা ভুলভুলাইয়া ।
মজার ব্যাপার হলো, একটি কক্ষের ল্যান্ডফোনেরও নিদর্শন পাওয়া যায়। সেটা অবশ্য আধুনিক টেলিফোন নয়। একটি পাইপের মাধ্যমে রাজা রানীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতেন।
দুর্গের ইতিহাস লেখা আছে ছোট একটা অংশে। সেখানে বলা হয়ে থাকে, হিন্দু আর্কিটেকের দারুণ উদাহরণ হয়ে আছে এই দুর্গ। রাজা মান সিং ১৪৮৬ থেকে ১৫১৬ সাল পর্যন্ত ৩০ বছর ধরে এই বিশাল দুর্গটি বানিয়েছিলেন। মূলত রাজ্য বাঁচাতেই তিনি এমন বিশাল দুর্গ গড়ে তুলেছিলেন। সেখানে ৮ রানীকে নিয়ে বসবাস করতেন মান সিং। ভেতরে একটি মান মন্দিরও আছে। যার জানালাই ৩৩টি। ১৬০০-১৭০০ সালের দিকে এসে এই দুর্গ নিজেদের শাসনকাজে ব্যবহার করেন মুঘল সম্রাটরা। সে সময় এই দুর্গকে রাষ্ট্রীয় কারাগারে রূপান্তর করেছিলেন তারা। পুরো দুর্গ ঘুরে অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শনের দেখা পাওয়া যায়।
দুটো বিশাল ঝিল রয়েছে চত্বরে যেগুলো ব্যবহার হতো দুর্গের পানি সরবরাহের জন্য। শূন্যের আবিস্কারক আর্যভট্টের শিলালিপি পাওয়া গিয়েছিল এই দুর্গের একটি অংশে। সেই স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।
৮
৮ মন্তব্য