Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৩ নভেম্বর, ২০২৪ ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষার্থীর মূল্যবোধ বিকাশে শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা

                                                                                শিক্ষার্থীর মূল্যবোধ বিকাশে শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা


 মূল্যবোধের অনুপস্থিতিতে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, পরিবেশ ও রাজনীতিসহ সর্বত্র মানবজীবন ব্যবস্থা হয়ে উঠে অস্থিতিশীল। একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীকে মূল্যবোধে উজ্জীবিত করে সমাজকে করতে পারে আলোকিত ও উদ্ভাসিত। 

আমাদের আগামীদিনের প্রজন্ম যাতে সু-নাগরিক হিসেবে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়াতে সক্ষম হয়, তার জন্যও তাদের মাঝে মূল্যবোধ শিক্ষার প্রসার করা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। আর মূল্যবোধ লালন ও বিকাশের জন্য প্রয়োজন আদর্শের পতাকাবাহী মূল্যবোধের মূর্ত প্রতীক শিক্ষক ও শিক্ষক সমাজ। শিক্ষক তাঁর শিক্ষার্থীদের মধ্যে মূল্যবোধে সৃষ্টি করে প্রকারান্তরে সমাজ ও দেশকে মূল্যবোধে উজ্জীবিত করতে পারে।


শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা এই তিনটির সাথে রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। শিক্ষক মূল্যবোধ বিনির্মাণের আদর্শ কারিগর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মূল্যবোধ চর্চার অনন্য কারখানা। শিক্ষার মধ্য দিয়ে সমাজ ও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মূলবোধের বিকাশ ঘটে থাকে। শিক্ষা ভালো-মন্দ বিচার করতে শিখায়। এই ভালো-মন্দের বিচার মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠে।


এক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক এবং শ্রেণিশিক্ষক উভয়েই মূল্যবোধ গঠন ও সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখেন যা নি¤œরূপ : 

#  বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সকলের সময়মত উপস্থিতি; 

#  শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারিদের সমন্বয়ে বিদ্যালয় ও শ্রেণিকক্ষের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ; 

#  নিয়মিত বাড়ির কাজ আদায় ও ফিডব্যাক প্রদান; 

#  শ্রেণিতে পাঠ বুঝতে না পারলে শিক্ষককে প্রশ্ন করে বুঝে নিতে সহায়তা করা। শিক্ষকেরও দায়িত্ব তার শ্রেণির প্রত্যেক শিক্ষার্থী পাঠ বুঝতে পেরেছে কি না তা যাচাই করে নিরাময়মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা; 

#  কোচিং নিরুৎসাহিত করা। প্রয়োজনে অতিরিক্ত সময় দিয়ে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা। যারফলে ঐ শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে; 

#  প্রতিটি পাঠ্যবিষয় যেমন বাংলা, ইংরেজি, গণিতসহ সকল বিষয়েই মূল্যবোধ চর্চার ক্ষেত্র রয়েছে। শিক্ষক প্রথমে নিজে সেগুলো শনাক্ত করবেন এবং পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের দিয়ে তা অনুশীলন করাবেন; 

#  কোন শিক্ষার্থী ভার্চুয়াল ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাকে কাউন্সেলিং করে ইন্টারনেটের ইতিবাচক দিকগুলো ব্যবহারে অভ্যস্ত করা এবং সাথে সাথে তার পিতামাতাকেও সচেতন করে কাউন্সেলিং করা; 

#  বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের মূলধারায় একীভূত করা হচ্ছে, যা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এসব শিশুদের প্রতি প্রধানশিক্ষক, সহকারীশিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সহমর্মি ও ¯েœহশীল হতে হবে। এমূল্যবোধের অনুশীলন যাতে প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে করতে পারে সেজন্য সকলকে সজাগ থাকতে হবে। এটি একটি টিমওয়ার্ক। এখানে একজনের অসহযোগিতা সম্পূর্ণ কাজটিকে ব্যহত করবে যা মূল্যবোধ গঠনে নেতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে এবং এসকল শিক্ষার্থীকে নিজের সন্তান, ভাই, বোন অর্থাৎ পরিবারের সদস্য হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। 

#  শিখন-শেখানো কার্যক্রমকে আরও বৈচিত্র্যময় ও আনন্দদায়ক করে তোলা যাতে শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থীর শ্রদ্ধা আরও বৃদ্ধি পায়; 

#  শিক্ষকভীতি দূর করে শিক্ষককে আরও শিক্ষার্থীবান্ধব হতে হবে; 

#  খেলাধুলাসহ সবধরনের সহপাঠক্রমিক কার্যাবলি পরিচালনা করতে হবে;

#  বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালনের মধ্য দিয়ে দেশাত্মবোধ জাগ্রত করতে হবে; 

# সর্বোপরি পরিবার থেকে অর্জিত মূল্যবোধগুলো বিদ্যালয়ে অনুশীলন করতে হবে।


সমাজে সে সমস্ত শিক্ষক, শিক্ষা ও মূল্যবোধ বিকাশে ভূমিকা রাখবেন তাদেরকেও আদর্শ মূল্যবোধের ধারক হতে হবে।  আদর্শ শিক্ষকই পারেন শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে সমাজে নৈতিকতার বিকাশ ঘটাতে। শিক্ষক শিক্ষার্থীর মানসিক ও শারীরিক দুঃখ, ব্যথা, প্রয়োজন ও অসহায় অবস্থার কথা আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করবেন এবং এই গুলোর উৎকর্ষ সাধনে ব্রত হবেন এটাই স্বাভাবিক।

শিক্ষক হলেন মূল্যবোধ সৃষ্টির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। তাঁকে কেন্দ্র করেই পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে। শিক্ষার্থীর মাঝে মূল্যবোধের প্রসার তাঁকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। শিক্ষককে বাদ দিয়ে সমাজে মূল্য বোধ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তাঁকে বাদ দিয়ে কোন নৈতিক শিক্ষাও পরিপূর্নতা আসতে পারেনা। তিনিই মূল্যবোধ ও নৈতিকতা শিক্ষা দেন।

মন্তব্য করুন