Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০২:২৪ অপরাহ্ণ

বাইসাইকেল চলন্ত অবস্থায় পড়ে যায় না কেন?

বাইসাইকেলের চাকার ঘূর্ণন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চলন্ত বাইসাইকেলে চাকার ঘূর্ণনের ফলে ‘গাইরোস্কোপিক প্রভাব’ তৈরি হয়। ফলে চাকা ঘূর্ণায়মান অবস্থায় বাইসাইকেলের ভারসাম্য ধরে রাখে। এই প্রভাব বাইসাইকেলকে মাটিতে পড়ে যেতে বাধা দেয়।

কিন্তু সাইকেল চাকার ঘূর্ণন বন্ধ হয়ে যায়। তাই গাইরোস্কোপিক প্রভাব আর কাজ করে না। তখন বাইসাইকেল ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যায়।

প্রশ্ন আসতে পারে, গাইরোস্কোপিক প্রভাব কী?

প্রতিটা ঘূর্ণ্যমান বস্তুর একটি কৌণিক ভরবেগ থাকে। এই ভরবেগ বস্তুটিকে তার ঘূর্ণন অক্ষ ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং বাইরের কোনো শক্তি প্রয়োগ না করলে এটি দিক পরিবর্তন করে না।

ঘূর্ণন বন্ধ হয়ে গেলে আর কৌণিক ভরবেগ থাকে না বস্তুটির, সুতরাং ঘূর্ণন অক্ষের ভারসাম্যও আর কাজ করে না।

বাইসাইকেল চলন্ত অবস্থায় একটি সরলরেখায় থাকে। এই গতিশক্তি বাইসাইকেলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। আপনি যত বেশি গতিতে বাইসাইকেল চালাবেন, তত বেশি স্থিতিশীলতা পাবেন। কারণ গতিশক্তি বাইসাইকেলের ভারসাম্যকে সামনের দিকে টেনে রাখে। কিন্তু থেমে থেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গতিশক্তি শূন্য হয়ে যায়। ফলে বাইসাইকেল আর স্থির থাকতে পারে না এবং পড়ে যায়। পড়ে যাওয়ার পেছনে মহাকর্ষ বলের প্রভাব কাজ করে। 

শুধু গতিশক্তি নয়, চালকও বাইসাইকেলের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাইকেল চালানোর সময় চালক শরীরের ভার ডান-বাঁ দিক সামঞ্জস্য করে বাইসাইকেলের ভারসাম্য রক্ষা করেন। বাইসাইকেল স্থির থাকলে চালকের শরীরের সামান্য ভারসাম্যহীনতাও বাইসাইকেলকে উল্টে ফেলতে পারে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ