কারী আব্দুর রউফ
সহকারী শিক্ষক
২৫ নভেম্বর, ২০২৪ ১০:১২ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
(প্রিয়.কম) - পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা পাঠ্যবই ‘আমার বাংলা বই’। হায়াৎ মামুদ, মুহাম্মদ দানীউল হক, মাসুদুজ্জামান, আরিফুর রহমানের সঙ্কলন, রচনা ও সম্পাদনায় এবং সুভাশিস চক্রবর্তীর সমন্বয়ে ২০১৩ সাল থেকে নতুন আঙ্গিকে রচিত এ বইয়ে সংযোজিত হয়েছে হুমায়ূন আজাদের ‘বই’ শিরোনামের একটি কবিতা। কবিতাটির কয়েকটি লাইন এরকম-
যে বই তোমায় দেখায় ভয় সেগুলো কোন বই-ই নয় সে-বই তুমি পড়বে না। যে-বই তোমায় অন্ধ করে যে-বই তোমায় বন্ধ করে সে-বই তুমি ধরবে না।পাঠ্যবইয়ে কবিতাটির সারমর্মে লেখা হয়েছে -
‘কোনো কোনো বই আছে, যেগুলো সুন্দর ও শুভ চিন্তাভাবনার কথা বলে। আমাদের মনকে সুন্দর স্বপ্নে ভরিয়ে তোলে। আমাদের মনে জ্বালিয়ে দেয় শুভ ভাবনার প্রদীপ। আমাদের মনের ভেতরের স্বার্থপরতা ও মন্দ চিন্তাভাবনাকে দূর করতে সাহায্যা করে। আমাদের ভালো মানুষ হয়ে ওঠার পথা দেখায়। আবার, এমন কিছু বইও আছে পৃথিবীতে, যেগুলো মনের কালো তো দূর করেই না বরং মনকে আরো স্বার্থপর করে তোলে। মনকে করে তোলে ঈর্ষা ও হিংসায় জরজর। সেসব বই পড়লে মন আলোকিত হয় না, সুন্দর মানুষ হয়ে ওঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।’এমন সারমর্ম থাকা সত্ত্বেও কবিতাটির মধ্যে নিহীত অর্থ নিয়ে দ্বিধা তৈরি হয়েছে শিক্ষক-অভিভাবকদের মনে। তাদের মতে, কবিতার উপরি উক্ত ছয় লাইনে বই বিষয়ে কোমলমতি শিশুদের কোনো পরিষ্কার ধারণা দেয়া হয়নি। কোন বই ভয় দেখায় তার নির্দিষ্ট কোনো পরিচয় দেয়া হয়নি। এদিকে কী ধরণের বই ভয় দেখায়, মানুষকে স্বার্থপর করে তোলে- শিক্ষার্থীদের এমন প্রশ্নে নিরুত্তর হয়ে পড়েন শিক্ষক-অভিভাকগণ। কোনো কোনো শিক্ষক বইয়ে উল্লিখিত সরমর্মের বাইরে গিয়ে ভয় দেখানো বই হিসেবে ভূতের বইয়ের নাম বলছেন। কিন্তু এখানেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। কারণ অনেক শিশু ভূতের বই পড়তে খুবই আগ্রহী এবং পড়ছে। ভূতের বই তাদের কাছে কোনো ভয়ের বই নয়। কাজেই ভয়ের বই কোনটা সে নিয়ে অন্ধকারে অনেক শিক্ষক। আবার কোনো কোনো শিক্ষক এ কবিতা পড়াতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অশ্লীল বইপুস্তক ও ম্যাগাজিন না পড়ার কথা বলেন ক্লাসে। শিক্ষকদের মতে ভালো ও মন্দ বই বাজারে আছে। কিন্তু কোন বই ভয় দেখায়, কোন বই মানুষকে অন্ধ ও বন্ধ করে রাখে সে বিষয়ে কবিতায় এবং কবিতার সারমর্মেও কোনো কিছু স্পষ্ট করা হয়নি। সারমর্মে বলা হয়েছে কোনো কোনো বই মানুষকে স্বার্থপর হিংসায় জর্জর করে তোলে। কিন্তু কোন বই তা স্পষ্ট নয়। ‘বই’ কবিতা নিয়ে ভয় দেখানো এবং অন্ধ ও বন্ধ করা বই বলতে কোন বইকে বোঝানো হয়েছে জানতে চাইলে কয়েকজন শিক্ষক বলেছেন, তাদের মনে এ বিষয়ে প্রথমে কুরআনের কথাই ভেসে ওঠে। কারণ কুরআনে মানুষকে পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য পরকালে দোজখের আগুনের কথা উল্লেখ করে ভয় দেখানোর কথা বলা হয়েছে তা সব মুসলমানই জানে। আবার আমাদের সমাজে অনেক মানুষ আছেন যারা কুরআন সম্পর্কে নানা ধরনের নেতিবাচক কথা বলেন, অপপ্রচার চালান। কুরআনে নারী ও পুরুষ ভেদে অনেক বিধিনিষেধ রয়েছে। কেউ কেউ কুরআনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলে থাকেন করআন নারী সমাজকে ঘরের মধ্যে বন্দী করে রাখার কথা বলে। তাই ‘বই’ কবিতার উপরি উক্ত ছয় লাইনে পরোক্ষভাবে কুরআনকে বোঝানো হয়েছে বলে মনে করেন কোনো কোন শিক্ষক। এদিকে অন্ধ করে, বন্ধ করে এরকম বইয়ের কথা বললে কোন বইয়ের কথা মনে ভেসে ওঠে- জিজ্ঞেস করলে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা শিক্ষিকা জোবায়দা রহমান বলেন, সামাজিক কুসংস্কারমূলক বই, আরোপিত, চাপিয়ে দেয়া বই, প্রচলিত মোল্লা-মৌলভীদের লেখা বিধিনিষেধ আরোপিত বইয়ের কথাই লেখক বুঝিয়েছেন বলে আমার কাছে মনে হয়। ‘বই’ কবিতার উপরি উক্ত ছয় লাইনে পরোক্ষভাবে কুরআনকে বোঝানো হয়েছে বলে আপনি মনে করেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মনে করি না এখানে কুরআনকে বোঝানো হয়েছে। অন্য বই যার নাম আমি আগে বলেছি সেসব বোঝানো হয়েছে বলে আমার মনে হয়। তথ্যসূত্র: নিউজটোয়েন্টিফোর.কম
১
১ মন্তব্য