Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০৬:২০ পূর্বাহ্ণ

‘অনাহারীর মুখে এক মুঠো খাবার তুলে দেওয়া, আমার কাছে একটি মসজিদ নির্মাণের চেয়েও উত্তম কাজ

‘অনাহারীর মুখে এক মুঠো খাবার তুলে দেওয়া, আমার কাছে একটি মসজিদ নির্মাণের চেয়েও উত্তম কাজ।’

—ইমাম আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক (রাহ.)

[তাম্বিহুল মুগতাররিন, পৃষ্ঠা: ২৬৭]

.

আমরা অনেক সময় সৃষ্টির সেবামূলক নেক কাজগুলোকে তুচ্ছ মনে করি। অথচ সহিহ হাদিসে এগুলোর এত ফজিলত আর মর্যাদা বর্ণনা করা হয়েছে, যা পড়লে চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। যেমন: সর্বশ্রেষ্ঠ নেক কাজগুলোর অন্যতম একটি হলো, মানুষের মাঝে বিবাদ মীমাংসা করে দেওয়া। যেমন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘আমি কি তোমাদেরকে মর্যাদার দিক থেকে (নফল) নামাজ, (নফল) রোজা ও সাদাকাহর চেয়েও উত্তম কাজের খবর দেবো না?’’ সাহাবিগণ বলেন, ‘অবশ্যই (বলুন)।’ তিনি বললেন, ‘‘পরস্পরের মাঝে (ঝগড়া-বিবাদ ও মনোমালিন্য) মীমাংসা করে দেওয়া।’’ [তিরমিযি, আস-সুনান: ২৫০৯; হাদিসটি সহিহ]

.

একইভাবে, মানুষের বিপদে সাহায্য করা, মানুষকে উপকারী জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া, রোগী দেখতে যাওয়া, জানাযা ও কাফন-দাফনে শরিক হওয়া, অভাবি ব্যক্তিকে কর্জে হাসানাহ্ দেওয়া ইত্যাদি আমলগুলোও বিশাল ফজিলতের।

.

অধিকাংশ আলিমের মতে, কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, নফল রোজা ইত্যাদি নেক আমলগুলোর চেয়ে উপরে বর্ণিত সৃষ্টির সেবাকেন্দ্রিক নেক আমলগুলো শ্রেষ্ঠতর। তবে, আলেমদের একটি অংশ এর বিপরীত মত দিয়েছেন। [ইবনুল কায়্যিম, মাদারিজুস সালিকিন: ১/৮৫-৮৭]

.

সৃষ্টির সেবার গুরুত্ব প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস জেনে নিই। এটি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে।

.

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘

আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামাতের দিনে বলবেন, ‘‘হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ হয়েছিলাম, তুমি আমার সেবা-শুশ্রূষা করোনি।’’ সে বলবে, ‘হে প্রভু! আমি কী করে তোমার সেবা-শুশ্রূষা করবো, অথচ তুমি জগৎসমূহের প্রভু!’ আল্লাহ বলবেন, ‘‘তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিলো? তুমি তো তার সেবা করোনি। তুমি কি জানতে না যে, তুমি তার সেবা-শুশ্রূষা করলে, তার কাছেই আমাকে পেতে!? হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম, তুমি আমাকে খেতে দাওনি।’’ সে (বান্দা) বলবে, ‘হে প্রভু! আমি কী করে তোমাকে আহার করাতে পারি? অথচ তুমি জগৎসমূহের প্রভু!’ তিনি (আল্লাহ) বলবেন, ‘‘তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলো? তুমি তো তাকে খেতে দাওনি। তুমি কি জানতে না যে, তাকে যদি তুমি আহার করাতে, তাহলে তা অবশ্যই আমার কাছে তা পেতে!? হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে পানীয় চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে পানি পান করাওনি।’’ সে (বান্দা) বলবে, ‘হে প্রভু! আমি কী করে তোমাকে পান করাবো, অথচ তুমি জগৎসমূহের প্রভু!’ তিনি (আল্লাহ) বলবেন, ‘‘আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে পানীয় চেয়েছিলো, তুমি তাকে পান করাওনি। যদি তুমি তাকে পান করাতে, তবে তা আমার কাছে পেয়ে যেতে।’’ [মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৪৫০; নাসায়ি, আস-সুনান: ১৪৯৬]

মন্তব্য করুন