সহকারী শিক্ষক
২৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০৯:৪৯ অপরাহ্ণ
হিমঝুরি সুউচ্চ চিরসবুজ ফুলের বৃক্ষ।
হিমঝুরি সুউচ্চ চিরসবুজ ফুলের বৃক্ষ।
হেমন্তের দুর্লভ ফুল হিমঝুরি। সরু নলাকার ফুলগুলো মিষ্টি সৌরভের জন্য ফুল প্রেমিদের কাছে বেশ সমাদৃত। হিন্দিতে এটি আকাশনিম বা আকাশমল্লি নামে সর্বাধিক পরিচিত। কোন কোন অঞ্চলে গিরিমল্লিকা ও সীতাহার নামেও পরিচিত।
এই গাছের ডালপালা ছড়ানো ছিটানো, আগা নিচের দিকে নুয়ে থাকে। ডালের মাথায় অসংখ্য মঞ্জরিতে ফুল ফোটে রাতে, ভোরের আগেই ঝরে পড়ে, ফুলগুলো সাদা ও নলাকার নলমুখে বসানো থাকে পাঁচটি খুদে পাপড়ির একটি তারা। ফাঁকে ফাঁকে আছে পাঁচটি পরাগধানী, যেন সযত্নে বসানো রত্নপাথর, সাদা গর্ভকেশরযুক্ত। কলি অবস্থায় ফুলটি সাদা পুঁতির মতো দেখায়। প্রায় চার ইঞ্চি লম্বা নলের মাথায় পাঁচ পাপড়ি ছড়িয়ে থাকে। ফুলের ব্যাস এক ইঞ্চির মতো। এর সুগন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সকালে গাছতলায় ঝরে পড়ে ফুলগুলো। তখন গাছের নিচটা সাদা কার্পেটের মতো দেখায় সে অন্য রকম সৌন্দর্যের জন্ম দেয়।
নলাকার সাদা ফুলের মাথায় পাঁচটি ছোট পাপড়ির একেকটি ফুল শুভ্র পাপড়ির মতো। আর নিচের দিকের ফুলগুলো ঝুলে থাকে। ফুল সরু, লম্বা। এর বীজ হালকা ও পাখাযুক্ত বলে বায়ুর মাধ্যমে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। ইংরেজি নাম 'ইন্ডিয়ান কর্ক ট্রি'।
আগে হিমঝুরি গাছের মোটা বাকল থেকে বোতলের ছিপি বানানো হতো বলেই সম্ভবত কর্কগাছ নামকরণ করা হয়। মাধুর্যে, কমনীয়তায় অপূর্ব হওয়া সত্ত্বেও গাছটি বাংলাদেশে বেশ দুষ্প্রাপ্য। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের স্থানীয় গাছ যার আদি নিবাস মিয়ানমার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান গ্রন্থাগারের সামনে, শিশু একাডেমির বাগানে এবং বলধা গার্ডেন সংলগ্ন খ্রিষ্টান কবরস্থানে বেশ কয়েকটি গাছ রয়েছে। হিমের দিনে সাদা হিমের মতোই যেন ফুলগুলো ঝরে পড়ে। সৌন্দর্যমুগ্ধ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ডেকেছেন হিমঝুরি নামে। হিমঝুরি রাতে ফোটে এবং গন্ধ বিলায়। হিমঝুরির কাঠ নরম, হালকা, হলুদ, মসৃণ যা আসবাব ও সজ্জা কাজের উপযোগী। ইন্দোনেশিয়ায় বাকলের তেতো রস থেকে জ্বরের ওষুধ বানানো হয়।
১৭
২৭ মন্তব্য