Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৭ নভেম্বর, ২০২৪ ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ

??মানুষ নামের ফানুশ??

মানুষ নামের ফানুশ

মানুষ। এক অদ্ভুত নাম, যার পেছনে জড়িয়ে আছে সৃষ্টির ইতিহাস, কল্পনার বিস্তার, এবং বাস্তবতার নির্মমতা। এই ছোট্ট শব্দের অর্থ বহুবিধ, কখনো ন্যায়-অন্যায়ের মাপকাঠি, কখনো সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীবের প্রতীক। কিন্তু যখন এ নামের সঙ্গে যুক্ত হয় "ফানুশ" শব্দটি, তখন এর অর্থ যেন নতুন এক মাত্রা পায়।

ফানুশ, একটি উড়ন্ত আলো। অন্ধকারে, শূন্য আকাশে তা নিজের অস্তিত্ব জানান দেয়। কিন্তু ফানুশের সৌন্দর্য যতটা মোহময়, তার ভিত্তি ততটাই ক্ষণস্থায়ী। মানুষের জীবনও তো ঠিক তেমনই। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ এক ফানুশের মতো জ্বলতে থাকে, আলো ছড়ায়, আবার একসময় মিলিয়ে যায় অসীম শূন্যতায়।

মানুষের জীবনের ফানুশত্ব

জন্মের সময় প্রতিটি মানুষ এক খোলা ফানুশ। শূন্য আকাশে এক সাদাসিধে আলোর প্রতিশ্রুতি। কেউ হয়ত অল্প আলো ছড়ায়, কেউ হয়ত অসীম আকাশ আলোকিত করে। তবে এই আলো ছড়ানোর পথে থাকে বহু বাঁধা। বায়ুরোধক তেল যখন ফুরিয়ে আসে, ফানুশ নিভে যায়। তেমনই, মানুষের জীবনও সময়ের আবর্তে ক্লান্ত হয়, থেমে যায়।

ফানুশের আলো ও মানুষের সৃষ্টিশীলতা

একটি ফানুশ যতক্ষণ জ্বলে, তা সৌন্দর্য ও উষ্ণতা ছড়ায়। মানুষের জীবনও তাই। কেউ হয়ত গান দিয়ে পৃথিবীকে আলোকিত করে, কেউ চিত্রশিল্প দিয়ে, কেউ বা তাদের জ্ঞানের আলো দিয়ে। আমরা প্রত্যেকেই একেকটি ভিন্ন রঙের ফানুশ। আমাদের জীবনের কাজই হলো এই রঙ ও আলো ছড়িয়ে দেওয়া। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, ফানুশের মতো আমরাও কি একসময় বিস্মৃত হয়ে যাই?

বাস্তবতা ও ফানুশের পরিণতি

ফানুশের একটি নির্মম দিক হলো তার ক্ষণস্থায়িত্ব। আমরা যতই সুন্দর আলো ছড়াই, সময়ের সঙ্গে তা নিভে আসে। বাস্তবতা আমাদের শিখিয়ে দেয়, এই অস্থায়ীতা মেনে নিয়েই আমাদের বেঁচে থাকতে হয়। কিন্তু এই অস্থায়িত্বই হয়তো জীবনের সৌন্দর্য। এক ফানুশ যখন নিভে যায়, তার জায়গা নিতে আসে আরেকটি নতুন ফানুশ।

মানুষের এই ফানুশত্ব আমাদের শেখায় দুটি বিষয়। প্রথমত, আমাদের কাজই হলো আলো ছড়ানো, যতক্ষণ সম্ভব। দ্বিতীয়ত, আমাদের উচিত এ ক্ষণস্থায়ী জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে রঙিন করে তোলা।

শেষে এসে একটাই কথা বলতে হয়—
জীবন এক ফানুশ,
অন্ধকারে আলোর রঙ।
ক্ষণস্থায়ী, তবু অপরূপ,
তার গল্পেই বেঁচে থাকা।

মন্তব্য করুন

ব্লগ