Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৭ নভেম্বর, ২০২৪ ১২:২৫ অপরাহ্ণ

টনসিল বা টনসিলাইটিস খুবই পরিচিত সমস্যা, বিশেষ করে শিশু–কিশোরদের। এটি সাধারণত ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে হয়। প্রতি চার স্কুলশিশুর একজনের এ সমস্যা হতে দেখা যায়।

 এ সমস্যায় ওষুধ না অস্ত্রোপচার, এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন অভিভাবকেরা। কোনো কোনো শিশু সারা বছর টনসিলের প্রদাহে বারবার ভোগে, স্কুল কামাই হয়। এর স্থায়ী সমাধান আছে কি? আসুন, জেনে নিই এর চিকিৎসাপদ্ধতি ও জটিলতা সম্পর্কে।চিকিৎসা

ওষুধ ও নানা ধরনের ঘরোয়া পদ্ধতিতে টনসিলাইটিসের চিকিৎসা করা হয়। অস্ত্রোপচারও একটি পদ্ধতি।

  • ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের জন্য ব্যবহৃত হয় অ্যান্টিবায়োটিক। ব্যথা কমাতে ব্যথানাশক ওষুধ বা প্যারাসিটামল দিতে হয়।

  • কুসুম গরম পানিতে লবণ দিয়ে গড়গড়া করতে হবে প্রতিবার খাওয়ার পর।

  • সমস্যা দেখা দিলে স্কুলে না গিয়ে বিশ্রাম নিতে হবে এবং পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। এতে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়বে।

  • গুরুতর বা বারবার টনসিলাইটিসের ক্ষেত্রে টনসিল অপারেশনের (টনসিলেক্টমি) প্রয়োজন হতে পারে।কখন অস্ত্রোপচার

    • বারবার টনসিলে প্রদাহ।

    • বছরে পাঁচবারের বেশি প্রদাহ।

    • দীর্ঘস্থায়ী স্লিপ অ্যাপনিয়া বা নাক ডাকার সমস্যা।

    • টনসিল বড় হয়ে শ্বাসনালি ব্লক ও শ্বাস নিতে কষ্ট হলে।

    • টনসিল দেখতে টিউমারের মতো বড় হলে।

    অস্ত্রোপচারের পদ্ধতি

    • টনসিলেক্টমি: সম্পূর্ণ টনসিল অপসারণ।

    • এক্সট্রাক্যাপসুলার টনসিলেক্টমি: টনসিলকে একটি একক ইউনিট হিসেবে সরানো।

    • কোল্ড ডিসেকশন: একটি তীক্ষ্ণ ব্যবচ্ছেদকৌশল, যা গোল্ড স্যান্ডার্ড হিসেবে বিবেচিত।

    • আল্ট্রাসনিক বা হারমনিক ডিসেকসন: একটি স্ক্যাপেল ব্লেডে একই সময় টিস্যু কাটা ও জমাট বাঁধতে উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সিতে কম্পন করা।

    • বাইপোলার রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন: আণবিক বন্ধন ব্যাহত করার জন্য একটি আয়নযুক্ত লবণাক্ত স্তর তৈরি করা।

    • এন্ডোস্কোপিক মাইক্রোডিব্রাইডার: টনসিল অপসারণের আরেকটি পদ্ধতি।

    • ইউভুলো–প্যালাটোফ্যারিঙ্গোপ্লাস্টি: স্লিপ অ্যাপনিয়া ও নাক ডাকার চিকিৎসায় মুখ ও গলার পেছনের অতিরিক্ত টিস্যু অপসারণ।

    টনসিলে প্রদাহের জটিলতা

    • বারবার অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে কোনো অ্যানাফাইল্যাকটিক প্রতিক্রিয়া বা অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি অ্যালার্জি।

    • অ্যাবসেস বা টনসিলের চারপাশে পুঁজ জমা।

    • অস্ত্রোপচারের পর বা সংক্রমণের কারণে রক্তপাত।

    • গলায় দীর্ঘমেয়াদি জ্বালা।

    • অস্ত্রোপচারের পর ইউভুলার (তালুর পেছনের অংশ) ফুলে যাওয়া।

    • রিউমেটিক ফিভার।

    • কিডনিতে সমস্যা।

    • হৃৎ‌পিণ্ডে জটিলতা।

    মনে রাখতে হবে, চিকিৎসা সময়মতো না করলে বা জটিলতা বাড়লে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। যদি টনসিলের সমস্যা বারবার হয়, নাক–কান–গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মন্তব্য করুন