Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৭ নভেম্বর, ২০২৪ ১১:২৩ অপরাহ্ণ

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে জেনে নিন কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য

ব্যক্তি করদাতাদের রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এক মাস বাড়ানো হয়েছে। জরিমানা ছাড়া ৩০ নভেম্বরের  মধ্যে রিটার্ন দাখিইইল করার সর্বশেষ তারিখ নির্ধারিত থাকলেও  রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সময় বাড়িয়েছে। অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৩ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত  সময়ের আয়ের জন্য করদাতারা জরিমানা ছাড়াই এবছরের শেষ দিন পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। তবে চলতি কর বছরের আগে যারা টিআইএন( কর শনাক্তকরণ নাম্বার) নিয়েছেন কিন্তু কোন কারনে একবারও রিটার্ন দেননি, তারা আগামী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে জরিমানা ছাড়া রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।


পুরনো আইনে করদাতার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপ-কর কমিশনার দুই মাস এবং যুগ্ন-কর কমিশনার ২ মাস, অর্থাৎ রিটার্ন জমা দিতে মোট চার মাস সময় বাঁড়াতে পারতেন। নতুন আইনে  সে সময় পাওয়া যাবে না। কিন্তুআয়কর রিটার্ন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে জমা দেওয়া যাবে। কিন্তু গুনতে হবে দুই শতাংশ হারে মাসিক জরিমানা কর।পাশাপাশি কর অবকাশ,হ্রাসকৃত কর হার, কর রিবেট, কর অব্যাহাতি কোন কিছুই পাওয়া যাবে না। ফলে কর দিবসের পর আয়কর রিটার্ন দিলে কয়েক গুণ বেশি আয়কর দিতে হবে। 


আয়করের বর্তমান হার 


প্রথম ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর শূন্য, পরবর্তী ১ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয় এর উপর ৫ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আই এর উপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ২০ শতাংশ অবশিষ্ট মোট আয়ের ২৫ শতাংশ। 


আয়কর বিষয়ে কয়েকটি টিপস :

১. গত বছরের রিটার্নের কতকপি সঙ্গে রাখুন। 


২.প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের একটি তালিকা তৈরি করুন। 


৩. কাগজগুলো পরীক্ষা করে দেখুন সেগুলো নির্দিষ্ট সময়ের কি না।যেমন  ২০২৪-২৫ কর বছরের জন্য সব নথি জুলাই ২০২৩ থেকে আজ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হতে হবে। 


৪৷ রিটার্নের একটি ফটোকপি করুন এবং গত বছরের রিটার্টানের ভিত্তিতে খসড়া রিটার্ন তৈরি করুন ।


৫. প্রতিটি কাগজের দুটি করে কপি করুন। 


৬. স্বাক্ষর করার আগে কমপক্ষে দুবার পরীক্ষা করুন। 


৭. যারা নিজে রিটার্ন পূরণ না করে অন্যের উপর নির্ভর করেন,  তারা প্রশিক্ষিত ও দায়িত্বশীল ব্যক্তির পরামর্শ ছাড়া খালি বা সাধারণ স্বাক্ষর করবেন না। 


৮.  করার আগে কত বছরের সম্পদের বিষয়গুলো ভালো করে পরীক্ষা করুন এবং চলতি বছরের নতুন কোন সম্পদ থাকলে তা ঠিকমত উল্লেখ করা হয়েছে কিনা, তাও ভালোভাবে পরীক্ষা করুন।


৯.মনে রাখবেন আয়নার সামনে দাঁড়ালে আপনার চেহারা যেমন দেখা যাবে রিটারনে আপনার সম্পদের আয় এবং সম্পূর্ণ চিত্র ফুটে উঠবে। 


১০. স্বাক্ষর পড়ার করার পর একটি সেট আপনার ট্যাক্স পাইলে সংরক্ষণ করুন। 


১১. রিটার্ন জমা হওয়ার পর রিটার্ন জামার স্লিপ সংগ্রহ করুন।



লেখক : মো: জাহাঙ্গীর আলম,,, আয়কর আইনজীবী ওস্বাক্ষর  নির্বাহী পরিচালক গোল্ডেন বাংলাদেশ 

মন্তব্য করুন