Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৯:৪০ পূর্বাহ্ণ

ঘসেটি বেগম যে কারণে ষড়যন্ত্রে অংশ নেন

ঘসেটি যে কারণে ষড়যন্ত্রে অংশ নেন

নবাব আলীবর্দী খানের কোন ছেলে ছিল না।

তিনি ছোট মেয়ে আমিনা বেগমের বড় ছেলে সিরাজউদ্দৌলাকে তাঁর উত্তরাধিকারী মনোনীত করেছিলেন।

এতে ঘসেটি বেগম অসন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন তার পালকপুত্র, সিরাজউদ্দৌলার আপন ভাই ইকরামউদ্দৌলাকে ওই স্থানে দেখতে।

কিন্তু ইকরামউদ্দৌলা অল্প বয়সে গুটিবসন্তে মারা যান।

এরপর তিনি তার মেজ বোনের ছেলে শওকত জংকে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন।

কিন্তু নবাব আলীবর্দী খান সেটিও পছন্দ করেননি।

এসব কারণে ঘসেটি বেগম সিরাজউদ্দৌলাকে পছন্দ করতেন না, সিরাজউদ্দৌলাও তাকে পছন্দ করতেন না।

পিতার উত্তরাধিকারী নির্বাচনে তার মতামত গুরুত্ব পায়নি ঠিকই, কিন্তু বড় মেয়ে হিসেবে নবাব আলীবর্দী খানের কাছে তিনি গুরুত্ব পেতেন এবং রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতেন।

তার সুপারিশে কেউ পদ হারিয়েছে, আবার কেউ ক্ষমতার কেন্দ্রে এসেছেন।

বাংলাপিডিয়া বলছে, নিজের প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি বিপুল বিত্তের মালিক হয়েছিলেন।

এছাড়া ১৭৫৫ সালে স্বামীর মৃত্যুর পরেও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রচুর অর্থের মালিক হয়েছিলেন তিনি।

তার স্বামী নওয়াজিস মুহাম্মদ শাহমাত জং ঢাকার নায়েবে নাজিম ছিলেন, কিন্তু মূলত ঢাকা পরিচালনা করতেন ঘসেটি বেগম।

ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন তার 'ঢাকা স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী' বইয়ে লিখেছেন, "ঢাকার শাসনভার প্রকৃতপক্ষে ছিল ঘসেটি বেগম ও তাঁর বিশ্বস্ত দেওয়ান, অনেকের মতে প্রণয়ী, হোসেন কুলি খানের হাতে। কারণ নওয়াজিস ছিলেন দুর্বল প্রকৃতির লোক।"

এদিকে নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পর নবাব হয়ে সিরাজউদ্দৌলা ঘসেটি বেগমকে অন্তরীণ করেছিলেন।

সেসময় সিরাজউদ্দৌলা ঢাকার আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়েছিলেন, কিন্তু রাজভাণ্ডার বা অর্থনৈতিক দায়িত্বে থাকা রাজবল্লভ সঠিক হিসাব দিতে ব্যর্থ হন।

রাজবল্লভ রাজকোষ থেকে প্রচুর অর্থ আত্মস্যাৎ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তার ছেলে কৃষ্ণবল্লভ সিরাজউদ্দৌলার কাছ থেকে বাঁচতে কলকাতায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ফোর্ট উইলিয়ামে আশ্রয় নেন।

কৃষ্ণবল্লভকে ফেরৎ চেয়ে কলকাতায় ইংরেজ গভর্নরের কাছে চিঠি লেখেন সিরাজউদ্দৌলা।

পলাশীর যুদ্ধের সেটিও একটি কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় যে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কৃষ্ণবল্লভকে ফেরত দিতে রাজি হয়নি।

এদিকে, সিরাজউদ্দৌলার সেনাপতি মীর জাফর ছিলেন নবাব আলীবর্দী খানের সেনাপতি।

তরুণ নবাবের সঙ্গে ব্যক্তিত্বের সংঘাতের ফলেই একসময় সিরাজউদ্দৌলাকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে নামেন তিনি।

তখন তার সঙ্গে যোগ দেন ঘসেটি বেগম।

ষড়যন্ত্রে আরো যুক্ত হয় ব্যবসায়ী জগৎ শেঠ এবং উমিচাঁদ। সবার অভিন্ন উদ্দেশ্য ছিল নবাবকে উৎখাত করা।

বাংলাপিডিয়া বলছে, সিরাজউদ্দৌলাকে উৎখাতের পরিকল্পনায় ঘসেটি বেগম প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছিলেন।

অবশেষে ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী প্রান্তরে ইংরেজ বাহিনীর কাছে হেরে যান নবাব সিরাজউদ্দৌলা।

সংগৃহীত 


মন্তব্য করুন

ব্লগ