Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ

কবি গোলাম মোস্তফা বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
কবি গোলাম মোস্তফা ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে (বাংলা ১৩০২, ৭ পৌষ, রবিবার) জিনাইদহের শৈলকুপার মনোহরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। অনেকে তার জন্ম সাল ১৮৯৭ (সার্টিফিকেট অনুযায়ী) বলে উল্লেখ করলেও তার প্রকৃত জন্মসাল ১৮৯৫। এ সম্পর্কে ‘আমার জীবন স্মৃতি’তে গোলাম মোস্তফা নিজেই উল্লেখ করেছেন ‘আমার জন্ম পল্লী হলো ঝিনাইদহ্ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) শৈলকুপা থানার অন্তর্গত মনোহরপুর গ্রামে। আমার ম্যাট্রিকুলেশন সার্টিফিকেটের বর্ণনানুসারে দেখা যায় ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে আমার জন্ম। কিন্তু আমার মনে আছে শৈলকুপা হাইস্কুলে ভর্তি হওয়ার সময় আমার আব্বা আমার বয়স প্রায় বছর দুই কমিয়ে দিয়েছিলেন। কাজেই প্রকৃত জন্ম হয়েছিল সম্ভবত ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে। তবে এটি ঠিক যে, যেদিন আমার জন্ম হয় সেদিন বাংলা তারিখ ছিল ৭ পৌষ রবিবার।’

তিনি ছিলেন একাধারে কবি, গীতিকার, সুরকার, গায়ক, প্রাবন্ধিক, উপন্যাসিক, শিশুতোষ-রচয়িতা, অনুবাদক, পাঠ্যপুস্তক-রচয়িতা, শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, সমাজসেবক ইত্যাদি বহুমুখী প্রতিভা ও গুণের অধিকারী। রবীন্দ্র-যুগে রবিকরোজ্জ্বলে সমুদ্ভাসিত বাংলা সাহিত্যাকাশে তিনি ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার সমসাময়িক কবি কাজী নজরুল ইসলামের (১৮৯৯-১৯৭৪) প্রতিভার খর-রৌদ্রতাপে বাংলা সাহিত্য যখন দীপ্ত-সমুজ্জ্বল, গোলাম মোস্তফা সে সময়কার অন্যতম বিশিষ্ট কবি হিসেবে সমাদৃত। রবীন্দ্র-যুগের (১৮৬১-১৯৪১) কবি গোলাম মোস্তফা যেমন রবীন্দ্র প্রভাব-বলয় থেকে মুক্ত ছিলেন না, পরবর্তীতে তার সমসাময়িক যুগ-শ্রেষ্ঠ  কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রভাবকেও তেমনি অস্বীকার করতে পারেননি। উভয় কবির প্রভাব সত্ত্বেও গোলাম মোস্তফা স্বকীয় বিনম্র ধারা নির্মাণে তৎপর ছিলেন। এখানেই তার যথার্থ সার্থকতা।

গোলাম মোস্তফার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন পিতার হাতে। পরবর্তীতে দামুকদিয়া ও ফাজিলপুর গ্রামের পাঠশালায় লেখাপড়া করেন। এরপর শৈলকুপা হাইস্কুল থেকে ১৯১৪ সালে কৃতিত্বের সাথে ম্যাট্রিক, ১৯১৬ সালে খুলনা দৌলতপুর কলেজ থেকে আইএ ও ১৯১৮ সালে কলকাতার রিপন কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। এরপর তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। শিক্ষক হিসেবে কবি ১৯২২ সালে কলকাতা ডেভিড হেয়ার কলেজ থেকে বিটি পাস করেন। শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত হয়ে তিনি ব্যারাকপুর সরকারি হাইস্কুল, কলকাতা হেয়ার স্কুল, কলকাতা মাদরাসা, বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট ডিমনস্ট্রেশন হাইস্কুল, হুগলি কলেজিয়েট হাইস্কুল, বাঁকুরা জেলা স্কুল এবং সর্বশেষে ফরিদপুর জেলা স্কুলে ১৯৪৬-১৯৫০ সাল পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পর অবসর গ্রহণ করেন। এরপর তিনি ঢাকায় শান্তিনগরে বাড়ি করে সেখানেই বাকি জীবন অতিবাহিত করেন। এ সময় তার বাড়ি ‘মোস্তফা মঞ্জিল’ সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়। ১৯৬৪ সালের ১৩ অক্টোবর তিনি ৬৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করে। 
সংগৃহীত 
মন্তব্য করুন

ব্লগ