সহকারী শিক্ষক
০৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১১:০১ অপরাহ্ণ
চলে গেলেন অধ্যাপক আবু জাফর
চলে গেলেন
অধ্যাপক আবু জাফর
গীতিকার, কবি ও সংগীত শিল্পী
১৫ মে ১৯৪৩ ~৬ ডিসেম্বর ২০২৪
'এই পদ্মা এই মেঘনা' গানের গীতিকার আবু জাফর আর নেই।
বাংলা আধুনিক গানের সঙ্গীতের আকাশে তাঁর আগমনটা ছিল অনেকটা ধুমকেতুর মতো। অসম্ভব সৃজনশীল এই শিল্পী অসাধারণ সব সঙ্গীত সৃষ্টি করেছেন। দেশজ লোকধারার সাথে আধুনিক সুর ও দর্দান্ত সব শিল্পীত ভাবনার সম্মিলন তাঁর প্রতিটি সঙ্গীত গুলোতে।
তোমরা ভুলেই গেছ মল্লিকাদির নাম, এই পদ্মা এই মেঘনা এই যমুনা সুরমা নদী তটে/আমার রাখাল মন গান গেয়ে যায়/কত আনন্দ বেদনায় মিলন ও বিরহ সংকটে - এমনি অসংখ্য জনপ্রিয় গানের গীতিকার ও সুরকার অধ্যাপক আবু জাফর। বেশকিছু গানে কন্ঠও দিয়েছেন তিনি।
জন্ম ১৫ মে ১৯৪৩ সালে লালনের পূণ্যভুমি কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
স্ত্রী বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী ফরিদা পারভীন। যদিও আদর্শিক কারণে সে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে চিরকালের জন্য।
ফরিদা পারভীন পরবর্তীতে অন্যত্র ঘর বেঁধেছেন। বিশিষ্ট বাঁশি শিল্পী গাজী আবদুল হাকিম তাঁর দ্বিতীয় স্বামী। আবু জাফর একাধারে একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, গীতিকার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।
তিনি সর্বশেষ কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। ২০০০ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি রাজশাহী ও ঢাকা বেতার এবং টেলিভিশনের নিয়মিত সঙ্গীতশিল্পী এবং গীতিকার ছিলেন। একসময় তাঁর রচিত দেশত্ববোধক ও আধুনিক গান বিভিন্ন মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলি - নতুন রাত্রি পুরনো দিন (কাব্য), বাজারে দূর্ণাম তবু তুমিই সর্বস্ব (কাব্য), বিপ্লবোত্তর সোভিয়েত কবিতা (অনুবাদ কাব্য), আমি অন্ধকার থেকে বলছি প্রভৃতি।
বর্তমানে তিনি সুরের জগত, সঙ্গীতের জগত, সংস্কৃতির জগত ছেড়ে পারলৌকিক চিন্তায় নিমগ্ন। ভোগবাদি সংস্কৃতি ও মায়ার বাঁধন তাঁকে আটকাতে ব্যর্থ হয়। নারী ও প্রকৃতি বন্দনা ছেড়ে স্রষ্টার গুণগানে বিভোর তিনি। বদলে গেছে জীবন, বদলে গেছে চরিত্র, বদলে গেছে চিন্তাচেতনা, বদলে গেছে কর্মকান্ড, বদলে গেছে তাঁর কর্মক্ষেত্র।
জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে পড়ন্ত বেলায় বিভোর আছেন মৃত্যু পরবর্তী অনাগত দিনের ভাবনায়। যাপিত জীবনও সেভাবেই সুরভিত একদার এই বিশিষ্ট গীতিকারের।
অধ্যাপক আবু জাফর বাংলাদেশের সঙ্গীতে একসময় বিশেষ মনোযোগের পাত্র ছিলেন। কিন্তু সেই মায়াবী কুহক থেকে এখন তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত।।
৩
৩ মন্তব্য