Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৬:৩৪ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১ম হানাদার মুক্ত হয় মিরসরাই ০৮/১২/১৯৭১

চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১ম হানাদার মুক্ত হয় মিরসরাই 


উপজেলা ভিত্তিক দেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা ছিল মিরসরাইতে,মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে একের পর এক   ভয়ংকর অভিযান পরিচালনা করে হানাদার বাহিনীদের মাঝে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন রণাঙ্গনের অকুতোভয় যোদ্ধা তৎকালীন এমপিএ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। দুঃসাহসিক অভিযানে শুভপুর ব্রীজ, অচিমিয়ার ব্রীজ উড়িয়ে পাক বাহিনীকে তটস্থ রেখেছিলেন তিনি সহ সহযোদ্ধারা।  সে সুবাদে ডিসেম্বরের দিকে মিরসরাই হানাদার মুক্ত হতে শুরু করে। কিছু সংখ্যক পাক হানাদার অবশিষ্ট ছিল মিরসরাই সদরে।  

৮ ই ডিসেম্বর পাকসেনারা মিরসরাইয়ের ওয়্যারলেস ভবন ধবংস করে থানায় অবস্থান নিচ্ছে খবর পেয়ে চারিদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত হয়ে হানদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে। টিকতে না পেরে হানাদার বাহিনী চট্টগ্রাম শহরে দিকে চলে যায়। 

চারদিক থেকে জয়বাংলা শ্লোগান নিয়ে মুক্তকামী জনতার  জোয়ার মিরসরাই উচ্চবিদ্যালয় মাঠে মিলিত হয়। 

মৌলভী শেখ আহাম্মদ নামের এক আলেম কোরআন তেলাওয়াত করেন। পরে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে ছাত্রনেতা ও মুক্তিযোদ্ধারা মিরসরাই উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পতাকা উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন যুদ্ধকালীন চট্টগ্রাম এক নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, বিএলএফ কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম জাফর উদ্দীন আহাম্মদ চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এএফএম নিজাম উদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নিজাম উদ্দীন (শিক্ষক মলিয়াইশ উচ্চবিদ্যালয়), বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবু তাহের (সাবেক চেয়ারম্যান মিঠানালা ইউনিয়ন) ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সফি উল্যা প্রকাশ গেরিলা শফিসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা জনতা। 

জয়বাংলা শ্লোগানে মুখরিত করে তখন আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ ই ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত ঘোষণা করা হয়। চট্টগ্রাম অঞ্চলে মিরসরাই সর্বপ্রথম শত্রুমুক্ত হয়।

মন্তব্য করুন